somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সমৃদ্ধ বাংলাদেশের খোঁজে

১২ ই এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ৭:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেশপ্রেম কি? সক্রেটিস বলেছেন,নিজে নিজের কাজ সর্বোচ্চ ভালভাবে করে যাওয়া। তাহলে আমাদের দেশের দেশ প্রেমিক কারা? রিকশাওয়ালা, কুলি,মুটে, মজুর এমনকি কৃষকরাও। কিন্তু রাজনীতিবিদরা- কখনোই না। তথাকথিত বুদ্ধিজীবীর লেবাসধারী ব্যক্তিবর্গও না। কারণ তারা তাদের কাজ ঠিকমত করছে না। অথচ তারাই দেশ এবং দেশপ্রেম নিয়ে সবচেয়ে বেশি উচ্চকিত। এমনকি তারা আমাদেরকে মানে সাধারণ জনগণকে দেশপ্রেমের নসিহত দিতেও বিন্দুমাত্র লজ্জা পায় না। ভাবখানা এমন যেন, তারা না থাকলে বাংলাদেশ চৌদ্দ হাত পানির নীচে ডুবে যেত। এখন আপনি একজন রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন, 'ভাই আপনি এত মনোযোগ দিয়ে রিকশা চালান কেন? 'আপনাকে মনে মনে পাগল ভাবলেও হয়ত' রিকশা না চালাইলে খামু কি?' গোছের কিছু একটা উত্তর দেবে। অর্থাৎ তাদের চিন্তা-ভাবনায় কোথাও দেশ নেই। অথচ তারাই দেশপ্রেমিক। আর আমাদের রাজনীতিবিদদের চিন্তা-ভাবনায় দেশ কিন্তু কাজে-কর্মে টরেটক্কা। ব্যাপারটা কেমন কেমন হয়ে গেল না? তার মানে কি আমাদের দেশপ্রেমিক হতে গেলে দেশ নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলবে।

এখন দেশপ্রেমের সজ্ঞা দাঁড়িয়ে গেছে কিছুটা এ রকম এই দেশটাকে নিজের বাড়ি-ঘর মনে করে নিজের ইচ্ছামত সাজাও। আওয়ামী বুদ্ধিজীবীরা চাইবে আওয়ামী ভাবধারায় দেশ ছেয়ে যাক। আওয়ামী লীগার মানে দেশপ্রেমিক। বিপরীতে বিএনপিরা বলছে, আরে এ দেশটা তো আমাদেরই। এলাকায় আমার নিজের এবং এর আশপাশে যত ভোটার আছে তত ভোটার সারা বাংলাদেশে 14 দলের নেই। সুতরাং যা খুশি তাই কর। সাজাও তাকে ইচ্ছা মত। মৌলবাদীরা মনে করছে এই আমাদের দেশ। সুতরাং তারা এই দেশটাকে হাজার বছর আগেকার ইসলামী নিয়ম-কানুন দিয়ে চালাতে চাইছে। যা তারা নিজেরাও জীবিকার ক্ষেত্রে মানতে পারে না।

ইনডিভিজুয়ালি সবাই দেশপ্রেমিক। দেশকে ভালবাসলে এ কথা কেউই অস্বীকার করবে দেশকে কল্পনা করে তখন তারা দেশের মানুষ বাদ দিয়ে শুধু প্রকৃতি বা দেশকেই কল্পনা করে। দেশকে ভালবাসা মানে সে দেশের মানুষকে ভালবাসা- এই সত্যটা তাদের মাথায় সবসময় বলতে দ্বিধা নেই কোন সময়ই থাকে না। কবীর সুমনের গানের মত মানুষের মুখে নেতারা শুধু ব্যালট পেপার দেখেন। একজন মানুষ তাদেও কাছে একজন ভোটারের থেকে বেশি কিছু না।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কি? মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এর একটা সুন্দর সমাধান দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নিজের জন্য না, অন্যের জন্য বাঁচো। আর আমাদের নেতারা অন্যের জন্য বাঁচতে গিয়ে নিজেরা বাড়ি, গাড়ি, ব্যাংক ব্যালেন্স করতে অস্থির। অন্যের জন্য বাঁচতে গেলে কি হবে; দেশের মানুষকে মানুষ হিসাবেই দেখব। সংখ্যা হিসেবে না। তাদের সুখ-দু:খ, চাওয়া-পাওয়াগুলো আমাদের ব্যথিত করবে।

কৃষকের দুঃখ বুঝতে পারলে আমরা হয়ত এগ্রোবেস্ড শিল্প গড়ে তুলতে পারব। তাঁতীদের দুঃখ বুঝতে পারলে আমরা হয়ত তাঁত বস্ত্রের বাণিজ্যিক প্রসারে উৎসাহিত হব। প্রধানমন্ত্রী হয়ত শিফন শাড়ী বাদ দিয়ে তাঁতের শাড়ী পরা শুরু করবেন। নেতারা হয়ত দেশীয় বলাকা বেড দিয়ে শেভ করবেন। 14 কোটি লোকের বাজার চলে যায় ইন্ডিয়া-আমেরিকার হাতে। এ দৈন্য আমরা রাখি কোথায়! বিজ্ঞানীদের দুঃখ বুঝতে পারলে আমরা হয়ত গড়ে তুলতে পারব উন্নত মানের গবেষণাগার।

মোট কথা দুঃখটাকে অনুভব করতে হবে। দেশের হৃদয়টাকে ছুঁতে হবে। তবেই না জেগে উঠবে দেশপ্রেম। আসবে কর্মমুখর দিন, নিশ্চিত রাত, সর্বোপরি কর্মমুখর জীবন। সবশেষে সমৃদ্ধ জাতি। সমৃদ্ধ দেশ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ

লিখেছেন সামিউল ইসলাম বাবু, ০৬ ই মে, ২০২৬ ভোর ৫:৩৫

আমার ভালোলাগা কিছু ছবি নিচে শেয়ার করা হলো। একটা আায়াত জানলেও তা অপরের কাছে পৌঁছে দাও(আল-হাদিস

পৃথিবীতে কেও আপন নয়। একমাত্র মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যতিত। তাই ভালো মন্দ সকল বিষয়েই কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার বেঁচে আছে?

লিখেছেন শূন্য সারমর্ম, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:০২





আপনার মা/বাবা বেঁচে থাকলে আপনি এখনো সৌভাগ্যবান -এরকম ভাবনা হয়তো ৯৮ ভাগ মানুষ ভাবে। মা/বাবা নিয়ে মানুষের ইমোশন, সংগ্রাম নিয়ে সবাই কিছু কিছু লিখতে পারবে, বা মুখে বলতে পারবে। গোর্কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লেখালিখি হতে পারে আপনার বিক্ষিপ্ত মনকে শান্ত করার খোরাক।

লিখেছেন মাধুকরী মৃণ্ময়, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৪:২৯

এই যেমন আমি এখন লিখতে বসছি। সর্বশেষ লিখেছি ২০২১ সালে জুলাই এর দিকে। লিখতে গিয়ে আকাশে বাতাসে তাকাচ্ছি, শব্দ, বিষয় খুজছি। কিন্তু পাচ্ছি না। পাচ্ছি যে না , সেইটাই লিখছি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×