প্রায়ই ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আমি হতাশাভরা কিছু ইনবক্স পেয়ে থাকি। যাদের ভেতর যেমন রয়েছেন আমার জুনিয়র। ঠিক তেমনি আছেন সিনিয়রও ।
আমি মনোবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী নই। তবে একসময় মনোচিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসাধীন ছিলাম কিছুদিন। টিএসসির কাউন্সিলর কহিনূর আপা ব্যর্থ হয়ে আমাকে একজন ডক্টরের কাছে রেফার করলেন।
খুবই ক্রিটিক্যাল কিছু সমস্যা থাকে মানুষের জীবনে যা উতরে যাওয়া কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।
বাহির থেকে দেখতে স্বাভাবিক একটা মানুষ। সবকিছুই চলছে ঠিকঠাক মতো। তারপরও আমার চিকিৎসা চলতে থাকলো। একদিন আমার চিকিৎসককে ফোন দিয়ে বললাম, "সর্বনাশ হয়ে গেছে! আই নিড ইউর হেল্প!" শুধু এটুকুই বললাম। চিকিৎসক আমাকে অবাক করে দিয়ে বললেন, "তুমি কি এই কাজ করেছো?"
আমি বললাম, "জ্বি।" তখন ফোর্থ ইয়ারে পড়ি।
সেই সময় আমার মতো অসহায় এই পৃথিবীতে কেউ ছিল কিনা না জানি না।
এরকম হাজারো সমস্যা চলার পথে আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। প্রয়োজন শুধু একটু শক্ত মনোবল নিয়ে তা মোকাবেলা করে যাওয়া। সময় গড়িয়ে গেলে আপনা-আপনিই অনেক সমস্যা সমাধান হয়ে যায়।
আমাদের ব্যক্তিগত অতীতই আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যা সমাধানে অনেক অনুপ্রেরণা দিতে পারে। সমস্যার ভেতর থেকে বেরিয়ে আসতে
সাহায্য করতে পারে। আমি যখনই কোন কঠিন মুহূর্তের সম্মূখীন হই। বিশ্বাস করুন, তখনই আমি আমার অতীতের দিকে ফিরে তাকাই।... হ্যাঁ আমি দেখতে পাই এর চেয়েও কঠিন কোন সময় আমি পার করেছি। আর সেটিই আমাকে দারুণ মানসিক শক্তি যোগায় । আমার মনোবল শক্ত হতে সহায়তা করে।
কিছু কিছু সময় কিছু কিছু পারিবারিক জটিলতা আমাদের সামনে এসে দাঁড়ায়। এ ধরণের সমস্যার সম্মূখীন হলে আমি চোখ বন্ধ করে কিছু সময় ভাবি, ভেবে দেখি, অতীতে এর চে' জটিল সমস্যার মুখোমুখীও আমি হয়েছি এবং তার সমাধানও হয়েছে।
তাই আর হতাশ হই না। হতাশা আমাকে সহযে কাবু করতে পারে না।
একসময় যে সমস্যা সামনে এসে দাঁড়ালে ভেঙে পড়তাম। এখন তেমন অনেক সমস্যার সময়ও স্থির থাকি। অতীতের দিকে তাকাই। অতীত আমার মনোবল যোগায়। নিজেকে নিজে বলি, "আরে! এর চে কঠিন সময় তো আমি পার করে এসেছি। এ আর এমন কি! একসময় আপনাতেই ঠিক হয়ে যাবে।"
আমাদের সবারই উচিত নিজের কঠিন কোন অতীত থেকে সাহস ও মনোবল সঞ্চয় করে এগিয়ে যাওয়া।
জগতের এমন কোন সমস্যা আজ অবধি আমি দেখিনি, আমরা কেউ না কেউ এ যাবত যার সম্মূখীন হই নি। তাই যে সমস্যার মুখোমুখী হবার অভিজ্ঞতা আমার নেই, সেটির বিষয়ে আমি সিনিয়র কারো সাথে আলাপ করি। এবং কোন না কোন সমাধান পেয়ে যাই...
আমাদের প্রত্যেকের জীবনই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের চেয়েও মূল্যবাণ। পৃথিবীতে মানব জীবনের চে' মূল্যবাণ বস্তু আর নেই।
সুতরাং আর নয় হতাশা। এবার একটু হাসুন এবং বুক ভরে বাতাস নিন...। লড়াই করে বাঁচার আনন্দই আলাদা...।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ১:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


