
ছবি: (সংগ্রহীত )
এখানে রজনীরা অগ্রগামী। সন্ধ্যে সাতটায় কপাট পরে কাছে দুরের অধিকাংশ গৃহদ্বারে।দুচারটে দোকানী অলস সময় কাটায় নিশিরাতের বান্ধা খরিদারের অপেক্ষায়। ছোট ছোট সে আলোগুলো সাক্ষী হয়ে ধলেশ্বরীর বুকে নিয়ে আসে গভীর রাত।মৃদু স্রোতে ভেসে বেড়ানো কচুরীপানা সাক্ষী হয় স্থবীর প্রকৃতির , হঠাৎ সেখানে মাছের ঝাঁপটা সাক্ষী হয় নীরবতার।মাঝে মাঝে ডেকে ওঠা তক্ষক আর ক্রিকেট সাক্ষী হয় ছন্দের।
প্রকৃতির সে ছন্দে হেলে দুলে চলে পাখনাওয়ালা ছোট ছোট জেলে নৌকা। নৌকার ডগায় থাকে বাশের মাথালে ঢাকা হেলোজিন, যেন মাথায় পাগড়ী বেধে তার আলোর গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করছে। নৌকার গলুইতে মাঝি আর মাঝখানে শিকারী।সে হেলোজিনের আলোয়, নৌকার দুপাশে পাখির ডানার মতো করে বাধা “তাড়ানে” এর ছায়া আর বৈঠার শব্দ সব মিলে অদ্ভুত সুন্দর এক দৃশ্যের অবতরণ হয় নদীর জলে।মৎস্য রাজ্যের রূপকথাকে হার মানানো সে ভয়াল চিত্র ছোট মাছকে নৌকায় তাড়িয়ে তুলে আর বড় মাছ ভয়ে দিশেহারা হয়ে শিকার হয় শিকারির ট্যাডায়(একাধিক ফলা যুক্ত বর্শা)।
মাঝে মাঝে সকল নির্জনতাকে খুন করে পাড়াগ্রাম হাটের ইঞ্জিন বোট। তখন নদী তীরের সবাই মনের সকল বিরক্তি নিয়ে তাঁকে অভিসম্পাত করে। পাখিরা ডেকে ওঠে, ব্যঙ্গেরা গান থামিয়ে দেয়, তক্ষকেরা এক মিনিট নিরবতা পালন করে।
ধলেশ্বরীর বুকে শ্রেষ্ঠ রজনী নামে জোছনায়।নদীর উপর চাঁদ আর নদীর জলে চাঁদ,এ চাঁদের সাথে সে চাঁদের মিলন, জোছনার আলোয় বনের ছায়া আর পেঁচাদের চেতনভাঙ্গা আকুতি নদীর কুলকে করে তোলে গৌরবময়।আমি হলফ করে বলতে পারি এই জোছনাভরা নদীতীর প্রতিবার আমাকে কবি হবার মিছে স্বপ্ন দেখিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জুন, ২০১৭ বিকাল ৩:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




