somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের সংবাদপত্র, জরুরি অবস্থা ও যায়যায়দিন

১৪ ই মে, ২০০৮ রাত ৯:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আইজ যায়যায়দিন পত্রিকায় প্রতিচিত্র সম্পাদক বরুন শঙ্কর বাংলাদেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়া একখান লেখা নাজিল করছেন। সরকারের দালালি করতে গিয়া আসল কথাডা লেখায় বাইর হইয়া গেছে । এই লোক যায়যাযদিনের ব্যবস্থাপনা সম্পাদকের পদ দখল নিছেন।



সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, জরুরি অবস্থা ও ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা

বরুন শঙ্কর
দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এবং ডেইলি নিউএজের সম্পাদক নুরুল কবিরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে গত ১০, ১১ ও ১২ মে ২০০৮ জাতীয় প্রেস কাবে জাতীয় দৈনিকগুলোর সম্পাদকদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জরুরি অবস্থা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও ডিজিএফআইয়ের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। তাদের মতে, বর্তমানে সাংবাদিকরা ভয়-ভীতির মধ্যে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নাম উল্লেখ করে তারা সরাসরি আঙুল তোলেন ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা নিয়ে। ডিজিএফআই নাকি বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে তাদের সঠিক দায়িত্ব পালনে বাধা দিচ্ছে। প্রবীণ সম্পাদক আতাউস সামাদ স্পষ্ট জানান, নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবিরকে সরিয়ে সেখানে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে সম্পাদক বানানোর জন্য মালিকপকে চাপ দিচ্ছে ডিজিএফআই। সভায় উপস্থিত আরেক সম্পাদক জানালেন, ১১ তারিখের সভায় উপস্থিত ইলেকট্রনিক মিডিয়ার দুজন পরিচালককে ১২ তারিখের সভায় যোগ না দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। ওই দুই ব্যক্তি ১২ তারিখের মুলতবি সভায় উপস্থিত হননি। ১১ তারিখের সভায় উপস্থিত সম্পাদকদের মধ্যে ডেইলি স্টার-এর মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো-এর মতিউর রহমান, ইত্তেফাক-এর রাহাত খান ১২ তারিখের সভায় যোগ দেননি। ১২ তারিখের মুলতবি সভায় আতাউস সামাদ নিউএজ-এর কথা উল্লেখ করেই দৈনিক যায়যায়দিন সম্পর্কে মন্তব্য করেন। দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদকের পরিবর্তনও নাকি ডিজিএফআইয়ের নির্দেশে ঘটেছে। ডিজিএফআই কোন স্বার্থে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক পরিবর্তন করার জন্য চেষ্টা করছে এ প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এক বিরাট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তারা মিডিয়াকে ব্যবহার করতে চায়। তিনি বলেন, আশা করেছিলাম প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে জরুরি অবস্থা তুলে দেবেন। কিন্তু ভাষণ শুনে বোঝা গেল জরুরি অবস্থা তোলা হবে না এবং ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা রাজনীতিবিদদের প্রতি নির্দেশ দানের ভঙ্গিতে কথা বলেছেন। উপস্থিত সম্পাদকরা এ বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করেননি। সভায় গৃহীত প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে নুরুল কবির প্রস্তাব পড়ে শোনান। প্রস্তাবটি তিনি আগেই লিখে রেখেছিলেন। সরাসরি ডিজিএফআইয়ের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করা হয়। কিন্তু অন্যান্য সম্পাদক আপত্তি করায় প্রস্তাবটি বাতিল করে পুনর্লিখিত হয়। পুনর্লিখিত প্রস্তাবে সরাসরি ডিজিএফআইকে আক্রমণ করার বাক্যগুলো তুলে নেয়া হয় এবং একটি যুক্তিপূর্ণ প্রস্তাব লিখিত হয়। প্রস্তাবটি বিভিন্ন পত্রিকায় পাঠানো হয়। সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে আতাউস সামাদ জানান, ১১ জানুয়ারি ২০০৮ তারিখে প্রতিটি টিভি চ্যানেল ওই দিবস উপলে অনুষ্ঠান প্রচার করে। বিশেষ করে এনটিভিতে যে আলোচনা হয় সবই নাকি ডিজিএফআইয়ের প্রস্তাব এবং তাদেরই তদারকিতে পুরো অনুষ্ঠান নির্মাণ এবং প্রচারিত হয়। এনটিভিতে যা-ই ঘটুক না কেন, কোনো মন্তব্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকবো। কিন্তু নিউএজ এবং যায়যায়দিন সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দৈনিক যায়যায়দিন-এর সম্পাদক শফিক রেহমান পদত্যাগ করলে যায়যায়দিন-এর স্বত্বাধিকারী এইচআরসি গ্রুপের চেয়ারম্যান সাঈদ হোসেন চৌধুরী নিজের পছন্দে শহীদুল হক খানকে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক পদে নিয়োগ দেন। আতাউস সামাদ কোথা থেকে এসব তথ্য পেলেন তা আমরা জানি না। তবে তার মতো একজন সর্বমান্য বর্ষীয়ান সাংবাদিকের মুখ থেকে ডিজিএফআইকে দোষারোপ করে জরুরি অবস্থার সুযোগে সংবাদপত্র জগতের স্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে, এ কথা শুনে আমরা যতোটা না মর্মাহত তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্মিত হয়েছি। যে সময় প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের সময় ঘোষণা করলেন ঠিক তখনই দুজন সম্পাদকের ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্বচ্ছ পানিকে ঘোলা করার এ চেষ্টাটি কি শোভনীয়? আমরা আমাদের যার যার অবস্থান থেকে দেশের উন্নতি ও মঙ্গল চাই। ঘোলা পানির ফলাফল ২০০৬ সালে দেখেছি, ২০০৭ সালেও দেখেছি, ২০০৮ সালে দেখতে চাই না।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৮ রাত ৯:৪৬
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×