somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মণিকার একদিন

২১ শে অক্টোবর, ২০২৫ রাত ১১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মণিকা আজ বেড়াতে গেছে তাদের কোন এক প্রকার আত্মীয় হয় সেরকম কারোর বাড়ীতে। সে বাড়ীতে তার থেকে কিছু বয়সে বড়, দুটি বোন আছে। যথার্থ উপমা দিয়ে যদি বর্ণনা করা যায় তাহলে একটি বোনকে ড্যাব-ড্যাবি বললে ঠিক হবে, তার ডাব-ড্যাবা চোখের কারণে । কেন যেন ডাগর ডাগর চোখ বলতে ইচ্ছে করে না মণিকার, সে জানে না কেন। চোখ ড্যাবড্যাবা হলেও বোনটির অনেক বুদ্ধি ছিল। তিন বোনের সবচেয়ে বড় সে। ঐ বোনটির ড্যাব ড্যাবা চোখ নিয়ে এত বুদ্ধি সেই ছোট্টবেলা থেকে কিভাবে ছিল, মণিকা ভেবে কোন কূল কিনারা করতে পারতো না তখন।
ড্যাব- ড্যাবির এক বছরের ছোট মানে পিঠাপিঠি হলো দ্বিতীয় জন। সেটার জিহবা একটু ভারী। তোতলা না, তবে থ্যাপ-থ্যাপ করে কথা বলে। দুজনে যেহেতু মণিকার থেকে বড় তাই সেই আট বছরের ছোট্ট মণিকা তাদের থেকে জ্ঞানের দিক দিয়ে একেবারেই আনকোরা ।

বোন দুটি একই ক্লাসে পড়ে। ক্লাস সেভেনে। অনেক বড় ক্লাস। বয়স বায়ো কি তেয়ো। বড় আপা তারা। বয়োঃসন্ধিতে উপনীত হয়েছে । তাই অনেক কিছু জানে। কাপড়ের নীচে কি হয় তাও জানে।উগ্র স্বভাবের বোন দুটি নিজেরা নিজেরা কত কি যে বলে আর সারাক্ষণ খিল খিল করে হাসে, কেন হাসে কে জানে !
ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চার মত তাদের একটি ছোট্ট বোন ছিল বছর পাঁচেকে বয়সের। তার খেলনা দিয়ে বিছানার পাশে মাটিতে বসে মণিকা একদিন খেলছিল। খেলা শেষে যখন ঘর থেকে বের হতে যাবে তখনই হাসতে হাসতে গড়াগড়ি যাওয়া বিছানায় শুয়ে থাকা বোন দুটো মণিকাকে ডাক দিয়ে বলল, ‘তোমার প্যান্ট টা একটু খোল তো!’
তখন কিছু বুঝতে না পারলেও তাদের আচরণটা মণিকার বেশ অদ্ভুত লেগেছিল। তাই এখনো ভুলে যায় নি। কারণ এমন অদ্ভুত কথা মণিকা তার আট বছরের জীবনে কখনো আগে শুনে নি। কেউ কারো বাসায় এভাবে প্যান্ট খোলার কথা বলে নাকি?
তারপর বিশ বছর প্রায় অতিক্রান্ত হয়েছে। আজ মণিকার বয়স ২৭/ ২৮। এর মধ্যে তারও জীবনের অভিজ্ঞতা বেড়েছে।
বোধি পাওয়ার মত তাই একদিন সে অনুধাবন করে বসলো ওই দুই বোনের সেই স্মরণীয় উক্তিটি। সেই ছোট বেলায় তাদের বাসায় মণিকাকে দেয়া প্যান্ট খোলার প্রস্তাব, এবং প্যান্টের ভেতর কি আছে তাদের তা দেখার আকাঙ্খার প্রকাশ।

কোন কিসিমের আত্মীয় সেই লোকেরা মণিকা তা জানে না। গিয়েছিল তার বাবা মায়ের সাথে ঐ বাড়িতে বেড়াতে। তার বাবা মা তো কত না মানুষের সাথে মেশে। সেভাবেই সেই লোকদের সাথে হয়তো আপন মনে করে মিশতো। আর সেখানে যেয়ে দুই বোনের কাছ থেকে খুব অদ্ভুত এই অভিজ্ঞতা সে যখন সঞ্চয় করে এনেছিল, তা তো ভোলার মতন নয়। সেদিনটা মনে রাখার মতন একটা দিন ছিল তার জীবনে। মনে রাখার মতো একটা অভিজ্ঞতাও ছিল বটে!
সেই দিনের সেই উক্তি দিয়ে ড্যাব-ড্যাবি আর থ্যাপ-থ্যাপি কি বুঝিয়েছিল, মণিকা আজ বুঝতে পেরেছে। যদিও বুঝে উঠতে সময় লেগে গেছে বিশ বছর! কারণ সে বোধি পেয়েছে যে মাত্র। আজ তার বোধি পাওয়ার দিন।
..............।
পিছু ডাক
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা একটা অস্থিতিশীল সময় পার করছি – আমাদেরকে সংযমী হতে হবে

লিখেছেন শোভন শামস, ০৯ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৭


আমরা এখন এমন একটা সময় পার করছি যা আগে কখনো দেখিনি। ইরানের এই যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয় তাহলে আমাদের জীবন ও জীবিকার উপর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। আমরাও এখন প্রযুক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে

লিখেছেন অর্ক, ০৯ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩



আমার একটি অভিজ্ঞতা বলছি। বেশ ক'বছর আগে ইরানি ফুটবল দল বাংলাদেশে টুর্নামেন্ট খেলতে এসেছিলো। খেলেছিলো বাংলাদেশের সাথেও। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে হয়েছিলো খেলা। সরাসরি দেখেছিলাম। সে এক ভয়ানক অভিজ্ঞতা। ইরানের বেশিরভাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতির জোয়ার: টাকা আসবে কোথা থেকে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৯ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:০২


ক্ষমতায় বসার এক মাস পেরোতে না পেরোতেই নতুন সরকার একের পর এক ঘোষণা দিয়েই যাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুফ, ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার কালপুরুষ আর আমাদের মাঝে নেই।

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৯ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:০১

সেই ২০০৬ সাল থেকে বাংলা ব্লগের শুরুর সময়টা থেকে তিনি ছিলেন আমাদের আড্ডার প্রাণকেন্দ্র। প্রথম অফলাইন আড্ডাগুলি হত তারই সাথে। সময়ের চাপে আমাদের দেখা হত না হয়ত কিন্তু মনে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশের ভেতরে আরেক দেশ: জঙ্গল সলিমপুরের অন্ধকার বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১০ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

বাংলাদেশের ভেতরেই এমন কিছু এলাকা আছে, যেগুলোকে অনেকেই আড়ালে–আবডালে “দেশের ভেতরে আরেক দেশ” বলে উল্লেখ করেন। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর তারই একটি উদাহরণ। দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম পাহাড়ি এই অঞ্চলটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×