somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফেসবুক ৫ম পর্ব

০৪ ঠা ডিসেম্বর, ২০১৩ সকাল ৯:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এলার্ম বেজে চলছ অনেক ক্ষন, কিন্তু ঘুম ভাংছে না আবিরের, আবির স্বপ্ন দেখছ নুসারাত গান গাইসে, কি সুন্দর তার গলা, আবির মুগ্ধ হয়ে শুনছ সে গান, ঘুম থেকে উঠলো আবির, নাহ সে স্বপ্নে দেখেনি, মোবাইলের টোন বাঝছিলো, আবির রিসিব করলো হ্যা বলো
তুমি ঘুমাচ্ছ?
হ্যা কিছু বলবে?
না বলেই ফোন রেখে দেয় নুসারাত
আবিরের মনে পড়ে আজ না দেখা করার কথা, আবির ফোন ব্যাক করে নুসারাত কে, হ্যালো সরি আমি, আমার মনে আছে, আমি আসছি, আমি ঘুমাইনি, দুষ্টামি করছিলাম তোমার সাথে, প্লিজ রাগ করনা, এক নিঃশ্বাসে কথা গুলু বলে আবির
আবার মিথ্যা বলো? তুমি ঘুমাচ্ছিলে তোমা ভয়েস তাই বলে সমস্যা নাই আসো আমি যাচ্ছি
আচ্ছা বলে ফোন রাখে আবির, গোসোল সেড়ে একটা নিল রঙের হাফ হাতা শার্ট গায়ে দেয় আবির, উস্খুখুস্কু চুলে চিরুনি বুলানোর সময় নেই তার, যদিও সে কোনোদিন তার চুলে চিরুনি বুলায়নি, এই অবস্থায় আজ বে হয়েছে সে, প্রচন্ড শিত, কিন্তু শিতের কোনো চাদর নেয়নি আবির, আজ আবির ভালোবাসা পরিক্ষা করবে, নুসারাত একদিন বলেছিলো সে চাদর গায়ে দিতে পছন্দ করে, আজ যদি নুসাআত চাদর গায়ে আসে, যদি বলে চাদর টা নাও, তোমার হয়তো ঠান্ডা লাগছে, আবির বুঝে নিবে নুসারাত তাকে ভালোবাসে, যদি না বলে তাহলে? সেটাও ভেবে রেখেছে আবির না বললে নুসারাত এর সামনে ইচ্ছা করে হাত পা কাপাবে, এতে নুসারাত এর দৃষ্টি পরবে তার দিকে, আচ্ছা নুসারাত যদি তাকে চাদর দেয় তার মানেই কি নুসারাত আবির কে ভালোবাসে?
নাহ তা তো নাও হতে পারে, এটা তো মানবিক কারন ও হতে পারে, এর মাঝেই ভার্সিটি গেট চলে এসেছে রিক্সা
আবির ভাড়া পেইড করলো, ক্ষুদা লেগেছে তার, কিন্তু নাস্তা করার সময় নাই, আবির নুসারাত কে ফোন দেয়।
কই তুমি?
ফাষ্টফুডে আছি, ডান দিকের প্রথম টা তে আসো
আবির সেদিকেই যায়
একটা টেবিলে বসে আছে নুসারাত গায়ে কালো চাদর
আবির নুসারাতের সামনের চেয়ার টা তে বসে, নুসারাত কফি খাচ্ছে, গরম ধোয়া উড়ছে কফি থেকে,
লেট করেছো কত মিনিট? প্রশ্ন করে নুসারাত
বেশিক্ষন না ১১ মিনিট
হুম কিছু খাবে?
না পেট ভরা
মিথ্যা বলছো কেনো আবির? আমি তোমাকে ফোন দিয়ে ঘুম ভাঙ্গিয়েছি, তুমি নাস্তা করার সময় পাওনি
না খেয়েছি
এবার হুঙ্কার করে উঠে নুসারাত আমি মিথ্যুক একদম পছন্দ করিনা।
না খাইনি,
কি খাবে?
যা ইচ্ছা অর্ডার করো
আমিও খাইনি তুমি অর্ডার করো
আমার তো পরটা খেতে হবে, এইখানে পাবোনা
চলো
কই?
রাস্তার মোড়ে যে হোটেল গুলা আছে সেইখানে খাবো
তুমি খাবে সেইখানে? আবির ভাবনায় পড়ে যায়, এই মেয়েটা কি রাস্তার হোটেলে খাবে? এরা তো অতি আধুনিং ভাবনায় পড়ে যায় আবির
খাবোনা কেন? আর কি ভাবছো না কিছুনা চলো বের হই
এতোক্ষনে শিত লাগছে আবিরের, আসলেই শিত লাগছে, একটা রিক্সা নিয়েছে আবির, মগবাজার যাবে, রিক্সা উঠে শিত টা আরো বেশি লাগছে, ইচ্ছে করে না রিতিমত শিতেই কাপছে আবির, কি ব্যাপার শিত লাগছে তোমার?
হ্যা লাগছে কিছুটা
শিতের কাপর আননি কেনো? বলেই রাগি চোখে নুসারাত তাকায় আবিরের দিকে
না মানে ভেবেছিলাম এতোডা শিত পরবে না তাই
চাদর টা খুলে নেয় নুসারাত, নাও এটা গায়ে দাও
না আমি ঠিক আছি, আর তাতে তোমার কষ্ট হবে বেশি
একটা কথা বলবো আবির?
বলো
আমার চাদর টা অনেক বড়, দুজনের হবেনা, তবু যদি চাও তাহলে একটু একটু করে দুজনেই চাদরের নিচে থাকি?
আবির সকাল বেলা তার কল্পনার থেকে একটু বেশি কিছু পেয়ে হেসে যাচ্ছে
কি ব্যাপ্যার হাসছো কেনো?
না মানে এমনি, আচ্ছা দাও
আরেকটু পাশাপাশি চেপে বসলো আবির আর নুসারাত, চাদর টাতে দুজন ঝরিয়ে আছে, নাহ ভালোই লাগছে আবিরের, একটা মেয়েলি ঘ্রান তাকে মাতাল করে দিচ্ছে, আবির কিছুই বলছেনা, বলার ভাষা পাচ্ছেনা সে, কি ব্যাপার চুপ করে আছো কেনো?
না মানে কেমন যেনো দেখাচ্ছে আমরা এক চাদরে আমি সেটাই ভাবছি
তো তাতে কি হইসে? মহা ভারত উল্টায়া গেছে? নাকি শিতা অসতি হইয়া গেছে? রেগে যাচ্ছে নুসারাত
নাহ তাকে রাগানো যাবেনা, খুব ভেবে চিনতে কথা বলতে হবে নুসারাতের সাথে, তাকে রাগানো যাবেনা এতো সিরিয়াস হয়ে, আগে জানতে হবে মেয়েটা কিসে কিসে রেগে যায়, আর তার রাগ ভাঙ্গানোর সিষ্টেম টাও জানতে হবে, এখোনো কিছুই জানেনা আবির, তাই রিক্স না নিয়ে আগে নুসারাত কে ছোটো ছোট কারনে রাগাতে হবে, আপাতত আবির কথা বলছে না দেখে নুসারাত রেগে যাচ্ছে, এখন কথা বলতে হবে আবিরের, কি বলবে ভাবছে সে, এর মাঝে নুসারাত কথা বলে উঠে।

