হ্যাকিং এর দু'টো জনপ্রিয় ব্যাবস্থা হলো পাসওয়ার্ড চুরি করা ও নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ভেঙ্গে ঢুকা। আগেই বলেছি নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ভেঙ্গে কোন সিষ্টেমে প্রবেশ করতে হলে আপনাকে নেটওয়ার্কি, প্রোগ্রামিং ও সিষ্টেম সম্পর্কে বিশাল ধারনা অর্জন করতে হবে। সুতরাং সেসব নিয়ে আমরা আস্তে ধীরে এগুবো। আপাতত কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ না হয়েও কিভাবে হ্যাকিং করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করবো।
একটা সময় ছিল যখন হ্যাকাররা কাউকে ফোন করে কৌশলে জেনে নিত তার পাসওয়ার্ড। যেমন ফোন করে বললো, আমি অমুক ব্যাংকের সিষ্টেম এডমিন। আমাদের সিষ্টেমে একটু সমস্যা হওয়াতে আমরা ক্লায়েন্টদের সকল ডেটা ম্যানিয়ালি সরিয়ে নিচ্ছি অন্য সার্ভারে। দয়া করে আপনার পাসওয়ার্ডটি বলবেন কি? বেশীর ভাগ মানুষই এই কথার মাঝে যে যে টেকনিক্যাল ফাঁকি টা রয়েছে ধরতে পারবে না। 15/20 জনকে এই সিষ্টেমে ট্রাই করে দেখা যেতো কম পক্ষে 4/5 জন পাসওয়ার্ড বলে দিচ্ছে। তারপর কি হবে তাতো বুঝতেই পারছেন। এরকম হাজারো টিপস রয়েছে.. যা পরিস্থিতি বুঝে আপনাকে বের করে নিতে হবে। যদিও এগুলো আসলে হ্যাকিং না.. ধোঁকাবাজি বলতে পারেন, যা আসলে অনুচিত।
আরেকটি পদ্ধতির কথা বলি। কি-লগার বা কি-স্ক্যানার নামে কিছু প্রোগ্রাম পাওয়া যায়। এগুলো যে কম্পিউটারে একবার সেটাপ করা হয়, সেই কম্পিউটারের কিবোর্ডের যা টাইপ করা হবে, তা সব লগ করে রাখবে.. এবং আপনার মেইল একাউন্টে মেইল করে দিবে। এখন ধরুন আপনি আপনার পরিচিত একজনকে হ্যাক করতে চান। কি করতে হবে বুঝতেই পারছেন... তার কম্পিউটারে কোভাবে এরকম একটি প্রোগ্রাম সেট করার ব্যাবস্থা করতে হবে। সেটি যে উপায়েই হোক। অথবা আরো চমৎকার কিছু বুদ্ধি অবলম্বন করা যায়। আপনি যাকে হ্যাক করতে চান, তার গতিবিধি লক্ষ করবেন। সে কোন সাইবারে যায়, অথবা আপনার পরিচিত কোন ব্যাক্তির কম্পিউটার থেকে নেট ব্যাবহার করে কিনা.. তারপর সেইসব পিসিতে গিয়ে কি-লগার, স্পাইওয়্যার ইত্যাদি লাগিয়ে দিয়ে আসুন.... বাকীটা সম্ভবত আর বলার প্রয়োজন নেই।
আপনি যখন এমএসএন অথবা ইয়াহু অথবা কোন সাইটে পাসওয়ার্ড রিমেম্বার অপশন ব্যাবহার করছেন, তখন এটি আপনার সিষ্টেমে পাসওয়ার্ডটি জমা করে রাখে। কিছু হ্যাকিং টুল আছে যা এসব পাসওয়ার্ডকে খুঁজে বের করে আপনাকে মেইল করে দিতে পারবে। আপনাকে শুধু কোন না কোন ভাবে টার্গেটের ব্যাবহৃত পিসিতে এসব সেটাপ করে আসতে হবে।
তবে এভাবে যদি বন্ধুদেরকে হ্যাক করতে চান, তা করবেন শুধুই মজার জন্য। পাসওয়ার্ড পেয়ে গেলে তাকে শুধু জানিয়ে দেবেন যে তার পাসওয়ার্ড আপনি জানেন.. এবং তা যেন সে পরিবর্তন করে নেয়। কারন শুধু মাত্র মজার জন্য বিশ্বাস নষ্ট করাটা অনৈতিক। আসলে হ্যাকিং এর পুরো ব্যাপারটাই অনৈতিক যদি তা খারাপ উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে।
এই পর্ব পড়ার পর এখুনি হুট করে হ্যাকিং টুল ডাউনলোড করে হ্যাকিংয়ে নেমে যাবেন না দয়া করে। এসব হ্যাকিং টুল ব্যাবহার করতে হলে টুলগুলো সম্পর্কে জেনে করতে হয়। আমি বেশ কিছু টুল সম্পর্কে সামনের পর্বগুলোতে ধারনা দেয়ার চেষ্টা করবো। সেই পর্যন্ত ধের্য্য ধরুন। আর এখন যা জানলেন, তা আপনাকে এইসব উপায়ে হ্যাক হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করবে নিশ্চিত ভাবে। লেখাগুলো আসলে সেই উদ্দেশ্যেই লিখছি।
সবাই ভাল থাকুন, নিরাপদে থাকু।
------------------
9:32 PM 26/01/2007 11131
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


