somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সীমন্তিনী

২৮ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



সীমন্তিনীকে প্রথম দেখেছিলাম বসন্তের রাত্রিতে , আধো আধো সুরে তার বলা কথা , আর তুমুল ক্রন্দনে পাশের বাড়ি থেকে আমরা ছুটে এসেছিলাম । হাসপাতালে নিতে আমরা সাহায্য করলাম । 2 দিন পর ছাড়া পেল কোমল বালিকা সীমন্তিনী । সবে সে স্কুলে পা রেখেছে । সেদিন থেকেই তার সাথে আমার সখ্যতা । আমি তখোন প্রাথমিক গন্ডি পেরিয়ে মাধ্যমিক স্কুলে পদার্পন করলাম । পাশের বাড়ি হওয়াতে , বিকাল হলেই পুতুল নিয়ে ছোট ছোট পায়ে হেঁটে সীমন্তিনী হাজির হতো । তার শত প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে আমি ক্লান্ত হতাম । রোজ পুতুল খেলতে গিয়ে আমার ফুটবল আর ক্রিকেট এর চেয়ে পুতুল খেলায় যেন বেশি প্রিয় হয়ে উঠল ।

আমি কলেজে পদার্পন করলাম, সীমন্তিনী হঠাৎ করে এসে বলল সীমান্ত দাদা চলো না মেলায় যাই । সেদিন ছিল শনিবার বিশাল মেলা বসেছিল । কাঁচের চুড়ি , বাতাসা , সন্দেশ কিনে আমরা বাড়ি ফিরলাম । সারা পথ জুড়ে সীমন্তিনীর সে কি হাসি , তখোন থেকেই সীমন্তিনীর প্রতি ভালো লাগা জন্মাতে শুরু করল । মাঝে সীমন্তিনী একবার মামা বাড়ি গেল , কি বদ মেয়ে আশার কোনো নাম গন্ধ নেই, আমি রোজ নদীর ঘাটে বসে থাকতাম , এই বুঝি সে এলো ।

এভাবে বেশ চলছিল , বিপত্তি ঘটলো যখোন শহরে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি টা পাকা হয়ে গেল । আমি লুকিয়ে লুকিয়ে কান্না করতাম , সীমন্তিনীকে আবার যে কবে দেখবো , ভাবলেই চোখে জল চলে আসতো । সীমন্তিনী তখোন অবুঝ কিশোরী , যাওয়ার দিন বললাম আসিরে ভালো থাকিস । বোকা মেয়ে বলল দাদা যাও , ফিরবার সময় আমার জন্য চুড়ি নিয়ে আসবা , আর কানের দুল , সন্দেশও আনবা । আমি ভাবলাম ও বুঝি আরো কিছু বলবে, কিন্তু ঐটুকু বলেই সে খেলতে চলে গেল । আমার বুকের ভেতরটা তীব্র ব‍্যথা অনুভব করলাম । কি যে যন্ত্রণা অবুঝ সীমন্তিনী বুঝলো না ।

চার বছর পর বাড়ি ফিরলাম । এসেই সীমন্তিনীর খোঁজ করলাম । ওকে অনেক চিঠি দিয়েছিলাম , ও প্রথম দুই বছর জবাব দিত , এরপর আর কোন খবর নেই । আমি চিঠি দিয়েই যেতাম , কোনো প্রতিউত্তর আসতো না । ক্লান্ত হয়ে শেষে থেমে গিয়েছিলাম । বাড়ি এসে জানলাম সে শাহেদ নামের কোন এক ছেলের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে । শুনা মাত্রই আমার মনে হচ্ছিল, কেউ যেন আমার গলা টা চেপে ধরলো ।

অনেক বুদ্ধি খাটিয়ে শাহেদ নামক ছেলের ভূত টা ওর মাথা থেকে সরালাম । শাহেদ খুব সুবিধার ছিল না, তাই আমার আর বেশি একটা কষ্ট হলো না । সীমন্তিনী এক বিকেলে সে কি কান্না , দাদা জানো ছেলেটা কি বদ , বলেই আবার কান্না, আর আমি মনে মনে বিজয়ের হাসি টা দিলাম । সে কি পরম শান্তি , আমার সীমন্তিনী অবশেষে আমারি আছে । ব‍্যাগ থেকে এতোদিন পর এক ঝুড়ি কাঁচের চুড়ি সীমন্তিনীকে বের করে দিলাম , সে কি হাসি তার , দাদা তোমার এতদিনেও মনে ছিল ! আমি তো ভাবলাম ভুলে গেছো বুঝি ।

আবার শহরে ফিরলাম , একটা চাকরি যে যোগার করতেই হবে, সীমন্তিনীকে যে আমার চাই এ চাই । ছয় মাসের মাথায় চাকরি পেয়ে গেলাম । আনন্দ আমার যেন আর ধরেই না । সীমন্তিনীদের বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠালাম । সবাই এক বাক‍্যেই রাজী । কেবল সীমন্তিনী বোকা মেয়েটা বিয়ের কিছুদিন আগে এসে বলল , দাদা তুমি আমার বর হবে কেন , দাদারা কি বর হয় কখনো ? ওর প্রশ্ন শুনে আমি হেসেই বললাম , খবরদার বিয়ের পর দাদা বলবি না কিন্তু ।

আজ সারা গ্রাম জুড়ে আলোক সজ্জা । গানের আসরও বসেছে । সীমন্তিনীর সে কি অপরূপ সাজ , একটা মেয়ে যে বউ সাজে এতো সুন্দর হয় , আমি চোখ ফিরাতেই পারছিলাম না । ওর মুখে তখনো হাসি লেগে আছে । আমার মনে হচ্ছিলো, সারাটা জীবন আমি ঐ হাসির জন‍্যই বাঁচতে চাই ।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ২:০৮
২৭টি মন্তব্য ২৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫



আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। পরিচিত যারা কাজ করেন তেমন দু একজনের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×