somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি দুর্ঘটনা এবং......

২৮ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০ শে জুন, সকাল ১১ টা। ঝকঝকে একটা দিন। ঢাকা - রাজশাহীর ব্যস্ত মহাসড়ক। রাস্তার ধারে একটু পরে পরেই সর্ষের ক্ষেত, উজ্জ্বল হলুদ রঙে চোখ ধাধিঁয়ে যায়, বেশিক্ষন তাকিয়ে থাকা যায় না। যমুনা সেতুর একটু পরে পরেই রাস্তার ধারে এমনই কিছু ক্ষেত, দু তিনটা বাড়ি ঘরও চোখে পড়ে। সাঁ সাঁ করে ছুটে যাচ্ছে একের পর এক বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার। হঠাৎ এক ঢাকাগামী ট্রাকের সাথে রাজশাহীগামী একটি বাসের একদম মুখোমুখি সংঘর্ষ। ট্রাকটি যেন বাসটাকে খাদে ছুড়ে ফেলে দিল! তবে ট্রাকটিও একেবারে দুমড়ে মুচড়ে গেছে। ট্রাকটি আম নিয়ে ঢাকা যাচ্ছিল। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আম। হলুদ আর সবুজ রং মিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে সর্ষের ক্ষেতে।
ঘন্টাখানেক পরের কথা। অনেক মানুষ যায়গাটি ঘিরে জটলা করে আছে। একটি মোটরসাইকেলের পাশে দুজন পুলিশ অফিসার দেখা যাচ্ছে। একজন ওয়কিটকিতে কথা বলছে। আহতদের কাতর গোঙানি আর কান্নার শব্দে ভারী হয়ে আছে বাতাস।
জটলা করে থাকা বেশিরভাগ মানুষ অসম্ভব ব্যস্ত। তারা ছুটোছুটি করে আম কুড়াচ্ছে। অনেকের হাতে বাজারের ব্যাগ দেখা যাচ্ছে। তারা অসম্ভব ক্ষীপ্রতায় অক্ষত আমগুলো বেছে বেছে ব্যাগে ভরছে। সারা রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা হীরার কণার মত কাঁচ গুড়িয়ে দিয়ে একের পর এক গাড়ি ছুটে যাচ্ছে। আর লোকগুলো আম কুড়াচ্ছে। দুহাত ভর্তি করে আম নিয়ে বাড়ি যাচ্ছে, আবার আসছে, আম কুড়াচ্ছে।
আমরা এত হীন, এত নীচ কেন? কতটা দরিদ্র, কতটা নির্যাতিত, নিষ্পষিত হলে একজন মানুষের মধ্য থেকে মনুষ্যত্ব লোপ পেয়ে তার জায়গায় এতটা লজ্জাহীন, নির্দয় আর নীচ একটা মানুষ বাস করতে পারে? এই বাজারে যে মানুষগুলো পয়সা খরচ করে আম কিনে খাবার কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনা, তারা যদি ফাঁকতালে পরিবারের জন্য দুটো আম কুড়িয়ে নেবার চিন্তা করে তাতে দোষ কোথায়? যারা এসি গাড়িতে করে হুস হুস করে ছুটে যাচ্ছে, একবারও দাঁড়ায়নি, অন্তত একজন আহতকে হাসপাতালে পৌঁছে দেবার কথা ভাবেনি, তারাইবা কতটা বিবেকবান? যুগ যুগ ধরে আমাদের ভূলে, আমাদের নির্বুদ্ধিতায় এই দরিদ্রে জর্জরিত মানুষগুলোর মাঝে যে অন্ধকার সত্তার সৃষ্টি হয়েছে যা তাদের সন্তানদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে, তা কি কখনও আলোর মুখ দেখবেনা? সে দায়িত্ব তো আমাদেরই। আমরাই বা তার কতটুকু পালন করেছি?
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×