শিরোনামটা আসলে এরকম হওয়া উচিত ছিল না। কিন্তু রাগে এরকম দিতে বাধ্য হলাম। বেসরকারি চাকুরিগুলোতে চাকুরির নামে ২-৩-৫-১০ বছরের অভিজ্ঞতার কথা যোগ্যতা হিসেবে চাওয়া হয়। আপনারা অনেকে বলতে পারেন, এটা তো স্বাভাবিক। প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তারা যোগ্য লোক চাইতেই পারে।
কিন্তু এটা যখন অস্বাভাবিক হয়ে যায়, তখন আমাদের গা জ্বালা শুরু হয়। আজকে প্রথম আলোয় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের একটি চাকুরির বিজ্ঞাপন চাইতে গিয়ে বিষয়টা নজরে আসল। যেখানে একটি পদে যোগ্যতা হিসেবে চাওয়া হয়েছে কমপক্ষে মাস্টার্স পাশ এবং অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে কমপক্ষে পাঁব বছর।
এবার আসল কথায় আসি। আমি আর কিছুদিন পরে মাস্টার্স পাশ করে বের হবো। তখন আমার বয়স হবে ২৫। অনেকের কিন্তু ২৬ বা ২৭ হতে পারে। পাবলিক ভার্সিটি বলে এত কম সময়। কিন্তু এটা যদি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হয় তাহলে মাস্টার্স পাশ করে বের হতে ২৭-২৮ বছর লেগে যায়। তারপর চাকুরি খোজতে খোজতে ১ থেকে ২ বছর। তারপর তার যখন ৫ বছর অভিজ্ঞতা হবে তকণ তার বয়স হবে ৩৪ থেকে ৩৫ বছর। তখন সে বেশির ভাগ চাকুরিতে আবেদন করার যোগ্যতা হারাবে।
বাংলাদেশের বেসরকারি চাকুরিগুলোর প্রায় সবক'টিতে এই অবস্থা। আরে ভাই একটা লোককে চাকুরি না দিলে সে অভিজ্ঞতা কোথা থেকে পাবে। তাকে আপনারা প্রবেশনে রেখে অভিজ্ঞ করুন। দরকার হলে মূল বেতনের অর্ধেক দেন প্রবেশন পিরিয়ডে। কারণ : সব চাকুরিতে যদি অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়, তাহলে অভিজ্ঞতা আসবে কোথা থেকে। এমনি এমনি আকাশ থেকে তো আর অভিজ্ঞতা ঝরে পড়বে না। তাই বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। সরকারেরও এ ব্যাপারে দৃষ্টি দেওয়া উচিত।
সরকারি চাকুরিতে হাজার হাজার পদে যদি ফ্রেশ লোক নেওয়া হয়, সেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এই ভাওতাবাজি কেন? আসুন আমরা এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


