বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সংগঠনের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ফলে চা শ্রমিকদের দাবী দাওয়া আদায় প্রক্রিয়া মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। বিগত জোট সরকারের শেষ সময়ে এসে চা শ্রমিকদের দলীয় মুখি করতে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের পুত্র নাসের রহমানের ইন্ধনে চা শ্রমিকদের মধ্যে আভ্যন্তরীন দ্বন্ধ সৃষ্টি করার ফলে শ্রীমঙ্গলস্থ ইউনিয়নের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের ভবিষ্যত হুমখীর সম্মুখিন হয়ে পরেছে। বাংলাদেশ চা শ্রমিকদের সকল সমস্যার সাথী শ্রমিক ইউনিয়ন ২ বছর পরপর বাগান মালিক সংগটন বাংলাদেশীয় চা সংসদের সাথে মজুরী ও অন্যান্য সুবিধাদির বিষয়ে দ্বিপাকি চুক্তি করে থাকে। বাগান মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক স্থাপনে অগ্রনী ভুমিকা পালন করে ইউনিয়ন। কিন্তু বিগত জোট সরকারের শেষ প্রান্তে চা শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটির প্রত্য নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের বিদ্রোহী গ্রুপ সভা সমাবেশ থেকে সদর দপ্তর দখল করতে রক্তয়ী ঘটনার জন্ম দেয়। এক পর্যায়ে ইউনিয়নের ১৫০ জন কর্মকর্তা কর্মচারীকে বিতাড়িত করার প্রক্রিয়া শুরু করে। গতবছর ৮মে জোট সরকারের দলীয় ক্যাডার ও পুলিশের সহায়তায় অবৈধ ভাবে শ্রমিক ইউনয়নের সদর দপ্তর দখল করা নিয়ে রক্তয়ী সংঘর্ষ ঘটে। এদিন প্রায় ১৫/১৬ জন মহিলা শ্রমিক ক্যাডার বাহিনী ও পুলিশের হাতে আহত হয়। এদিনের ঘটনার সচিত্র প্রতিবেদন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও স্থানীয় পত্রিকায় তাৎনিক প্রকাশ হলেও ইউনিয়নের সমস্যার কোন সমাধান হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে চা শ্রমিকদের ভোটারদের দলীয় মুখী করতে সাবেক অর্থমন্ত্রীর পুত্র নাসের রহমানের(বর্তমানে কারাগারে) ইন্ধনে চা শ্রমিকদের মধ্যে আভ্যন্তরীন দ্বন্ধ সৃষ্টি করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালান হয়। এসব কাজে বিদ্রোহী চা শ্রমিক নেতা কালীঘাট ইউপি চেয়ারম্যান পরাগ বারই, রাজঘাট ইউপি চেয়ারম্যান মাখন লাল কর্মকার সঙ্গী শ্রমিক নিয়ে শ্রীমঙ্গলের ক‘জন জোট সরকারের ক্যাডার ও পুলিশ শত শত পথচারীর সামনে নিরিহ মহিলা শ্রমিকদের লাঠি চার্জ করে ইউনিয়নের সদর দপ্তরের তালা ভেঙ্গে দখল করে। সন্ত্রাসী কর্তৃক সদর দপ্তর দখল করাকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন কর্তৃপ ও বিদ্রোহী শ্রমিকরা পৃথক পৃথক মিটিং, মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করে। এতে শ্রমিকদের মধ্যে প েবিপ েউত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সদর দপ্তর দখল মুক্ত করার দাবীতে চা শ্রমিকরা বাগানে কর্মবিরতী পালন করলেও কোন সুরাহা হয়নি। এক পর্যায়ে জাগছড়া চা বাগানের বিদ্রোহী শ্রমিক নেতা শিউধনি কুর্মী ইউনিয়নের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে প্রভাবশালী ৬ শ্রমিক নেতার বিরোদ্ধে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় ইউনিয়নের সভাপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ বুনার্জি সহ ৩ জনকে গ্রেফতারের ক‘দিন পর তারা জামিনে বেরিয়ে আসেন। অপরদিকে অবৈধ ভাবে সদর দপ্তর দখল করে বিদ্রোহীরা শ্রমিকদের প েনেবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ইতোমধ্যে বিদ্রোহীরা নিজেদের মধ্যে এডহক কমিটির নামে মতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা চালালেও শ্রম মন্ত্রনালয় তা অনুমোদন করেনি। এদিকে ইউনিয়নের সদর দপ্তর নিয়ে সাবেক কমিটি আদালতে মামলা করে। বিন্তু জোট সরকারের নেতাদের অদৃশ্য ইশারায় তা খুব বেশী এগুতে পারেনি। তবে ইউনিয়নের সদর দপ্তর ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আদালত। কিন্তু আদালতের আদেশ অমান্য করে বিদ্রোহীরা সদর দপ্তর দখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমতাবস্থায় চা শ্রমিকরা পড়েছে বিপাকে। তাদের দাবী দাওয়া আদায় চুক্তির নবায়ন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নের ১৫০ কর্মকর্তা ও কর্মচারী দীর্ঘ ১ বছর থেকে বেতন ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
বৈদেশীক মুদ্রার্জনের কারিগর চা শ্রমিকদের সংগঠন “বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন”এর সদর দপ্তরকে দখলমুক্ত করে শ্রমিকদের দাবী দাওয়া ও সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে প্রয়োজনীয় পদপে গ্রহন অতিব জরুরী বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






