বিভিন্ন সমস্যার কারনে দেশ বিদেশে সুপ্রসিদ্ধ সুগন্ধি আগর ও আতর শিল্পকে বিলুল্পিতর হাত থেকে রা করতে সরকার বাস্তবমুখী উদ্যোগ গ্রহন করেছে। সুগন্ধি আগর ও আতর মোগল আমল থেকে সুনাম ও সমাদর সর্বত্র থাকালেও নানা প্রতিকুলতার কারনে আগর চাষ প্রায় শুন্যের কোটায় পৌছে। ব্যক্তি উদ্যোগে একমাত্র মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার সুজানগরে এ শিল্প কোনভাবে ঠিকে আছে। আগরের চাষাবাদ বৃদ্ধি ও এ শিল্পকে রায় সরকারী উদ্যোগের ব্যাপারে দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখালেখির পর অবশেষে সরকার এ দিকে দৃষ্টি দিয়েছে। আতর তৈরীর প্রধান উপাদান আগর গাছ বনায়ননের কার্যক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বিলুপ্তির হাত থেকে এ শিল্পকে রার সরকারী প্রয়াস চালানো হচ্ছে বলে বনবিভাগ সুত্রে জানা যায়। ৫ বছর মেয়াদী প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারীভাবে আগর চাষের কাজ শুরু করা হয়েছে গত ২০০০ সালে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ৪০ বছরের মধ্যে আগর বিলুপ্তির আশংকা কেটে যাবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। আগর চাষ প্রকতল্পের কাজ ইতোমধ্যে সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার, সিলেট ও হবিগঞ্জের ১১ টি পাহাড়ী এলাকায় বনায়ন করা হয়ে গেছে। ১১ টি পাহাড়ী এলাকার ৩৫২ হেক্টরের মধ্যে ৩১৫ হেক্টরে ৩ লাখ চারা রোপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট ৩৪ হেক্টরে বনায়ন করা হবে আগামী বছরের মধ্যে। আগর চাষের ঐতিহাসিক তথ্য অনুন্ধানে জানা যায়, সুগন্ধি আতরের নির্যাসের প্রধান উৎস আগরের চাষ করা হতো মোগল আমল থেকে। পাহাড়ী এলাকায় আগরের গাছ কখন, কিভাবে, কে রোপন কিংবা আবিষ্ড়্গার করেছিল তার কোন সুস্পষ্ট তথ্য জানা যায়নি। আগর গাছের ইংরেজী নাম (অয়ড়রষধৎধ ধয়ধষষড়যধ) একোলিয়ারা একোলোহা। ৫ বছরে ৬০/৭০ ফুট উঁচু আগর গাছ পুর্নাঙ্গতা লাভ করে। মোগল আমলে দেশ বিদেশের সম্রাটদের দূতের আগমন ঘটতো সুজানগরে। আগরের নির্যাস থেকে প্রাপ্ত আতরের একমাত্র উৎপাদন স্থল ছিল মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার সুজানগর। দেশে বিদেশে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও পৃষ্টপোষকতা, কাঁচামাল ক্রয়ে জটিলতা ও সরকারী উদ্যোগের অভাবে আগর শিল্প বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে এসে পৌছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, দোবাই, আরব আমিরাত, সৌদিসহ বিভিন্ন দেশের আতরের চাহিদা রয়েছে।
প্রায় আড়াই’শ বছর আগে সিলেট বিভাগে আগর চাষের কথা শুনা যায়। কিন্তু নানা সমস্যা ও পৃষ্টপোষকতার অভাবে ১৯৪৭ সালে এ শিল্প প্রায় বিলুপ্তির দ্বারে এসে পৌছে। তখন থেকে বিদেশ থেকে আগর গাছ আমদানী করে কোনভাবে ঠিকিয়ে রাখার আপ্রান চেষ্টা করেন কিছু আগর চাষী। পাকিস্তান শাসনামলে সরকারীভাবে সিলেট বিভাগে আগর চাষের উপর একটি জরীপ চালিয়ে পুস্তিকা প্রকাশ পর্যন্ত থাকে সীমাবদ্ধ । কোন উন্নয়নের ভুমিকা না নেওয়ায় অবহেলিত হয়ে পড়ে আগরশিল্প। ১৯৭১ সালে দেশস্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমান ও এইচএম এরশাদ ও ১৯৯১ সালে তৎকালীন বিএনপির প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগর চাষীদের সমস্যার কথা শুনলেও এ শিল্পের উন্নয়ন ও বিস্তারের কোন উদ্যোগ নেননি কেউ। ১৯৯৪-১৯৯৫ সালে প্রথম আগরের গুরুত্ব অনুধাবন করে পরীামুলক চাষের উদ্যোগ নেয় বনবিভাগ। এ সময় ২ হাজার ৫’শ আগরের চারা রোপন করা হয় শ্রীমঙ্গল উপজেলার মাগুরছড়া ও লাঠিটিলা পাহাড়ে। ১৯৯৬ সালে সরকার এ দিকে দৃষ্টি দেওয়ার পর প্রাথমিক ভাবে ৫ হাজার আগর চারা লাগিয়ে বনায়নের কাজ শুরু করা হয়। ৫ বছরে এর সফলতা দেখে ২০০০ সালে ৫ বছর মেয়াদী একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। আতরের কাচাঁমালের স্বল্পতা ও আগর বিলুপ্তি রোধে সরকার কর্তৃক প্রকল্পের মেয়াদ প্রায় শেষ। এ পর্যন্ত ১১ টি পাহাড়ী এলাকার ৩৫২ হেক্টরের মধ্যে ৩১৫ হেক্টরে ৩ লাখ চারা রোপন করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৩৪ হেক্টরের মধ্যে চারা রোপনের কাজ আগামী বছরের মধ্যে শেষ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে। সিলেট বিভাগের মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার লাউয়াছড়া, মাগুরছড়া, তারাকান্দি, বড়লেখা ও জুড়ী, হবিগঞ্জের সাতছড়ি, চুনারুঘাট, রঘুনন্দন ও কালেঙ্গা, এবং সিলেটের কাদিম পাড়া পাহাড়ী এলাকায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ লাখ আগরের চারা রোপন করা হয়েছে। আগরের জন্য সিলেট ছিল সুপরিচিত সেই প্রাচীন কাল থেকে। রোপিত একটি আগর গাছ ৫ বছরে আগর সমৃদ্ধ হয়ে থাকে। সৌদি, কাতার আরব আমিরাত থেকে ব্যবসায়ীরা সিলেট তথা মৌলভীবাজার আসতেন আতর ও কাচাঁমাল ক্রয় করতে। সরকারী ব্যবস্থাপনা না থাকলেও ব্যক্তি উদ্যোগে আতরের কারখানায় আগর থেকে আতরের নির্যাস সংগ্রহ করা হতো। অতিতে আগর সমাদৃত হলেও পৃষ্টপোষকতার অভাবে তা ক্রমশ বিলুপ্তির দ্বার প্রান্তে এসে পৌছে। বর্তমানে দেশের আগরের নির্যাস থেকে আতরের কারখানা রয়েছে বড়লেখার সুজানগরে ও সিলেটের কাদিমনগরে। এরমধ্যে সুজানগরে রয়েছে ৩০০ টি আগরের কারখানা। এখানে ব্যক্তি উদ্যোগে আগরের চাষও করা হচ্ছে। সরকারীভাবে এখনও কোন আগরের কারখানা করা হয়নি। বড়লেখার সুজানগরের আতরের কারখানা থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৪ হাজার তোলা আতর সংগৃহিত হয়। যার বাজারমুল্য ৫ কোটি টাকা বলে আতর কারখানার মালিকরা জানান। আগর চাষীরা মনে করেন আগর চাষে সরকার আরও উদ্যোগ নিলে এবং পৃষ্টপোষকতাসহ সহজ শর্তে ঋন সুবিধা দেওয়া হলে ব্যক্তি উদ্যোগে আগরের চাষ বৃদ্ধি পাবে। আগরের চাষাবাদ বৃদ্ধি ও আতর বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে সরকার। শুধু তাই নয় এ শিল্পের সাথে জড়িত হাজার হাজার মানুষও হতে পারে স্বাবলম্বী। এ ব্যাপারে সরকারের প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী সচেতন মহলের।
সুগন্ধি আগর ও আতর ! ১১ টি পাহাড়ী এলাকায় ৩ লাখ চারা রোপন
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
গল্পঃ অনুচ্চারিত উত্তর

