এক
ঢাকার তাজুল। ভাইদের সঙ্গে ব্যবসা করে। চৌত্রিশ বছর হয়ে যাওয়ার পরও বিয়ে করা হয়নি ওর। কিন্তু প্রেমের বন্দরে খুব দক্ষ নাবিক সে। বেশ কয়েক মেয়ের সঙ্গে প্রেমের অভিনয় করে আদি রস পান করে যাচ্ছিল সে।
একদিন মোবাইলের ক্রস কানেকশনে পরিচয় হয় যশোরের মেয়ে রুবির সঙ্গে।
রুবি বহু আগে এসএসসি পাস করে লেখা পড়ার ইতি টানে। কথায় কথায় তাজুলের সঙ্গে রুবির বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুত্ব এক সময় টার্ন করে প্রেমের বন্দরে।
তাজুলও তার স্বভাবজাত কারণে রুবির দেহ ভোগে উদগ্রীব হয়ে ওঠে।
পর পর কয়েকবার সাক্ষাৎ হয় ওদের। একান্তে বসা হয়, জড়িয়ে ধরা হয়, চুমুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু তাজুলের চূড়ান্ত ইচ্ছা যে সম্ভোগ তা পূরণ হয় না। কেননা রুবি ওর নিজের কাছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিল, স্বামী ছাড়া অন্য কারো সঙ্গে সেক্স করবে না।
পরে তাজুল সবদিক বিবেচনা করে রুবিকে বিয়ে করে। এখন তারা সুখী দম্পতি।
দুই
এক যুগ আগের ঘটনা।
পারুল ভালোবাসে তার প্রতিবেশী তপুকে।
তপুদের এক তলা বাড়ির দক্ষিণে তিন তলা বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় পারুলরা ভাড়া থাকতো। কয়েক বছর ধরে তপুর প্রতি লক্ষ্য রাখতে গিয়ে ওকে খুবই পছন্দ করে ফেলে পারুল।
তপুর কোনো ফিলিংস ছিল না পারুলের প্রতি।
তপুকে একা দেখলেই পারুল কিছু বলার চেষ্টা করে। চিঠি, খাবার, সিগারেট ছুড়ে মারে।
তপুর কোনো উত্তর না পেয়ে হাত কেটে রক্ত দিয়ে চিঠি লেখে। বেশ কয়েকবার রক্তে লেখা চিঠি পাঠায়। চিঠির ভাষা খুবই আবেগী, বেদনাসিক্ত। কিন্তু তপুর হৃদয়ে পারুল ভালোবাসার ফুল ফোটাতে পারে না।
এক সময় উভয় পরিবার পারুলের পাগলামির কথা জানতে পারে।
একপক্ষীয় প্রেমের জন্য পারুলের মা-বাবাকে লজ্জিত হতে হয়। তারা বাসা বদলিয়ে দ্রুত অন্যত্র চলে যান।
তারপরও পারুল অনেক ভাবে চেষ্টা করেছে। কিন্তু পারেনি।
পারুল নিজেকে শুধু সান্ত¡না দিল, পাথরে ফুল ফোটানো সহজ। কিন্তু পাষাণ অন্তরে ভালোবাসা সৃষ্টি করা কঠিন।
বর্তমানে পারুল ত্রিশ আর তপু তেত্রিশ বছর বয়স পার করছে। কিন্তু কারোই বিয়ে হয়নি।
তিন
সাঈদ ভালোবাসে তার ছোট বোন টুনির বান্ধবী সাদিয়াকে।
সাদিয়াও সাঈদ বলতে অজ্ঞান।
দুজন মিলে প্রতিজ্ঞা করেছে, যতো ঝড়-তুফান-সমস্যা আসুক, এই ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকবে।
দুই পরিবারের মৌখিক সম্মতি ছিল তাদের বিয়ে নামে সোনালি কাবিনের আওতায় আনার।
এসএসসি পরীক্ষার পর সাদিয়া খুব অসুস্থ বোধ করে। হসপিটালে ভর্তি ও বিভিন্ন পরীক্ষার পর ব্লাড ক্যান্সার ধরা পড়ে সাদিয়ার।
সাঈদ কাজকর্ম বাদ দিয়ে দিন-রাত হসপিটালে অবস্থান নেয়। সারা দিন চিন্তা করে। খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো করে না। একা একটু ফুরসত পেলেই কান্নাকাটি করে।
তিন মাস পর সাদিয়া মারা যায়।
সাঈদ প্রিয়তমার মৃত্যু শোক সইতে না পেরে অনেকটা পাগলের মতো হয়ে যায়। আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে সাদিয়ার কবরের সামনে বসে থাকে। বিড় বিড় করে কথা বলে, দোয়া-কালাম পড়ে।
ঢাকা সিটি করপোরেশন ও কবরস্থান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পাচ বছর পর্যন্ত সাদিয়ার কবরে নতুন কোনো লাশ দাফন করা হয়নি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



