somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাল থাকুন আমার ফ্রিল্যান্সার টিচাররা - ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোচিং চলতে বাঁঁধা কোথায়?

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমাদের দেশের মানুষের অন্যতম স্বভাব যে কোন বিষয়ে স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে অন্ধের ন্যায় ঝাঁপিয়ে পড়া। তা সেটা ডাক্তার আকাশ-মিতু'র ঘটনা হোক, হোক কোচিং সেন্টার বন্ধের বিষয়, অথবা নিকট অতীতের কোটা সংস্কার বা সড়ক পরিবহন আইন বিষয়ে; কোনটাতেই বাদ যায় না তারা। সেই বিষয়ে জানা থাক বা না থাক, মতামত জ্ঞাপন করা চাই ও-ই। অথচ নিজের প্রয়োজনীয় অনেক বিষয়েই তারা থাকে উদাসীন, আগ্রহ যত অন্যের বিষয়ে; আরও স্পষ্ট করে বললে "আজাইরা" বিষয়ে। একই অবস্থা, কোচিং সেন্টার বন্ধের দুদকের অভিযান এরপর; সবাই বিজ্ঞের মত বলছে, ঠিকই তো, কোচিং সেন্টার সব বন্ধ করে দেওয়া উচিত। কিন্তু কেন রে ভাই? একটু বুঝিয়ে বলবেন প্লিজ... যাই হোক, যে বিষয়ে কথা বলার জন্য এই পোস্টের অবতারণা, কোচিং সেন্টার বন্ধের সরকারি আদেশের সিদ্ধান্ত বিষয়ে গতকাল একটি নিউজ দেখলাম পত্রিকায়, "বাংলা ট্রিবিউন" হতে নিউজটা প্রথমে আপনাদের জন্য তুলে ধরা যাকঃ

শুধু ফ্রিল্যান্সাররাই কোচিং করাতে পারবেন: হাইকোর্ট

কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ২০১২ সালের নীতিমালা অনুসারে দেশের সরকারি কিংবা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকগণ কোচিং করাতে পারবেন না। তবে যেসব ব্যক্তি কোনও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত নন, শুধুমাত্র তারাই ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোচিং করাতে পারবেন বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।

এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। পরে তিনি বলেন, “একটি মামলাকে কেন্দ্র করে হাইকোর্টে উপস্থিত ছিলাম। তখন আদালত আমাকে ডেকে জানান, কোচিং নিয়ে বিচারপতিগণ টেলিভিশনে দেওয়া আমার দুটি টকশো দেখেছেন। তাই কোচিং এর সংজ্ঞা নিয়ে তারা (বিচারপতিগণ) বক্তব্য স্পষ্ট করে আমাকে জানান, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বাইরে যারা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোচিংয়ের সঙ্গে যুক্ত তারা তাদের কার্যক্রম চালু রাখতে পারবেন’। তবে যারা কোনও প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত তাদের ক্ষেত্রে সরকারের করা কোচিং বাণিজ্য বন্ধের ২০১২ সালের নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।”

আদালতের এই বক্তব্যের ফলে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ২০১২ সালের নীতিমালা অনুসারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানে যুক্ত শিক্ষকগণ কোনোভাবেই কোচিং করাতে পারবেন না।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ এর ১ (ক) অনুচ্ছেদে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’ বলতে, সরকারি/বেসরকারি স্কুল (নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক), কলেজ (উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক ও স্নাতেকোত্তর) মাদ্রাসা (দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল) ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে বোঝানো হয়েছে। এছাড়াও ১ (চ) অনুচ্ছেদে ‘কোচিং’ বলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন শিক্ষকের নির্ধারিত ক্লাসের বাইরে বা এর পূর্বে অথবা পরে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে/বাইরে কোনও স্থানে পাঠদান করাকে বোঝাবে এবং ১ (ছ) অনুচ্ছেদ অনুসারে ‘কোচিং বাণিজ্য’ বলতে, উপানুচ্ছেদ (চ) অনুযায়ী বিভিন্ন জাতীয়/দৈনিক/স্থানীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি, পোস্টার, লিফলেট, ফেস্টুন, ব্যানার, দেয়াল লিখন অথবা অন্য কোনও প্রচারণার মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থী ভর্তির মাধ্যমে কোচিং কার্যক্রম পরিচালনা করাকে বোঝানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৭ ফেব্রুয়ারি কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ২০১২ সালে সরকার অনুমোদিত নীতিমালা বৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত পাঁচটি পৃথক রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও রাজীব আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। তবে এরও আগে কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগে মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ওই নোটিশ দেয় সরকার। পরে ওই নোটিশ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধের নীতিমালা-২০১২ নিয়ে শিক্ষকরা হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। এরপর আদালত গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই চিঠির কার্যকারিতা চার মাসের জন্য স্থগিত করার পাশাপাশি রুল জারি করেন।

পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আপিল করার অনুমতি চেয়ে লিভ টু আপিল করে। পরে আপিল বিভাগ গত বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চকে মামলার ওপর জারি করা রুল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। পরে আদালত এ রুল নিষ্পত্তির জন্য সাবেক দুই অ্যাটর্নি জেনারেল হাসান আরিফ ও ফিদা এম কামালকে অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে নিয়োগ দেন। এর দীর্ঘদিন পর চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ৭ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করা হয়।


কয়েকদিন আগে প্রিয় ব্লগার হাসান মাহবুব কোচিং সেন্টার বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন, কোচিং সেন্টার তো বন্ধ করতে চান, কিন্তু তারপর কী? সেই পোস্টে কমেন্টে আমি এই কথাটিই বলেছিলাম, " অন্যান্য মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণে যদি মাল্টিপল এবং প্যারালাল সাপ্লাইয়ার থাকতে পারে, শিক্ষা ক্ষেত্রে কেন নয়? একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোন একটি বিষয়ে যদি কোয়ালিটি টিচার না থাকে, তার জন্য আউট সাইড সার্ভিস নেয়া যেতেই পারে। কিন্তু কথা হল, যে টিচার স্কুলে ম্যাথ পড়াচ্ছে, সেই টিচারের কাছে সেই স্কুলেরই ছাত্রকে কেন প্রাইভেট টিউশন নিতে হবে?

তাই কোচিং সেন্টার বন্ধ না করে, স্কুল-কলেজের টিচারদের কোয়ালিটি নিশ্চিত করুন এবং তাদের পর্যাপ্ত সম্মান সূচক বেতন-ভাতাদি সহ সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করে আইন করুন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা প্রাইভেট টিউশন বা কোচিং সেন্টারে পড়াতে পারবেন না। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নন, এমন কেউ যদি প্রাইভেট টিউশন দেয় কোচিং সেন্টার খুলে সেখানে সমস্যা কোথায়? ধরে নিন, একজন বুয়েট পাশ ছেলে শিক্ষা জীবনে আয়ের জন্য প্রাইভেট টিউশনি করতে করতে উপলব্ধি করল সে ভাল পড়াতে পারে এবং এই কাজটা সে উপভোগ করছে; ফলে সে পেশা হিসেবে প্রাইভেট পড়ানোটাকে বেছে নিতে চায়। এখন সে কোচিং সেন্টার খুললে কোন যুক্তিতে আপনি তাকে বাঁধা দিবেন। প্যারালাল এই এডুকেশন সোর্স থাকতে দিতে হবে, ছাত্রদের প্রয়োজনেই। তবে আবার বলি, বন্ধ করতে হবে, "স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা'দের একই স্কুলের ছাত্রদের প্রাইভেট টিউশন/ব্যাচ/কোচিং এ পড়ানো"টা। এর জন্য তাদের যা যা সুযোগ সুবিধা, ট্রেনিং ইত্যাদি দিতে হবে, তার দায়িত্ব সরকার এবং সংশ্লিষ্ট স্কুল/কলেজ ম্যানেজমেন্টকে নিতে হবে।


