somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাশি যদি হয়

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৫ বিকাল ৩:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বারবার কাশি হচ্ছে, রাতে কাশি বেশি, কাশতে কাশতে কখনো বমি হয়ে যাচ্ছে, কখনো বা কাশির সঙ্গে গা-হাত-পায়ে ব্যথা। এমনটা তো মাঝেমধ্যেই হয়। লাগাতার সাত-আট দিন কাশি হলে চিন্তা হয় নিশ্চয়ই।

কেন আমরা কাশি?

শরীরকে ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অনেক ব্যবস্থা আছে। সেসব ব্যবস্থারই একটা হলো কাশি। কাশি হলে বুঝতে হয় শরীর সমস্যায় পড়েছে, সম্ভবত সে সমস্যা শ্বাসনালিতে। শ্বাসনালিকে পরিষ্কার করার জন্য আমরা কাশি।

কাশির সময় কী হয়?

নাক ও মুখের পেছন দিকটা এক, সেখান থেকে দুটি নালি আলাদা হয়ে যায় শ্বাসনালি ও খাদ্যনালি। খাবার খাওয়ার সময় যাতে শ্বাসনালিতে খাবার ঢুকে না যায়, তাই শ্বাসনালির শুরুতে একটা দরজা থাকে। কাশির সময় সেই দরজা বন্ধ হয়, ফলে বুকে ফুসফুসের ভেতরে চাপ বাড়ে। এই বাড়তি চাপে হঠাৎ দরজা খুলে গিয়ে ফুসফুসের বাতাস তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসে। তাড়াতাড়ি বাতাস বেরোনোর জন্য কাশির আওয়াজ হয়।

কফ বেরোয় কিভাবে?

কফ আসলে শ্বাসনালির রস। স্বাভাবিক অবস্থায় শ্বাসনালিকে ভিজিয়ে রাখা এর কাজ। শ্বাসনালির ভেতরের আবরণী স্তম্ভ বা থামের আকারের কোষ দিয়ে তৈরি, আর সেই কোষগুলোর ওপরে আছে রোঁয়া বা সিলিয়া। শ্বাসনালিতে রস বা শ্লেষ্মা দুটি স্তরে থাকে-ওপরে তিন ভাগ ঘন জেলির মতো জেল, আর নিচে সাত ভাগ খুব পাতলা সল। সল স্তরে রোঁয়াগুলো ডুবে থাকে আর খাড়া অবস্থায় রোঁয়ার ডগাগুলো ছুঁয়ে থাকে জেলস্তরকে। রোঁয়াগুলো যখন কোনো এক দিকে হেলে যায়, তখন সেদিকে জেলস্তরকে ঠেলে দেয়। শ্বাসনালির রোঁয়াগুলো একদিকেই হেলতে পারে, ভেতর থেকে বাইরের দিকে। ফলে জেলস্তর ফিতের মতো ভেতর থেকে বাইরের দিকে চলে আসে। এই জেলস্তরেই ধুলো আর জীবাণুগুলো আটকে গিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। কফ হলো কাশি হওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্দীপক, অর্থাৎ কফ থাকলে কাশি হয়।

কাশি কোনো রোগ নয়

কাশি কোনো রোগ নয়, অনেক রোগের একটা সাধারণ উপসর্গ হলো কাশি। অনেক রোগে কাশি হয়, যেমন-

* শ্বাসতন্ত্রের জীবাণুসংক্রমণ-নিউমোনিয়া, ব্রংকাইটিস ইত্যাদি।

* শ্বাসতন্ত্রের এলার্জি-যেমন হাঁপানি।

* শ্বাসতন্ত্রের ক্যান্সার।

* শ্বাসনালিতে ধোঁয়া, ধুলো ঢুকলে-ধূমপানে,

ধূলিবহুল কর্ম পরিবেশে।

কাজ থেকে কাশি

যেসব কাজের পরিবেশ ধূলিবহুল, সেখানে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের শ্বাসতন্ত্রে ধুলা ঢোকে। বড় ধূলি কণাগুলো নাকের লোমে আটকা পড়ে, তার চেয়ে ছোট কিছু কণাকে শ্বাসনালির রোঁয়া কফের সঙ্গে বের করে দেয়, একদম ছোট কণাগুলো কিন্তু ফুসফুসের হাওয়ার থলিতে ঢুকে ঘায়ের সৃষ্টি করে। এই রোগগুলোকে একসঙ্গে বলা হয় ডাস্ট ডিজিজেস বা পেশাগত অসুখবিসুখ। যেমন, পোশাক কারখানার একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় বাতাস চলাচল করতে না পারায় এবং অক্সিজেনের অপর্যাপ্ততায় যক্ষ্মার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

কাশি হলে কী করবেন?

* প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন, এতে কফ পাতলা হবে, কফ বের করা সহজ হবে।

* গরম পানির ভাপ নিন। ভাপ শ্বাসনালিতে গিয়ে জলে পরিণত হবে, কফ পাতলা হবে।

* শুকনো কাশিতে গলা খুসখুস করলে হালকা গরম জলে একটু লবণ দিয়ে কুলকুচি করুন। মুখে সাধারণ যেকোনো লজেন্স, লবঙ্গ বা আদা রাখলেও একটু আরাম পাওয়া যাবে।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন

* কাশির সঙ্গে হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট হলে।

* কফের সঙ্গে রক্ত পড়লে।

* কাশতে কাশতে শরীর নীল হয়ে গেলে।

* কথা বলতে কষ্ট হলে।

* দুধের বাচ্চা দুধ টেনে খেতে না পারলে।

* দুই সপ্তাহের বেশি কাশি হলে।

লিখেছেন :
ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক, বক্ষব্যাধি, এম এইচ শমরিতা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ, ঢাকা।

(সংগৃহীত)
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বাধীনতা বলতে আপনি কি বুঝেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০৩


২০২৩ সালের কথা। আমরা কয়েকজন মিলে অনলাইনে একজন ইংরেজি স্যারের কাছে কোর্সে ভর্তি হয়েছিলাম। একদিন ক্লাস চলছে, স্যার হঠাৎ বই থেকে মুখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা ছোটবেলায় যখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৪

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৭ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১৪



বিশেষ দিন গুলো শাহেদ জামালের জন্য কষ্টকর।
যেমন ইদের দিন শাহেদ কোথায় যাবে? কার কাছে যাবে? তার তো কেউ নেই। এমনকি বন্ধুবান্ধবও নেই। তার এমন'ই পোড়া কপাল মেসেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই যে জীবন

লিখেছেন সামিয়া, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:২৪



এই যে আমার জীবনে কিছুই করা হলোনা, সেটা নিয়ে এখন আর খুব বড় কোনো আফসোস করি না। জীবন আসলে নিজের মতোই চলতে থাকে। সকালে ঘুম থেকে উঠি, রান্নাঘরে গিয়ে চায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব পাঠ

লিখেছেন আবু সিদ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

I. পড়ার সাধারণ অর্থ
সাধারণভাবে, পড়া বা Reading হলো লিখিত বর্ণ বা চিহ্ন দেখে তার অর্থ উদ্ধার করার উপায়। পড়া কেবল শব্দ উচ্চারণ নয়, বরং লেখার বিষয়বস্তুর সাথে নিজের চিন্তার যোগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এঁনারা কিসের আশায় দালালি করে যাচ্ছেন?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৮ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:০৫



১. ১৫ আগস্ট টাইপ কিছু বা ৭ নভেম্বর টাইপ কিছু না ঘটলে আওয়ামী লীগ সহসা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। জুলাই-এর মত কিছুও বার বার হয় না। তাই ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×