সাংহাইর পুলিশ আমাদের ট্যাক্সি আটকালো।
একজন সুদর্শনা নারী পুলিশ এসে নম্রতার সাথে ইংরেজিতে বললেন, "আমি কি আপনাদের পাসপোর্ট দেখতে পারি?"
কিছু সময় তার চোখের দিকে তাকিয়ে রইলাম আমি। হেসে বললাম, "বাহ আপনার ইংরেজি তো বেশ চমৎকার!" কেন না কোন চাইনিজ কে ইংরেজি বলতে দেখা আর দিনের বেলা আকাশে তারা দেখা প্রায় সমান মনে হয়েছে আমার কাছে।
গুয়ানজু এয়ারপোর্টে নামার পর দেখলাম, কিছু কিছু কর্মীর বুকে স্টিকার সাঁটা "আই ক্যান স্পিক ইংলিশ!"
প্রথমে ভাবলাম। আরে এ আর এমন কি! ইংরেজিতে কথা বলতো পারো- সেটা আবার তামাম দুনিয়ার লোকজনকে জানাতে হবে!
এক সপ্তাহ'র সফর শেষে মনে হলো, যে চাইনিজ ইংরেজি বলতে পারে সে রীতি মতো নোবেল প্রাইজের দাবী দার। তাই কোন চাইনিজকে ইংরেজি বলতে দেখলে আমি উচ্ছ্বাসিত ভঙ্গিতে বলতাম- ওয়াও ইউ ক্যান স্পিক ইংলিশ!
বাংলাদেশি সময় রাত দুইটার দিকে হোটেলের রিসিপশনে গিয়ে বললাম- দুই বোতল পানি দরকার। দয়া করে দুই বোতল পানি দিন।
দুজন কর্মীর একজন ইশারায় জানতে চাইলেন, আমি কী বলছি। বুঝতে পারলাম, তাদের সাথে থাকা হাফ-ইংরেজি জানা জন এতক্ষণে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছেন।
পানি খাওয়ার ইশারা করে বললাম, "পানি পানি। দুই বোতল পানি দিন।"
রমনী মিষ্ট হেসে দুই বোতল বিয়ার নিয়ে এলেন।
নিজের মাথার চুল নিজে টেনে ছিড়তে ইচ্ছে করলো। বাংলায় চিৎকার করে বললাম, "পানি দিন পানি!" কেন না তার কাছে বাংলা আর ইংরেজির মাঝে কোন তফাত আছে বলে মনে হয় নি।
রমনি আরো দুই বোতল বিয়ার এনে আগের চেয়ে আরেকটু মিষ্টি করে হাসলেন। আমার মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে উঠলো। সেই রাতে পানি না খেয়েই শুয়ে পড়লাম। আর চাইনিজ না জানার জন্য নিজেকে নিজে অভিসম্পাৎ করতে লাগলাম।
বুঝতে পারলাম, মার্ক জুকারবার্গ কেন এত আগ্রহ নিয়ে চাইনিজ ভাষা 'ম্যান্দারিন' শিখছেন! আর ফেসবুকে পোস্টের মাধ্যমে আবার সবাইকে তা জানান দিচ্ছেন, "আই এম লার্নিং ম্যান্দারিন...!!"
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