আচ্ছা আমাদের যেদিন প্রথম দেখা হয়
হুম
সেদিন কি তোমার মনে হয়েছিলো আমি আসবো
হ্যা
আচ্ছা আমি যদি না আসতাম
হুম
আমি কি ভেবেছিলাম জানো?
না
শুনবে?
হুম বলো
ভেবেছিলাম আসবোনা, আচ্ছা না এলে তোমার কেমন লাগতো?
হুম
কি ব্যাপার আমার কথা শুনছো তুমি? নাকি নাহ?
কই শুনছি তো
তাহলে বলো আমি এতোক্ষন কি কি বলেছি, না হলে এরকম হু হা করছো কেন?
আবির ঝামেলায় পরলো সে শুনেছে কিন্তু , সে কিছুই বলতে পারবেনা, এই জিনিস টা পারেনা আবির, কোনো কিছু পুনরায় বলা, আবির বুঝতে পারছে না কি করবে
এই মামা থামো, নুসারাত রিক্সাওয়ালা কে থামাতে বলছে
আবির ভয় পাচ্ছে নুসারাত হয়তো এখন চলে যাবে,
আবির ও রিক্সা থেকে নামলো, আবির বুঝতে পারলো নুসারাত পাশে একটা হোটেল দেখে থেমেছে, এইখানে সব পাওয়া যায়, পরটা থেকে চাইনিজ, বাহ ভালই আবির একটু স্বস্তি পেলো এইখানে খাওয়া যাবে, এতে নুসারাতের কোনো সমস্যা হবেনা, আবির মাঝে মাঝে যেসব রেস্তোরাতে খায় সেইখানে গেলে নুসারাতের অবস্থা খারাপ হত, নুসারাত কে দেখেই বুঝা যায় উচ্চবিত্ত ফ্যামিলির মেয়ে, মধ্যবিত্ত একটা ছেলে তার প্রেমে পড়েছে ব্যাপার টা ভালো লাগছে না, আবিরের কাছেইদেখা যাক কোথাকার জল কোথায় গিয়ে গড়ায়

