ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় বর্ষ সমাপনী পরীক্ষা দিয়েছেন ২০০৯ সালের ২১ জুলাই। আট মাসেরও বেশি সময় কেটে গেলেও ফলাফল প্রকাশ হয়নি। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করার কথা।
শুধু ওই শিক্ষাবর্ষ নয়, আইন বিভাগের আরও দুটি শিক্ষাবর্ষেরও ফলাফল আটকে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলাফল ঝুলে থাকায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েও শেষ পর্যন্ত বার কাউন্সিলের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থী।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে শিক্ষকেরা পরীক্ষার খাতা দেখতে দেরি করছেন। এ কারণেই আটকে আছে ফলাফল।
বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক সুমাইয়া খায়েরও এ অভিযোগ স্বীকার করেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ফলাফল দেওয়ার কথা থাকলেও অনেক শিক্ষক খাতা দেখতে দেরি করেন। এ কারণে ফলাফল দিতে দেরি হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, শিক্ষকেরা প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্যক্তিগত সমস্যার কথা বলেন। বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার কারণেও এটা ঘটতে পারে।
২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভাগ থেকে আগামী ৩ জুলাই তৃতীয় বর্ষ সমাপনী পরীক্ষার সময়সূচি দেওয়া হয়েছে। অথচ এখনো দ্বিতীয় বর্ষের ফলাফল দেওয়া হয়নি। ফলে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে তাঁদের সমস্যা হচ্ছে। এ ছাড়া কোন বিষয়ে মানোন্নয়ন পরীক্ষা দিতে হবে, তাও জানা যাচ্ছে না।
শিক্ষার্থীরা জানান, এ সমস্যা আরও দুটি শিক্ষাবর্ষেও আছে। ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা চতুর্থ বর্ষের সমাপনী পরীক্ষা শেষ করেছেন গত বছরের ৫ আগস্ট। ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তৃতীয় বর্ষের সমাপনী পরীক্ষা শেষ হয় ওই বছরে জুলাই মাসে।
ফলাফল দিতে বিলম্ব হওয়ায় বিভাগের ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষর্থীরা গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এ সময় তাঁরা দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করতে উপাচার্যের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, এ বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি বার কাউন্সিলের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য তাঁরা সব ধরনের প্রস্তুতি নেন। বিভাগের চেয়ারম্যানও তাঁদের ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ফলাফল দেওয়ার আশ্বাস দেন। তাঁর আশ্বাস অনুযায়ী তাঁরা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য আড়াই হাজার টাকা দিয়ে ফরম কেনেন। কিন্তু আট মাস কেটে গেলেও ফলাফল না পাওয়ায় তাঁরা পরীক্ষা দিতে পারেননি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘কিছু কিছু শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের মানোন্নয়ন পরীক্ষার ফলাফল আটকে থাকায় এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে বলে বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ আমাকে জানিয়েছে।’ শিক্ষকেরা বাইরে ক্লাস নেওয়ার কারণে ফলাফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে—শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য বলেন, এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করা হবে। যদি অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে তাঁদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উৎস : প্রথম আলো

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


