এখন দেশপ্রেমের সজ্ঞা দাঁড়িয়ে গেছে কিছুটা এ রকম এই দেশটাকে নিজের বাড়ি-ঘর মনে করে নিজের ইচ্ছামত সাজাও। আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা চাইবে আওয়ামী ভাবধারায় দেশ ছেয়ে যাক। আওয়ামী লীগার মানে দেশপ্রেমিক। বিপরীতে বিএনপিরা বলছে, আরে এ দেশটা তো আমাদেরই। এলাকায় আমার নিজের এবং এর আশপাশে যত ভোটার আছে তত ভোটার সারা বাংলাদেশে 14 দলের নেই। সুতরাং যা খুশি তাই কর। সাজাও তাকে ইচ্ছা মত। মৌলবাদীরা মনে করছে এই আমাদের দেশ। সুতরাং তারা এই দেশটাকে হাজার বছর আগেকার ইসলামী নিয়ম-কানুন দিয়ে চালাতে চাইছে। যা তারা নিজেরাও জীবিকার ক্ষেত্রে মানতে পারে না।
ইনডিভিজুয়ালি সবাই দেশপ্রেমিক। দেশকে ভালবাসলে এ কথা কেউই অস্বীকার করবে দেশকে কল্পনা করে তখন তারা দেশের মানুষ বাদ দিয়ে শুধু প্রকৃতি বা দেশকেই কল্পনা করে। দেশকে ভালবাসা মানে সে দেশের মানুষকে ভালবাসা- এই সত্যটা তাদের মাথায় সবসময় বলতে দ্বিধা নেই কোন সময়ই থাকে না। কবীর সুমনের গানের মত মানুষের মুখে নেতারা শুধু ব্যালট পেপার দেখেন। একজন মানুষ তাদেও কাছে একজন ভোটারের থেকে বেশি কিছু না।
এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কি? মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এর একটা সুন্দর সমাধান দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নিজের জন্য না, অন্যের জন্য বাঁচো। আর আমাদের নেতারা অন্যের জন্য বাঁচতে গিয়ে নিজেরা বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স করতে অস্থির। অন্যের জন্য বাঁচতে গেলে কি হবে; দেশের মানুষকে মানুষ হিসাবেই দেখব। সংখ্যা হিসেবে না। তাদের সুখ-দু:খ, চাওয়া-পাওয়াগুলো আমাদের ব্যথিত করবে।
কৃষকের দুঃখ বুঝতে পারলে আমরা হয়ত এগ্রোবেস্ড শিল্প গড়ে তুলতে পারব। তাঁতীদের দুঃখ বুঝতে পারলে আমরা হয়ত তাঁত বস্ত্রের বাণিজ্যিক প্রসারে উৎসাহিত হব। প্রধানমন্ত্রী হয়ত শিফন শাড়ী বাদ দিয়ে তাঁতের শাড়ী পরা শুরু করবেন। নেতারা হয়ত দেশীয় বলাকা বেড দিয়ে শেভ করবেন। 14 কোটি লোকের বাজার চলে যায় ইন্ডিয়া-আমেরিকার হাতে। এ দৈন্য আমরা রাখি কোথায়! বিজ্ঞানীদের দুঃখ বুঝতে পারলে আমরা হয়ত গড়ে তুলতে পারব উন্নত মানের গবেষণাগার।
মোট কথা দুঃখটাকে অনুভব করতে হবে। দেশের হৃদয়টাকে ছুঁতে হবে। তবেই না জেগে উঠবে দেশপ্রেম। আসবে কর্মমুখর দিন, নিশ্চিত রাত, সর্বোপরি কর্মমুখর জীবন। সবশেষে সমৃদ্ধ জাতি। সমৃদ্ধ দেশ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


