সেদিন বাসে করে কোথায় যেন যাচ্ছিলাম।বারিধারার কাছে বছর দশেকের একটি ছোট্ট ছেলে বাসে উঠলো।ঢোলা পায়জামা পান্জাবি পরা,মাথায় টুপি।"ভাই ও বোনেরা,আসসালামু আলাইকুম,আমি একজন এতিম।আমাদের এতিমদের জন্য একটা মাদ্রাসা ও এতিমখানা আছে।দয়া করে এই মাদ্রাসা ও এতিমখানার জন্য কিছু সাহায্য করেন।আল্লাহ আপনাদের ভালো করবেন.....।''অনেকেই ছেলেটাকে কিছু টাকা দিলেন,আমিও দিলাম।শুনতে পেলাম একজন যাত্রী উত্তপ্ত স্বরে কিছু বলছেন,"ফ্রড বুঝলেন,পুরা ফ্রড।যে মাদ্রাসার কথা বলতেছে নিশ্চয়ই এই নামে কোনো মাদ্রাসা নাই।এদেররে যে কেন বাসে উঠতে দেয় ঐ মিয়া হেল্পার এই শালার পুত বাসে উঠল কেমনে....।"লোকটির কথা খুব অদ্ভুত লাগলো।বিশ্বাস জিনিসটা কি একেবারেই উঠে গেছে?যদি ছেলেটি ফ্রড হয়ও তবুও তো টাকা দিয়ে গরীব ছেলেটিকে খানিকটা সাহায্য করা হল।তিনি তো তাও করলেননা।আর যদি ছেলেটি ফ্রড হয় তাহলে কি তার আমার এজন্য খানিকটা দায়ভারও নেই?যে ছেলের আজ স্কুলে যাবার কথা,সমবয়সীদের সাথে খেলার কথা সে যে তা না করে চলন্ত বাসে দাঁড়িয়ে সাহায্য ভিক্ষা করছে তার জন্য কি আমরা খানিকটা হলেও দায়ী নই।এদেশের অধিকাংশ শিশু যে শিক্ষা,খেলার মাঠ এমনকি দু বেলা খাবার থেকে বণ্চিত তা কি আমাদের সকলের ব্যর্থতা নয়?হয়ত এই দরিদ্র দেশে এসব কিছুই যোগান দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয় তাই বলে সাধ্যমত কিছুটা সাহায্য করাটা কি অন্যায়?আমরা কবে শুধরাব,কবে আমরা মানুষ হব?
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


