দুনর্ীতি এখন জনগণের দোরগোড়ায়। গঠন করা হয়েছে দুনর্ীতি দমন কমিশন। কিন' এখনো পর্যনত্দ ওটা বিছানা থেকেই উঠতে পারছে না। নড়েচড়ে কাজ করবে তো দূরের কথা। কথায় আছে 'সরিষাতেই ভূত' আমাদের এই অবস্থা যারা দুনর্ীতি তদনত্দ করবে তাদের মধ্যেই দুনর্ীতিবাজ বলে অভিযুক্ত সদস্য রয়ে গেছে। এরই মধ্যে দুনর্ীতি দমন কমিশনের সদস্যদের নিয়োগ সংক্রানত্দ আইনি লড়াই চলছে আদালতে। সরকার কর্তৃক দুনর্ীতি দমন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে একটা গল্প মনে পড়লো। এক লোক প্রতিবেশীর কাছে গেলো বাঁশ চাইতে। প্রতিবেশী বললো বৃহস্পতিবার দিন যেতে। এবং তখন বৃহস্পতিবার বাঁশ হসত্দানত্দর মঙ্গলজনক নয় বলে লোকটিকে বিদায় করতে চাইলো। লোকটি বললো, তবে যে আপনি আমাকে বৃহস্পতিবার দিন আসতে বললেন? প্রতিবেশী পানের চিপটি ফেলতে ফেলতে বললো, সেটা কি তোমাকে দেওয়ার জন্য, বুঝ না? তো, কেউ যদি বলে, এতো ফাঁক-ফোকর রেখে দুনর্ীতি দমন কমিশন গঠিত হলো কেন, তার উত্তরে সদাশয় সরকার নিশ্চয় বলবেন, সেটা কি দুনর্ীতি দমন করার জন্য, বুঝ না?
মন্ত্রীর দুনর্ীতি, এমপির দুনর্ীতি, সচিবের দুনর্ীতি, সব মিলে দুনর্ীতির চেইন সৃষ্টি হয়েছে। এই চেইন ঢাকার সবিচালয় থেকে জেলা হয়ে থানা-ইউনিয়ন সর্বসত্দরে পেঁৗছে গেছে। সুস্থ-স্বাভাবিক পথে চলা এখন কঠিন। স্টাটাস বজায় রাখতেও অনেক সৎ অফিসার কর্মচারী নিজেকে দুনর্ীতিতে আত্মসমর্পন করতে হয়। অনেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিয়ে চাকরি পেয়ে তা উসুল তুলতে দুনর্ীতিতে জড়িয়ে পড়ে। কোনো কোনো সেকশনে বেতনের একশ-দেড়শ গুণ ঘুষ দিয়ে চাকরি নিতে আপত্তি নেই অনেকের। ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না_ এ কথা এখন দিনের আলোর মতো স্পষ্ট। হিসাববিহীন ঘুষের টাকার উৎস সন্ধানে ও বাধা দানের ক্ষেত্রে আইন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কোথাও সক্রিয় নয়। কারণ তারা নিজেরাও একই কাজে লিপ্ত।
দুনর্ীতির অভিযোগে অভিযুক্ত শত শত দুনর্ীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী। সীমানত্দ অঞ্চলে আইনের লোকদের দুনর্ীতির ফলে চোরাচালান এমন হারে বেড়েছে যে, চোরাকারবারিদের রমরমা হাট এখন বাংলাদেশ। অজ-পাড়াগাঁয়েও পাওয়া যায় বিদেশী অবৈধ পণ্য। শাড়ি, সোনা, রুপা, হেরোইন, ফেনসিডিল হরদম আসছে সীমানত্দ অঞ্চল দিয়ে, পাচার হচ্ছে নারী ও শিশু। পুলিশ-সার্জন পথেপ্রানত্দে জনসম্মুখে পকেটে ভরছে অবৈধ উপার্জন। সরকারের বিভিন্ন সত্দরে সত্দরে মানবতাবিরোধী এসব দুনর্ীতি দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রসত্দ করছে।
অল্প সময়ে অধিক সম্পদের মালিক হওয়ার সর্বোত্তম মাধ্যম এখন রাজনীতি। বাংলাদেশ এখন ভয়ঙ্কার চরিত্রের রাজনীতিক ও আমলাদের কবলে পড়েছে। এরা অল্প সময়ে বেশি সুবিধা গ্রহণ করতে গিয়ে দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
সরকারি প্রশাসনের অধিকাংশ কর্মকর্তা ও কর্মচারী এখন দক্ষতাহীন। দক্ষতা নয় রাজনীতিক পরিচয় ও অবৈধ টাকার যোগানেই এখন নিয়োগ ও পদন্নতি ঘটে। বিশ্ব ব্যাংক থেকে শুরু করে দাতা দেশগুলোও এখন আমাদের দুনর্ীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাই দুনর্ীতি না কমালে সাহায্য করতে নারাজ্য। যদি কমে যায় চলবে কী করে। সব কিছুই এমন রাজনীতি কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত। অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতাবান রাজনীতিক ও আমলারা দেশের উন্নয়নের ফসল লুটে পুটে খাচ্ছে। এক চেটিয়া হাতে গোনা কিছু লোক দেশের সিংহভাগ সম্পদের মালিক হচ্ছে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে।
গণতন্ত্র আজ বহু প্রশ্নের সম্মুখীন। এ দেশের গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ কি আদৌ জাতির ভাগ্য উন্নয়নে সহায়ক হবে? না কি উন্নয়নশীল এই দেশে গণতন্ত্র সর্বাপেক্ষা দরিদ্র ও অজ্ঞ শাসন ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত হবে? 2005 সাল ছেড়ে চলে গেলো কিন' দুনর্ীতি রয়েই গেলো_ আরো তীব্রভাবে, আষ্টেপৃষ্ঠে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

