আমার বসের ছোট ছেলে- এখনও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরোয়নি। আজ বস তাকে একটা গাড়ি কিনে দিয়েছে। খেলনা গাড়ি। দেখলাম অফিসের সামনে খেলছে গাড়িটা নিয়ে। সেকি বাহারে গাড়ি বললে বিশ্বাস করবেন না। সম্পূর্ন ধাতব দেহ। রোদে রাখলে ঝিলিক মারে।
দুর নিয়ন্ত্রিত গাড়ি। হাত দিয়ে ঠেলা লাগে না। রিমোট কন্ট্রোল নামের বস্তুর বোতাম চাপলেই কি সুন্দর গাড়ি সামনে-পিছে, ডানে-বায়ে ঘোরো। মফস্বল শহরের নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়ায় এ আমার কাছে একদম নতুন অভিজ্ঞতা। এ গাড়ির আবার বার বার ব্যাটারি পালাটানো লাগেনা। ব্যাটারি একবার চার্জ করলেই অনেক দিন চলে। আমি না, আপনারও হঠাৎ করে এই গাড়ি দেখলে অবাক হবেন। এই খেলনা দেখে মনে পড়ে গেল আমার ছোট বেলার কথা। পুঁজোর মেলা চলছে, মেলায় হাজার রকম খেলনা। বাহারি গাড়ি থেকে ভেপু বাঁশি সব আছে। এতো খেলনার মাঝে আমার মত কাড়লো টিনের স্টিমার। পাঁচ টাকা দামের স্টিমার কেনার জন্য সব ভুলে গেলাম।
সে স্টিমার আমার কেনা হয় নি। স্বল্প আয়ের পিতা লজ্জায় আমাকে তার নিম্ন আয়ের কথা বলতেও পারে নি। ছোট মানুষের অভিমানী মন নিয়ে কেঁদে ছিলাম এক রাত, না খেয়ে ছিলাম দু’ দিন।
ছোট বেলার স্মৃতির টানে ছুটে গেলান খেলনা গাড়ির কাছে। হাতে তুলে আদর করলাম পরম যতেœ।
“দাম কত এই গাড়ির?”- মুখ ফসকে বেরিয়ে পড়লো ছোট বেলার দুঃসাহসি একটা স্বপ্ন।
দাম শুনে দীর্ঘশ্বাসের সাথে উচ্চারন করতে বাধ্য হলাম-“আমার পুরো মাসের হাত খরচ”। (আপনার আর নাই বা শুনলেন)
খুব মনে পড়ে গেল সৈয়দ মুস্তবা আলীর লেখা পন্ডিত মশাই গল্পের কথা।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা জুন, ২০০৯ দুপুর ১:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