গতকাল পত্রিকায় আসা নিউজের সামারি লাইন কিন্তু আমার বক্তব্যেরই প্রতিফলন, যারা সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থায় কর্মরত নন, তারা ফ্রীল্যান্সার হিসেবে কোচিং তথা প্রাইভেট টিচিং সার্ভিস দিতে পারবেন। আর যে বিষয়টি থেকে যায় তা হল প্রশ্ন ফাঁসে কোচিং সেন্টারগুলোর জড়িত থাকার অভিযোগ। সে ব্যাপারে বলবো, প্রশ্ন ফাঁস সহ যে কোন দুর্নীতিতে কোন কোচিং সেন্টার কেন, যে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই দেশের প্রচলিত আইনের অধীনে বিচারের আওতায় আসবেন। এটা নিয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়।

এবার আমার কথায় আসি, একে তো বোকা মানুষ, তার উপর ছিলাম না তেমন মেধাবী ছাত্র; ফলে ক্লাস এইট থেকেই " কোচিং সেন্টার" এ যাতায়াত শুরু হয়েছিল। তো এই কোচিং সেন্টার এ পড়েছি অনেকগুলো বছর। আর তাই হয়তো আমার লাইফে পাওয়া বেস্ট টিচারদের প্রায় সবাই কোচিং সেন্টার এর।

আসুন আমার টিচারদের গল্প বলিঃ

(১) তখন ক্লাস নাইনে পড়ি, আমাদের কোচিংটি ছিল এলাকার প্রসিদ্ধ কোচিং। দুই যুগ আগেও প্রতি ব্যাচে ৫০-৭০ জন করে ছাত্রছাত্রী। আমাদের থানা এবং আশেপাশের থানার প্রায় সব স্কুলের প্রথম দিককার সব স্টুডেন্ট সেই কোচিং সেন্টার এর ছাত্রছাত্রী! বুঝেন তাহলে, বিষয়টা অনেক বেশী পুরাতন কিন্তু... তো আমাদের কোচিং এ একজন টিচার ছিলেন, ধরা যাক মিঃ রহমান। উনি সুনিসুনির্দিষ্ট কোন ক্লাস নিতেন না, বেশীরভাগ সময় দেখতাম পত্রিকা পড়ে আর কোচিং এর সামনের মাঠে গিয়ে সিগারেট ফুঁকতে। উনি ছিলেন প্রক্সি টিচার, কোন টিচার অনুপস্থিত থাকলে তিনি প্রক্সি দিতেন। তো একদিন আমাদের নিয়মিত ম্যাথ টিচার এবসেন্ট ছিলেন, মিঃ রহমান এলেন ক্লাস নিতে। ক্লাসে ঢুঁকে তিনি জিজ্ঞাসা করে প্রথমে জেনে নিলেন আমাদের ম্যাথ টিচার কোন চ্যাপ্টার করাচ্ছেন। পরে বললেন, "আমি আর মাঝখানে হাত না দেই। এক কাজ কর, এক এক করে বল তো, ম্যাথের কোন চ্যাপ্টার তোমাদের সবচেয়ে কঠিন মনে হয়?" সবাই ঐক্যমতে পৌঁছে গেলাম, "উপপাদ্যের এক্সট্রা" মনে হয় যা যুগে যুগে সকল ছাত্রছাত্রীদের কঠিনতম ম্যাথম্যাটিকস টপিক ছিল। এরপর ঘটলো ম্যাজিক, পরের দেড়ঘন্টায় উনি পুরো ক্লাসকে নিয়ে গেলেন এক রুপকথার জগতে যেন। দেড়ঘন্টা পরে প্রায় বেশীরভাগ ছাত্রছাত্রী উপপাদ্যর এক্সট্রার ভীতিমুক্ত হয়ে মুখে মুখে অনেক প্রব্লেম সলভ করতে শিখে গিয়েছিলাম। স্যালুট স্যার, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক।

