অতিথি আপ্যায়নের অন্যতম উপকরন পান। বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্র অর্জন করা যেতে পারে। দেশের সব ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে পানের গুরুত্ব রয়েছে সবার কাছে। আদিকাল থেকেই সর্বস্তরে ‘পান-তামাক’ প্রথা প্রচলিত ছিল। বর্তমান আধুনিক যুগে তামাকের বিলুপ্তি ঘটলেও পানের কদর কমেনি। বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন থেকে বিচার বৈঠক সর্ব ক্ষেত্রেই পান সমভাবে প্রচলিত রয়েছে। গন্যমান্য ব্যক্তি কিংবা মুরব্বীদের সামনে ধুমপান করা বেয়াদবীর সামিল মনে করা হলেও পান খাওয়ায় কোন দূষনীয় মনে করেনা কেউ। মুসলমান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিয়ের প্রথম পর্বে অনুষ্ঠিত হয় ‘চিনি-পান’ ও ‘খিলি পান‘ অনুষ্ঠান।
বাংলাদেশে সাধারনত ৫ প্রকার পান উৎপন্ন হয়ে থাকে। এর মধ্যে খাসিয়াপান উৎপাদিত মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পাহাড়ী এলাকায় খাসিয়া পুঞ্জিতে। তাছাড়া পানের বরজ করেও বারই সম্প্রদায় মিটাপান ও সাচি পানের চাষ করে থাকে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মুন্ডাপান ও বরিশালী পান উৎপাদিত হয়। দেশের উৎপাদিত পানের মধ্যে বিদেশে রপ্তানী যোগ্য পান একমাত্র খাসিয়া। যা সহজে পচন ধরেনা এবং খেতেও আলাদা স্বাদ। খাসিয়া পান অবশ্য মৌলভীবাজার জেলা ছাড়াও সিলেটের জয়ন্তিয়া পাহাড়ে উৎপাদিত হয়। তবে উল্লেখযোগ্য উৎপাদনের Ëেত্র মৌলভীবাজার জেলার প্রায় অর্ধ শতাধিক পুঞ্জি। জেলার উৎপাদিত পান বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও খাসিয়া সম্প্রদায়ের তেমন উন্নয়ন করা হয়নি।
উপজাতি খাসিয়া সম্প্রদায়ের আদিপেশা পান চাষ। গহীন অরন্যে বড় বড় গাছে পান চাষ করে থাকে। পতিত বনভুমিকে লীজ এনে পান চাষের উপযোগী করা হয়। পান পুঞ্জি ঘুরে ও খাসিয়া মন্ত্রীর সাথে আলাপ করে জানা যায়, সরকারের কাছ থেকে পাহাড়ী জায়গা বিধি মোতাবেক লীজ নিয়ে পান চাষের উপযোগী করতে বড় বড় গাছ নির্বাচন ও ছাটাই করা হয়। গাছের নীচ ও ডালপালাকে কেটে পরিস্ড়্গার করতে হয়। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পানের চারা রোপন করা হয় যাতে ছাটাই করা গাছে পান বেয়ে উঠতে পারে। পানের চারা রোপনের অল্প দিনেই লতানো পান পাশের গাছকে আকঁড়ে ধরে বেড়ে উঠে। মৌসুমে লতানো পান গাছে অনেক বড় বড় পান হয়ে থাকে। তবে বছরের ১২ মাসই খাসিয়া পান উৎপদিত হয়। পান চাষের উপযোগী এলাকায় খাসিয়ারা টিলার উপর ঘর বেঁেধ সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করে। তাদের সমাজের কর্তা ব্যক্তিকে মন্ত্রী বলা হয়। একখন্ড পাহাড়ী ভুমিতে পানচাষ ও বসবাসের স্থানকেই পুঞ্জি বলা হয়। একটি পুঞ্জিতে কমপ ে৫০ থেকে ২‘শ খাসিয়া পরিবার বাস করে। পুঞ্জির সব বিচার বৈঠক থেকে বিয়ের আচার অনুষ্ঠানসহ প্রশাসনের সাথে সব ধরনের যোগাযোগ রা করেন মন্ত্রী। মন্ত্রীর সব খরচ খাসিয়ারা ‘কর’ হিসাবে প্রদান করে থাকে। খাসিয়া সম্প্রদায় নারী কেন্দ্রীক। পরিবারের পুরুষদের তেমন কোন ভুমিকা থাকেনা। আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও পরিবার পরিচালনার দায়িত্ব নারীদের উপর। পুরুষরা কাজকর্ম করলেও নিজেদের পকেট খরচের টাকা চেয়ে নিতে হয় স্ত্রীর কাছ থেকে।
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল,কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলায় প্রায় অর্ধ শতাধিক খাসিয়া পুঞ্জি রয়েছে। এসব পুঞ্জিতে উৎপাদিত পান শ্রীমঙ্গল এনে পাইকারী বিক্রি করা হয়। সপ্তাহের রোবরার ছাড়া ৬ দিন খাসিয়া পান পাইকারী বাজার বসে। তাছাড়া আড়তেও বিক্রি করা হয়। ক্রেতারা পান ক্রয় করে ট্রাক বোঝাই করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যায়। তাছাড়া বিদেশে রপ্তানীর জন্য পান ঢাকায় সরবরাহ করা হয়। খাসিয়াদের কঠুর শ্রমে খাসিয়া পান চাষ করা হলেও খাসিয়া সম্প্রদায়ের ভাগ্যের তেমন কোন উন্নয়ন করা হয়নি। অধিকাংশ পুঞ্জিতে রয়েছে হাজারো সমস্যা। পৃষ্টপোষকতার অভাব ছাড়াও জমি লীজ নিয়ে রয়েছে নানা জটিলতা। বর্তমান দেশের জরুরী অবস্থায় খাসিয়াদের পাহাড়ী ভুমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য চেষ্টা করছে প্রভাবশালী মহল। তারা উচ্ছেদ আতঙ্কে রয়েছে বলে জানা যায়।
খাসিয়াদের সমস্যা নিরসনসহ প্রয়োজনীয় পৃষ্টপোষকতা পেলে মৌলভীবাজার জেলার উৎপাদিত খাসিয়া পান বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে বিপুল পরিমান রাজস্ব ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপরে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