জীবনের গতিপথ সর্বদাই চলমান। শত বাধা বিপত্তিতে সে থেমে থাকে না। চাইলেও থামানো যায় না।চলছে তো চলছেই ভালো আর মন্দে।
সে সব কত বছর আগের কথা.. সময়ে সবকিছু কত... ...বাকিটুকু পড়ুন
আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন - অক্টোবর ২০২৫

আনন্দ বিশ্বকাপ ফুটবল!
শোক ভেনেজুয়েলা ভূমিকম্প!!
এই আনন্দ ও শোকে কবিতা সংকলন পোস্ট অক্টোবর ২০২৫! অনেক দেরি হয়ে গেল! হ্যাঁ অক্টোবর ২০২৫ এর সব কবিতা সংরক্ষিত ছিল, কিন্ত সময়ের অভাবে সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন
দ্যা বেবি রেসলার ইন দ্যা ডে কেয়ার সেন্টার- নিজের চোখকেও অবিশ্বাস হয় আজকাল .....

বহু বছর ধরে বাচ্চাদের সাথে কাজ করছি। নানা রকম শিশু কিশোর দেখে দেখে চোখ, কান, মাথা, প্রায় অভ্যস্থ হয়ে গেছে। বাচ্চারা বাড়িতে এক, বাড়ির বাইরে খেলার মাঠে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন
ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!
ভালোবাসার আলো, স্মৃতি জাগানিয়া তুমি !!!
(The Hertiest Light, The Fleeting Memory)

তোমার ছোঁয়ায় থমকে দাঁড়ায় চেনা সময়টুকু,
দূরে গেলেই মেঘের ছায়ায় কাঁদে অবুঝ সুখ।
সুন্দর সেই দিনগুলো যায় ,হুট করে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।