আবির ডীম আর পরোটা নিলো, নুসারাত শুধু ভাজি আর পরোটা
নাস্তা শেষ করে বের হলো তারা, জাদুঘরে যাবে নুসারাত, আবির যাবেনা ভেবছিলো তবু আবির গেলো তার সাথে, অনেক কথার বিনিময়, ফুচকা খাওয়া, সব কিছুর মাঝেই আবির একবার ভালোবাসি বলতে চেয়েছিলো হয়নি বলা, হয়তো নুসারাত ও চেয়েছিলো, নুসারাতের কাজ কম্মে কেন জানি মনে হলো নুসারাত আবি কে ভালোবাসে, বলতে পারেনা, আবির আবার তার ভাবনাতে নিমগ্ন হলো, এর ভিতর নুসারাতের বাবা ফোন করেছে, চলে যেতে হবে
নুসারাত আজ আবিরের সাথেই যাবে, আবির নুসারাত কে রিক্সা ঠিক করে দিয়েছে, কিন্তু যাবেনা নুসারাত, নুসারাত বায়না ধরেছে আবির তাকে তার বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আসবে
বাধ্য হয়ে আবির রিক্সায় উঠে বসলো, আবার চাদরের নিচে জরিয়ে আছে দুজন
আবির কল্পনা করে চলেছে ঠিক এই চাদরের নিচেই কি ভালোবাসার ঘর বুনা যায়?
নুসারাত কে নামিয়ে দিলো আবির, অনলাইনে কথা হবে আর বাসায় যেয়ে ফোন দিও বলেই একটা হাসি দিলো নুসারাত
আবির টাটা বলল রিক্সা ওয়ালা মামা এগিয়ে চলছে, আবির পিছন ফিরে তাকালো, নুসারাত ও তাকিয়ে আছে রিক্সার পানে

চলবে
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সাবধান!!!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৪



যারা প্রধানমন্ত্রীর হাতে মরা মাছ ধরিয়ে দিয়ে পানিতে ছাড়তে বলেন, তারা কেমন মানুষ!!!.....এটা কেমন তামাশা!!! স্লোগান দেওয়া বাদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আসার আগে মাছগুলো চেক করার কথা একবারও মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ সরকারের কাছে সোলার এনার্জি বিক্রি করা কতটা লাভজনক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭



যারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ইন্সটল করবেন, তাঁদেরকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটির জন্যে ১০.৫০ টাকা করে দিবে। রুফটপে সোলার এনার্জি প্ল্যান্ট বসিয়ে লাভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পর্ক ও আত্মহত্যা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭



কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাউকে বিয়েতে বাধ্য করা। - বিশ্বের যে কোনো দেশের আইনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২ লাখ কর্মীর খবর ভুয়া - তবে ২৫ টা সাদা হাতি আসছে!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২



স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ কর্মী নেবে ।

আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×