(২) দ্বিতীয় যে স্যারের কথা বলবো, উনি ছিলেন প্রথম ঘটনার কোচিং সেন্টার এর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। উনি ক্লাস নিতেন এইচএসসি'র ম্যাথম্যাটিকস এর। পুরাতন ঢাকার এদিকে ঐ সময়ে উনি ছিলেন প্রখ্যাত ম্যাথ টিচার। স্কুল কলেজে যে সমস্যা হয়, দুর্বল স্টুডেন্ট অবহেলিত থাকে, উনি ছিলেন সেই অবহেলিতদের ত্রাণকর্তা। যে মেয়েটি এইচএসসি পড়াকালীন সময়ে ম্যাথ এর নানান টার্ম উচ্চারণ করতে পারতো না, সে ছিল স্যারের ক্লাসের স্ট্যান্ডার্ড সেটিং স্টুডেন্ট। স্যার খুব মায়া মাখা গলায় বলতেন, "আমার এই মামনি যখন বলবে বুঝতে পেরেছে, তখন আমরা নেক্সট টপিকে যাব।" স্যারের এই স্ট্যান্ডার্ড সেটার এর কারনে অনেক সময় আমরা বিরক্ত হতাম, একই বিষয়ে বারংবার আলোচনা শুনে। কিন্তু বছর ঘুরতে একদিন আবিষ্কার করলাম পুরো ক্লাস মুখে মুখে জটিল সব ডিফারেন্সিয়াল আর ইন্ট্রিগাল ক্যালকুলাস প্রব্লেম সলভ করছে, খাতা কলম ছাড়াই।

(৩) নতুন কোচিং, নতুন টিচার, তাও আবার প্রিয় সাবজেক্ট ফিজিক্স পড়াবেন। ক্লাসে ঢুঁকলেন খুব গম্ভীর নাদুস নুদুস গড়নের স্টাইলিশ বেশভূষায় বছর ত্রিশ পয়ত্রিশ এর ভদ্রলোক। পরিস্কার বোর্ড আরেকবার মুছলেন ডাস্টার দিয়ে, নিজের নাম, সাব্জেক্ট, তারিখ এসব লিখে সাঁই করে ডাস্টার ছূড়ে মারলেন উপরের দিকে। অল্পের জন্য ক্লাস রুমের সিলিং এ ঠোক্কর না খেয়ে ঠাস করে মাটিতে পড়লো। এরপর তিনি বলা শুরু করলেন, "আমার হাতে যখন ডাস্টারটি ছিল সে ছিল পারিপার্শ্বিক এর সাপেক্ষ এ স্থির। যখন বল প্রয়োগ করে উপরে ছূড়ে দিলাম, সে গতি প্রাপ্ত হল। আর এই গতি সুনির্দিষ্ট দিকে ছিল বলে তা বেগ হিসেবে গন্য হবে। কিন্তু অভিকর্ষ বলের বিপরীতে গতিশীল থাকার কারনে এই গতি কমতে লাগলো, আর এই গতি কমার হারকে বলা হয় মন্দন। একসময় ডাস্টারটি নীচে নামা শুরু করল, তখন অভিকর্ষ বলের দিকে গতিশীল হাওয়ায় এর বেগ বাড়তে থাকে, এই বেগ বাড়ার হারকে বলে ত্বরণ...." ঝাড়া একঘন্টার লেকচারে তখনকার ইন্টারমিডিয়েট ফিজিক্সের গতি থেকে ধাপে ধাপে চলে এলেন ভেক্টর এনালাইসিস এ... আমি তো মনে মনে সারাক্ষণ ওয়াও, ও মাই গড... বলে বলে অস্থির। সেদিন একটি বিষয় বুঝেছিলাম, "think differently, make differences"

(৪) শেষে যার কথা বলব, উনি হলেন আমার দেখা ফিজিক্স হাব। অনার্স-মাস্টার্স লেভেল এর ফিজিক্স প্রাইভেট পড়াতেন, ছোট্ট একটা এক কামড়ার রুমে। দশজন প্রতি ব্যাচে, ৫০ মিনিট এর ক্লাস। এক ব্যাচ শেষ করে একটা গোল্ডলিফ সিগারেট ধরাতেন, সবাই রুম থেকে বের হয়ে গেলে। সিগারেট শেষ করে ফের পরবর্তী ব্যাচ। যে কোন ব্যাচ যে কোনদিন যে কোন টপিক পড়তে পারতো। ব্যাচ লিডার সবার সাথে কথা বলে ঠিক করে ঢুকতেন কোন টপিক পড়বে আজ। স্যারকে বললে, শুরু হত লেকচার। কি সুন্দর এবং সাবলীলভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে অনর্গল বলে যেতেন আর সাথে লিখে যেতেন সাদা কাগজে দোয়াত কলমে৷কখনো কোন বিষয়ে পড়াতে গিয়ে উনাকে কোন কিছু ভাবতে দেখি নাই, যেন ঠোঁটের আগায় শব্দেরা লেগে থাকতো। কোন বই, শিট কিছুতে চোখ বুলিয়ে নিতে দেখি নাই; তা সে কোয়ান্টাম ম্যাকানিক্সের জটিল থিওরি হোক, হোক থিওরি অব রিলেটিভিটি। ফ্রীল্যান্সার টিচার এর জ্ঞানের পরিধি এবং গভীরতা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম, আর হয়েছিল হিংসে। কারণ? সেই বয়সে যে স্বপ্ন ছিল উনার মত হব বলে....!

