somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১২ একর ১২ বিগা ১২ পোয়া ১২ ছটাক - ঐতিহাসিক দিঘী

২৬ শে মে, ২০০৭ সকাল ১১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্যাপ্ত পৃষ্টপোষকতা ও রক্ষনাবেনের অভাবে হাড়িয়ে যেতে বসেছে প্রাচীন ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র কমলা রানীর দিঘী। ঐতিহাসিক এ নিদর্শনটিকে নিয়ে রয়েছে জীবন্ত লোকগাঁথা ইতিহাস। ১২ একর ১২ বিগা ১২ পোয়া ১২ ছটাক জায়গার উপর এ দীঘির অবস্থান। দেশী,বিদেশী পর্যটকদের জন্য আকর্ষনীয় স্থান হিসাবে পরিছিতি থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কমলা রানীর দিঘীটি রয়ে গেছে অবহেলিত। সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা পেলে কমলা রানীর দিঘীকে প্রাচীন ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা সম্ভব।
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার দুরে উত্তর দিকে অবস্থিত কালের সাক্ষী কমলা রানীর দিঘীকে ঘিরে রয়েছে কিংবদন্তির জীবন্ত লোকগাঁথা ইতিহাস। পর্যাপ্ত পৃষ্টপোষকতা ও রনাবেনের অভাবে এ ঐতিহাসিক নিদর্শনটি দীর্ঘদিন থেকে রয়ে গেছে অবহেলিত। সরকারী পৃষ্টপোষকতা পেলে দিঘীটি এবং ততসংলগ্ন এলাকা একটি আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারতো। কথিত আছে ১৫৪০-৪৫ খ্রীষ্টাব্দে শেরশাহ শাসনামলে তার রাজ্যের অন্তর্গত ছিলো গোটা রাজনগর এলাকা। পরবর্তীতে তার নামকরণে রাজনগর নামের উতপত্তি। ১৫৮০ খ্রীস্টাব্দে ভানু নারায়নের অবর্তমানে তার জ্যেষ্ঠ পুত্র সুবিদ নারায়ন উত্তরাধিকার সূত্রে এ রাজ্যের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন। তার স্ত্রী অপরূপা ’কমলা’ রানীর ৫ পুত্র ও ৩ কন্যা সন্তান ছিলো। প্রজাবতসল, সমাজ সংস্ড়্গারক রাজা সুবিদ নারায়ন এক রাতে স্বপ্নে দেখেন, তার এলাকায় দীঘি খনন করতে হবে। স্বপ্নে দেখা অনুযায়ী দীঘি খননের প্রথম দিন মাটিতে কোদালের ছোঁয়া দানকারীকে রানী একটি স্বর্ণের হার উপহার দেন।
দীঘির অবস্থান ধরা হয় ১২ একর ১২ বিগা ১২ পোয়া ১২ ছটাক জায়গা। দীঘির কাজ সম্পূর্ণরূপে শেষ হওয়ার পর দীঘিতে পানি উঠছে না দেখে রাজা সুবিদ নারায়ন বিস্মিত হয়ে পড়েন। এর কিছুদিন পরই রাজা পুনরায় স্বপ্নে দেখেন, কমলা রানী যদি দীঘিতে গঙ্গা দেবীর পূজা করেন তাহলে পানি উঠবে। রাজার কথামতো রানী সম্মতি প্রদান করলেন। পন্ডিতগণের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রানী পূজা সম্পন্ন করতে দীঘিতে পা রাখতেই ততনাত শুরু হলো পানি ওঠা। এক সময় কমলা রানী পানিতে ডুবে গেলেন। জনশ্রুতি রয়েছে রানীর বাবা-মা বিলম্বে আসার কারণে গঙ্গা দেবী পুনরায় রানীকে পানির ওপর কিছুনের জন্য ভাসিয়ে ছিলেন। রাজা রানীকে হারিয়ে শোকার্ত হয়ে যখন দিকভ্রান্ত, তখন এক রাতে স্বপ্নে দেখেন, রানী রাজাকে বলছেন, প্রতিদিন সূর্যোদ্বয়ের সময় আমার দু’সন্তানকে ঘাটে নিয়ে আসবে। আমি তাদের দুধ পান করাব। কিন্তু শর্ত হচ্ছে ১২ বছরের মধ্যে আমাকে তুমি স্পর্শ করতে পারবে না। তাহলে আমাকে আবার ফিরে পাবে। রানীর কথামতো প্রতিদিনই রাজা দু’সন্তানকে নিয়ে দীঘির পাড়ে আসেন এবং রানী সন্তানদের বুকের দুধ পান করাতেন। রাজা দুর থেকে রানীকে অবলোকন করতেন। একদিন রাজার ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটে। রাজা রানীর শাড়ীর আঁচল ধরলেন। ততনাত রানী লাফ দিয়ে দীঘিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং বলতে থাকেন আমি আর দীঘিতে থাকব না। এর পরপরই একটি নৌকা ভেসে ওঠে। রাজা নৌকার মধ্যে রানীকে দেখে কমলা বলে চিতকার শুরু করেন। তখন রানী বলতে থাকেন আমি এ দীঘি থেকে চলে যাচ্ছি। সে সময় ভেসে ওঠা নৌকাটিও পানির নীচে তলিয়ে যায়। তারপর থেকে কমলা রানীকে রাজা দেখতে পাননি। পরবর্তীতে শোক বেদনায় জর্জরিত হয়ে রাজারও অন্তর্ধান হয়। রাজার দু’সন্তানের কথা ইতিহাসের পাতায় কি অবস্থায় ছিল, তা কারোর জানা নেই। জনশ্রুতিতে জানা যায়, রাজার দুই পুত্রের মৃত্যু হয়েছিল কমলা রানীর অন্তর্ধানের পরপরই। কমলা রানীর এ কাহিনী আজো মানুষের মুখে মুখে ইতিহাসের গল্প রুপকথা কথার মতো ফুটে উঠেছে।
কৌতুহল উদ্দীপক দর্শণার্থী এ দীঘির পশ্চিম পাশে অবস্থিত হযরত শাহজালাল (রঃ) এর অন্যতম সফর সঙ্গী ও ৩৬০ আউলিয়ার একজন শাহ কুতুব উদ্দিন (রঃ) চির নিদ্রায় শায়িত রয়েছেন। তার মাজার মোবারক জিয়ারতের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে ভক্ত মুরিদগণের সমাবেশ ঘটে। মাজারের দনি পাশে একটি জামে মসজিদ, মাজার অফিস ও মহিলাদের জন্য নির্ধারিত নামাজের স্থান রয়েছে। পর্যাপ্ত অর্থাভাবে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ ও রণাবেণের ব্যবস্থা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না। তাছাড়াও কমলা রানীর দীঘির দনি পাড়ে সুপ্রাচীন স্থাপনার ভগ্নস্তুপ রাজা সুবিদ নারায়নের রাজত্বকালের স্মৃতি চিহß আজো পুরাকীর্তিটি সম্পূর্ণ অরতি অবস্থায় পড়ে আছে। পশ্চিম পাড়ে মুল ঘাটের উপরে পুনরায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন ভাবে নির্মিত হওয়ায় মুল ঘাটের স্থাপত্য শৈলী বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমান ঘাটের চেয়ে মুল ঘাটটির আয়তন এবং সিঁড়ির সংখ্যাও ছিল অনেক বেশি। হযরত শাহ কুতুব উদ্দিন (রঃ) বার্ষিক জলসা ৬ ফালগুন অনুষ্ঠিত হয়। জলসাতে প্রচুর ধর্মানুরাগী ও ভক্তদের আগমন ঘটে। সে কথিত দীঘিতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী কাদির মিয়া পরিকল্পিত মতস্য চাষ করছেন। প্রচুর মতস্য প্রতিবছর উতপাদন হচ্ছে।
হযরত শাহ কুতুব উদ্দিন (রঃ) এর দরগাহের খাদেম জানান, কমলা রানীর মৃত্যুর পর রাজা সুবিদ নারায়ন সম্ভবতঃ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। দীঘির পশ্চিম পাড়ে রাজা ও তার দুই পুত্র সন্তানের কবরের ধ্বংসস্তুপ রয়েছে। অনেক ইতিহাস ঐতিহ্য বহন করে যাচ্ছে কথিত কমলা রানী দীঘি ও হযরত শাহ কুতুব উদ্দিন (রঃ) এর মাজার শরীফ। কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থাভাবে তার নিজস্ব ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তারপরও আশা করা হচ্ছে এখানে গড়ে উঠতে পারে দর্শণার্থীদের জন্য একটি মনোরম পিকনিক ও পর্যটন কেন্দ্র। সরকারী ভাবে উদ্যোগ গ্রহন করলে দেশজুড়ে দর্শণার্থীর মুখে মুখে ঐতিহ্যের পরিচয় বহমান থাকত, পাশাপাশি সরকারও পেতো বিপুল পারমান রাজস্ব। এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কতৃপরে পদপে প্রয়োজন বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০০৭ দুপুর ১২:৩৮
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা! ছবি।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০০

