বইটি হাতে নেবার পর মলাটে আনিস হক নামটি দেখার সাথে সাথেই অধমের পা যেন মাটি থেকে দুই ইন্চি ওপরে উঠে গেলো,আমাদের তীরুদার বই!
এবারের একুশে বইমেলায় আমাদের প্রিয় তীরুদার একটি বই বেরিয়েছে,অনুবাদ গ্রন্হ।অভিনন্দন তীরুদা।অন্যশরীর নামের মাঝারি কলেবরের এ বইটিতে রয়েছে ৯টি জার্মান গল্পের বাঙলা অনুবাদ।কাফকা, স্টেফান সোয়াইগ ও হাইনরিখ ব্যোলের গল্পসমৃদ্ধ বইটির মলাটটি বেশ দৃষ্টি নন্দন।প্রথমদিন বইটি হাতে পেয়েই বেশ খানিকটা পড়ে ফেলেছিলাম।এরপর আকস্মিক ব্যস্ততায় আর ধরা হয়নি।ফোনে তীরুদা জিগ্গেস করলেন,''বইটা পড়েছ?''সাথে সাথে জিভ কাটলাম।যা হোক, এরপর আর পড়তে ভুলিনি।
জার্মান সাহিত্য থেকে অনুবাদে মনে হয় তীরুদাই পথিকৃৎ।তার অনুবাদ করা দাবাড়ু বেরিয়েছিলো আরো বেশ ক বছর আগে যা এই বইটিতেও সংকলিত হয়েছে।গল্পগুলো একটু ভিন্ন স্বাদের,ভিন্ন ধারার।প্রথমবার পড়ে একটু ধাক্কামত খেলাম।পরিচিত গন্ধটা পাচ্ছিনা যেন।বাঙালি সেকেলে মন,অন্যরকম কিছু দেখলেই বিদ্রোহ করে বসে।আর গল্পের প্রেক্ষাপট ও তো একদম অজানা।কিন্তু গল্পের ভেতরে ঢুকতেই এ ভাবটা একদম কেটে গেলো।বেমালুম ভুলে গেলাম লেখক এ দিশি নন,ডুবে গেলাম একদম।
তীরুদার অনুবাদ এক কথায় অসাধারন।মূহুর্তের মাঝে আপন হয়ে গেলেন কাফকা সোয়াইন,ব্যোল।গল্পের আবেদনটা ছিল অক্ষত।আর বইয়ের শেষে তথ্যসমৃদ্ধ লেখক পরিচিতিটাও বেশ কাজে দিয়েছে।এমন চমৎকার একটি বই উপহার দেবার জন্য তীরুদাকে ধন্যবাদ,ধন্যবাদ সেই সুদূর জার্মান সাহিত্যের সাথে বাঙালি পাঠকদের সেতুবন্ধন গড়ে দেবার জন্য।তিনি আরো আরো এরকম বই আমাদের উপহার দিম এই শুভকামনা রইলো।আগামী বইমেলার অপেক্ষায় রইলাম।প্রিয় ব্লগার ভাই ও বোনেরা আপনারাও একবার এ বইটি চেখে দেখবেন,অধমের এই অনুরোধ রইলো আপনাদের প্রতি।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মার্চ, ২০০৮ দুপুর ১:৩৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