তো, হয়নি আমার ফিজিক্স বা ম্যাথম্যাটিকস এ গ্রাজুয়েশন, হয় নাই ডবল মাস্টার্স। হয়তো সেই কারণেই আমি এখন ছাপোষা হিসাবরক্ষক, কোথায় গেল সেই ডবল মাস্টার্স এর স্বপ্ন... =p~ কিন্তু কোচিং সেন্টার এর এই টিচারদের কাছ থেকে বিদ্যা আহরণ এর যে নানান কৌশল দেখেছিলাম, তা কোন একাডেমিক ইন্সটিটিউশন এর টিচারদের কাছ থেকে কিন্তু পাই নাই। সেই কলাকৌশল খুব বিশালাকারে কাজে লেগেছে পরবর্তী জীবনে, আজও কাজে দিচ্ছে। তাই আজ কৃতজ্ঞ চিত্তে শ্রদ্ধার সাথে তাদের স্মরণ করছি। ভাল থাকুন আমার ফ্রিল্যান্সার টিচাররা।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:০৬
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছুটিরদিন বিকেলে বইমেলায়

লিখেছেন তারেক_মাহমুদ, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৮:২৪




গত কয়েকদিন ধরেই বইমেলায় যাওয়ার কথা ভাবছিলাম, অবশেষে ছুটিরদিনে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললাম মেলায় যাওয়ার। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় বইমেলায় উপচে পড়া ভিড়। বিশাল লাইন দেখে বেশ বিরক্তি নিয়েই মেলায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

গরুর দুধের চেয়ে মূত্রের দাম বেশি কলকাতায়! দৈনিক আনন্দবাজার

লিখেছেন নতুন নকিব, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:২৩



ছবি: দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত

গরুর দুধের চেয়ে মূত্রের দাম বেশি কলকাতায়! দৈনিক আনন্দবাজার

বহুদিন আগের কথা, ‘পঞ্চগব্য’ নামে একটি পুজো-উপাচারের নাম শুনেছিলুম। হয়তো অনেকেরই ইহা জানা থাকিবে। মুসলিমরা সবাই না জানিলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদ্ভুত নিষ্ঠুরতা

লিখেছেন উদাসী স্বপ্ন, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:২১




খুব ছোটবেলা থেকেই মাশরুম ক্লাউড নিয়ে একটা ফ্যাসিনেশন কাজ করতো। মাশরুম ক্লাউড মানে নিউক্লিয়ার এক্সপ্লোশনের পর যে মাশরুম ক্লাউড দেখা যায়। মাত্র কয়েক পিকোসেকেন্ডের মধ্যে পার্টিক্যাল ফিজিক্সের একগাদা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল মাহমুদকে নিয়ে সাধারন মানুষ যা ভাবছেন

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ১২:৩০



১। কবি আল মাহমুদ মারা গেছেন। প্রকাশ্যে শোক করতে লজ্জা লাগলে অন্তত মনে মনে শোক করুন। কেননা তিনি এদেশের বিশুদ্ধতম কাব্য প্রতিভা ছিলেন।

২। আল মাহমুদ সরকার বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯ (বইমেলার ১৫তম দিনে ব্লগারদের উপস্থিতির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।)  

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:১২


ক্যামেরার সামনে আছেন ভাই কাল্পনিক_ভালবাসা, নজরবন্দির কারিগর অগ্নি সারথি, ব্লগারদের প্রিয় সঙ্গি নীল সাধু সৈয়দ তারেক ভাই



বায়স্কোপে অটোগ্রাফ দিচ্ছেন কাওসার ভাই, পাশে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×