কত দিন হয়ে গেলো....................


এ মাসেতো একটাও পোস্ট দেওয়া হলো না........................


ইদে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কিছু ছবি তুলেছিলাম।







আজকের ছবি ব্লগে থাকছে সেই ছবিগুলো।








---------------------------------------------------
































---------------------------------------------------------------



















------------------------------------------------------------------






















... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৩

মেট্রোরেল পুরো বাংলাদেশের জন্য শান্তির বিষয়।
শুধু মেট্রোরেল না পদ্মাসেতুও। দারুণ এক কাজ হয়েছে। আগে মতিঝিল থেকে মিরপুর বা উত্তরা যেতে খবর হয়ে যেতো। তিন ঘন্টার বেশি সময় লাগতো। এখন মুহুর্তেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারণে অকারণে ছবি

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

আমি ছবি তুলি। পরে সেগুলো দেখি। বেশ ভালো লাগে। ফোনের স্টোরেজ এ আজ দেখলাম মোট ছবি ৬৮৯৩ টি। ব্লগে কখনোই ছবি দিয়ে লেখা হয়নি। আজ মাইদুল ভাইয়ের লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ বাবার প্রত্যাবর্তন

লিখেছেন সামিয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:০৩



একটা মাস হয়ে গেল।
ইউনাইটেড হাসপাতালের সিসিইউর সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে সময়ের হিসাব হারিয়ে ফেলেছে রিপা। দেয়ালে ঝোলানো ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে, নার্সরা ডিউটি বদলাচ্ছে, ডাক্তাররা আসছেন, যাচ্ছেন। শুধু একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×