বাণিজ্য মেলায় বাঘ! ব্যপারটা শুনতে অদ্ভুত লাগলেও সত্যি। বাঘে ভরে গেছে বাণিজ্য মেলার মাঠের একটা অংশ। আর বাঘ আসবেই না কেন বলুন? খোদ সুন্দরবনের ইকো পার্কই তো তুলে আনা হয়েছে মেলায়!
দুটো হরিণ নদীর ধারে পানি খেতে এসেছে। আর ঝোপের আড়াল থেকে উঁকি দিচ্ছে রায়েল বেঙ্গল টাইগার। এমন ভাবে হরিণটাকে নজরে
রেখেছে যেন এখুনি ঝাঁপিয়ে পড়ে ঘাড় মটকাবে। এদিকে আবার নদীর মাঝখানে একটু শুকিয়ে যাওয়া চরে দুটি গাছের মাঝ দিয়ে অজগর ফোঁস ফোঁস করছে। নদীর অপর প্রান্তে একটি কুমির হা করে পানিতে ঝাঁপ দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দুজনেরই লক্ষ্যবস্তু মনে হচ্ছে নদীর অন্য তীরে বালির উপর শুয়ে থাকা একটি হরিণ ও তার বাচ্চা।
আবার পানিতে কয়েক প্রজাতির হাঁসকে দেখা গেল সাঁতার কাটছে ঠিকই, কিন্তু যখনই কুমিরের আক্রমনের কথা মনে আসছে তখনই পানি থেকে উঠে ডাঙায় আশ্রয় নিচ্ছে। সেখানেই কি আর শান্তি আছে! কারণ সেখানেও তো রয়েছে বাঘের ভয়।
আর ওদিকে বেচারী বানর মনের দুঃখে মাথায় হাত দিয়ে ঠিক কুমিরের লেজের পিছনে। দেখে মনে হচ্ছে রোদ পোহানো কুমিরের লেজটা নিয়ে তার কান চুলকানোর একটা দুষ্টু ইচ্ছে মাথায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সে টের পাচ্ছে না তার ঠিক পেছনেই ঘাড়ের ওপর নিঃশ্বাস ফেলছে বাঘ মামা! এদিকে কানাবগির ছা-গুলোর তো সাহসের কোন কমতি নেই। তারা বাঘ বা কুমির কাউকেই পরোয়া করছে না। কেউ পানিতে নেমে আবার কেউ ডাঙা থেকে ওৎ পেতে আছে মাছ শিকারের নেশায়।
বাঘ, হরিণ, বানর, কুমির ও অজগরসহ কয়েকটি প্রাণীর ডামি রাখা হলেও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের ওপর বসে রয়েছে নানা প্রজাতির পাখি। তার মধ্যে মাছরাঙা ও দোয়েলকেও দেখতে পাওয়া যায়। আরও ঘুরে বেড়াচ্ছে রাজহাঁস, পাতিহাঁস, চীনাহাঁস ও তিতির পাখি।
পাঠক নিশ্চই অবাক হচ্ছেন। অবশ্য অবাক করার মতই ব্যাপার। পুরো সুন্দরবনের একটা অবয়ব নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে এই বাণিজ্য মেলায়। দর্শকরা এ ক’দিন যারাই বাণিজ্যমেলায় এসেছেন- অন্তত একবারের জন্য হলেও ইকোপার্কে ঢু মেরেছেন। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছেন সবকিছু। আর একই সঙ্গে চলছে ছবি তোলার ধুম।
পানিতে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ডাঙায় খেলা করছে খরগোশ। পানি ও ডাঙা দু’ জায়গাতেই ঘুরে বেড়াচ্ছে কচ্ছপ। আবার গাছের ডালে মৌচাকেরও একটা প্রতিকৃতি রাখা হয়েছে। গাছের ওপর বানর বাবাজি তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় দোল দিচ্ছে। তাছাড়া এ ছোট্ট পার্কটির দু কোণায় দুটি ছাউনি রয়েছে, যেখানে দেখা যায় বাবুই পাখির সত্যিকার বাসা। ছোট্ট একটি জায়গাতে এত সুন্দর এক ইকোপার্ক গড়ে তোলা হয়েছে যে দেখে সবারই চোখ জুড়িয়ে যায়।
এই ব্যস্ত নাগরিক জীবনের মাঝে প্রতিবছর বাণিজ্য মেলা অনেকটাই উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে। এবারের মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় আয়োজন এই ইকো পার্ক। ইকো পার্কটির সার্বিক পরিকল্পনা এবং নকশা করেছেন জনাব জামিউর রহমান লেমন। পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে। বিদেশী এক বাণিজ্য মেলায় সে দেশের ঐতিহ্যের এমন উপস্থাপন দেখে প্রথমবারের মত প্রভাবিত হয়েছিলেন জামিউর।
ভবিষ্যতে এভাবে বাংলাদেশের সমুদ্র সৈকত, গ্রামাঞ্চল ও ইতিহাস-ঐতিহ্যের নানা দিক উপস্থাপন করার আশা রাখেন তিনি। উৎসঃ বাংলামেইল২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



