সুমন বড়ই আফসোস হয় তোমার জন্য। তুমি বড্ড ভুলটা করে ফেললে!! যে ভুলের মাশুল তোমাকে দিতে হচ্ছে। জানিনা এই ভুলের জন্য তুমি পরপারে আফসোস করতেছ কিনা? আর আফসোস করেই বা লাভটা কী? তবে তোমাদের ধর্মে যেহেতু পরজন্মের কথা আছে, তাই হয়তো পরজন্মে এই ভুলটা আর করবে না।
একটিবার চিন্তা কর সুমন, আজ যদি তুমি শিবিরের সাথে সংঘর্ষে নিহত হতে,অথবা ছাত্রদলের সাথে, তাহলে পরিস্থিতি কী হতো? বিশ্ববিদ্যালয়ে চিরুণি অভিযান হতো।বাড়ি বাড়ি গিয়ে তোমার হত্যাকারীর সাথে নিরপরাধ ছাত্রদের হয়রানি হতে হতো। কী জানি হয়তো ক্রসফায়ারে দুই-একজনের প্রাণ যেতে পারতো!! অপারেজয় বাংলার পাদদেশে তোমার ছবিসম্বলিত ব্যানার নিয়ে মিছিল-সমাবেশ হতো। সেই সমাবেশ থেকে শিবির প্রতিরোধ আর নিষিদ্ধের ডাক আসতো। দেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় আর মহানগরীতে মিছিল হতো। তোমার লাশ নিয়ে সিলেটে মিছিল হতো।
কিন্তু এসবের কিছুই আজ হয়নি। বরঞ্চ, আজ তুমি ছাত্রলীগের কেউ না!!! শুধু এটুকু হলে তোমার আত্মা হয়তো এতো কষ্ট পেত না। তোমার নেতা আরো একধাপ এগিয়ে বলেলন, তুমি সন্ত্রাসী। তুমি প্রতিটা সমাবেশ-মিছিলে থাকতে প্রথম কাতারে। জীবন বাজি রেখে জামাত-শিবির-বিএনপির হরতালবিেরাধী মিছিলে থাকতে প্রথম কাতারে। সেই তুমি আজ ছাত্রলীগের কেউ না। তা যদি যে কেউ বলতো, আফসোস থাকতো না, কথাগুলো যে বলেলন, খোদ তোমারই কেন্দ্রীয় সভাপতি। যার একটি ডাকে জীবন বাজি রেখে সকল কর্মসূচিতে ছিল তোমার সরব পদচারণা। হরতালবিরুধী মিছিলে তোমার ছবি আজ মিথ্যা। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন সিরাজের সাথে তােমার ছবি মিথ্যা।

তবে পরিস্থিতি অন্য দিকি মোড়া নিতে পারতো। ঐদিন যদি তুমি মারা না যেতে, আর দুই-একটাকে কুপিয়ে হাসপাতালে পাঠাতে পারতে, তাহলে তুমি কিন্তু ছাত্রলীগের সম্পদ থাকতে। পরবর্তী কাউন্সিলে তোমার প্রমোশন হতো। কিন্তু এখন আর সেটা হচ্ছে না। কারণ জীবিত সুমনের যে মূল্য ছিল, মৃত সুমনের সেই মূল্য নাই। এখন তুমি ছাত্রলীগের কোনো উপকারে আসবে না। তাই তোমাকে স্বীকৃতি দিয়ে কােনো লাভ নাই।
সুমন তুমি মারা গেছ। জানিনা কী অবস্থায় আছ? আমাদের ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী তুমি নরকে থাকার কথা। তোমার ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী স্বর্গে থাকতে পারো। যেখানেই থাকো তোমার নেতার কথা কী পুরোপুরি ফেলে দেয়া যায়?? তুমি কী সন্ত্রাসী? তুমি যদি সন্ত্রাসী না হয়ে মেধাবী ছাত্র হতে, তাহলে কেন সেদিন তোমার ভাই, সহযোদ্ধাদের মারতে গেলে, তাদের কোপাতে গেলে, তাদের রুম ভাঙচুর করতে গেলে, তাদের জিনিসপত্র চুরমার করতে গেলে, কেন রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করতে গেলে????????
জানি এর উত্তর নাই। তবে যেখানেই থাকো ভালো থাকো, আর তোমার প্রাণ বিসর্জনে যেন তোমার জীবিত সহযোদ্ধাদের শিক্ষা হয় এই কামনা করি, এভাবে যেন আর একটি প্রাণ না ঝরে, একটি স্বপ্নের যেন অকাল মৃত্যু না হয়, কোনো মা-বাবার কোল খালি না হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মূল্যান সময়ের অপচয় না হয়, সেশনজটে পাড়তে না হয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


