আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগেও বায়তুল্লাহ শরীফে হজ্ব এবং ওমরাহ্ চালু ছিলো ৷ সে যুগে ইসাফ ও নায়েলা নামে এক অবৈধ প্রেমিক জুটি ছিলো ৷ বায়তুল্লাহ শরীফ তাওয়াফ করতে এসে বায়তুল্লাহ শরীফের ভিতরেই তারা অনৈতিক কাজ শুরু করে দেয় ৷ সাথে সাথেই আল্লাহর গজবে তারা পাথরের মূর্তিতে পরিণত হয়ে গেল ৷ মক্কাবাসী তাদের এ কুকর্মের কথা জানতে পেরে ক্রোধে ফেটে পড়ল ৷ একে তো আল্লাহর নাফরমানী, দ্বিতীয়ত তাও আবার বায়তুল্লাহ শরীফের ভিতরে!
.
তারা এই পাথর খন্ডগুলোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ব্যাপারে পরামর্শ করলো ৷ একজন বললো, তাদের একজন কে "ছাফা"এবং অপরজনকে "মারওয়া"পাহাড়ে রাখা হোক ৷ হজ ও ওমরার মধ্যে যারাই "সায়ী "করতে সাফা-মারওয়া পাহাড়দ্বয়ে যাবে তারা তাদের জুতা দিয়ে তাদের কপালে আঘাত করবে ৷ একবারও শরিয়তের বিধিবিধানের চিন্তা না করে তারা নিজেদের মনগড়া এক ব্যবস্থার প্রচলন করলো ৷
.
"সায়ী "করার কথা তো তৎকালীন শরীয়তেও ছিল, কিন্তু জুতা মারাকে "সায়ী"র একটা অংশ হিসেবে তারা দাঁড় করিয়ে দিল ও প্রচলন ঘটালো ৷ ফলাফল এই দাঁড়াল যে, দু'এক প্রজন্ম পর্যন্ত এই পন্থা চালু ছিল বটে, তবে যাদের কাছে জুতা ছিল না, তারা সায়ী করার সময় তাদের গালে চপেটাঘাত করতে লাগলো ৷
.
তাদের পরবর্তী বংশধররা এই দৃশ্য দেখে ভাবতে লাগলো হয়তো তাদের স্পর্শ করাটাই আসল উদ্দেশ্য ৷ তাই তারা এগুলোকে শুধু স্পর্শ করতো ৷
.
তাদের পরবর্তী প্রজন্মের লোকজন মনে করল, তারা হয়তো কোন বুযুর্গ ব্যক্তিই হবেন ৷ তা না হলে লোকজন কেন তাদের স্পর্শ করছে! কিছু কিছু অতি উৎসাহি লোকজন বেশি বরকতের আশায় তাদের চুমোও দিতে লাগলো ৷ কেউ কেউ আবার তাদের কাছে গিয়ে প্রার্থনাও করতে লাগলো!
.
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ইসলাম প্রচারের পূর্বে আরবের মুশরিক ও কাফেরেরা "সাফা-মারওয়া" পাহাড়ে গিয়ে তাদের সিজদাও করতে লাগলো ৷ধাপে ধাপে এভাবেই অজ্ঞ মানুষদের কাছে পাপাচারীরা সম্মানিত হয়ে গেলো ৷
.
যেদিন থেকে মুসলিম শাসনের সূর্য অস্ত হলো, সেদিন থেকেই উপমহাদেশে জাহেলিয়াতের দিন শুরু ৷ আমরা বাঙ্গালীরা যেহেতু সব দিক থেকেই প্রথম হতে চাই, তাই জাহেলিয়াতে পিছিয়ে থাকবো কেন!
.
ইংরেজ শাসনামলে মুসলমানদের প্রথম প্রজম্মকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে ৷ পরের প্রজন্মকে তাদের প্রণীত শিক্ষায় শিক্ষিত করা হয়েছে ৷ তারপরের প্রজন্মের মাঝে গোলামীর মানসিকতা তৈরী করা হয়েছে ৷ পরের প্রজন্মের মাঝে সাম্প্রদায়িকতার বীজ ডুকিয়ে মারামারিতে লিপ্ত করা হয়েছে ৷ এরপরের প্রজন্মের মাঝে ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাব তৈরী করা হয়েছে ৷
.
এভাবে ধাপে ধাপে আমাদেরকে মেরুদন্ডহীন নামের মুসলমান বানানো হয়েছে ৷ এখানে আপনার মেয়েকে ১৮ বছরের আগে চাইলেই যে কেউ ধর্ষণ করতে পারবে, কিন্তু বিয়ে করতে পারবে না ৷
.
আপনার সন্তান রবী ঠাকুর, কীটস সহ বিভিন্ন লেখকদের কবিতা পারে কিন্তু একটা সূরা পারে না! ইংরেজী পড়তে পারে, কিন্তু আরবী পারে না! তার পাঠ্যসূচীতে এসব রাখা হয় নি ৷
.
আপনি দল বেঁধে মিছিল, মিটিং, সিনেমা হলে যেতে পারবেন, তাফসীর মাহফিলে যেতে পারবেন না ৷ আপনার স্ত্রী ঘরে বসে টিভি দেখতে পারবে, এ বাড়ি ও বাড়ি কূটনামী করতে পারবে কিন্তু কারো কাছে গিয়ে একটু কোরআন শিক্ষার তালীম নিতে পারবে না ৷
.
আপনি ইসলামের কোন কথা বলতে গেলেই আপনাকে আপনারই মুসলমানই ভাই বাঁধা দিবে ৷ কারন আইনের কাছে তার হাত-পা বাঁধা ৷ এসব আইন যারা তৈরী করে থাকে প্রত্যেকেই মিথ্যাবাদী, মাতাল, জেনাখোর, সমাজের নিকৃষ্ট পাপাচারী ব্যক্তি ৷ কিন্তু অজ্ঞতার কারনেই তারা আজ আমাদের কাছে সম্মানিত ৷
.
আমাদের অজ্ঞতা দূর করার জন্য পৃথিবীতে আর কোন নবী আসবেন না, কিন্তু তাঁদের ওয়ারিশগণ আছেন ৷ তারা যদি দলাদলি বাদ দিয়ে আমাদের সচেতন না করেন; তাহলে শুধু হাইকোর্টে নয়, অচিরেই বাংলাদেশের প্রতিটি ঘরে ঘরে আমাদের মত অজ্ঞ মানুষেরা এসব নিকৃষ্ট লোকদের মূর্তি তৈরী করে পূজা-অর্চনা শুরু করবে ৷
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




