somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইহতিশাম আহমদ
একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে ক্যামেরাপারসন হিসাবে চাকুরীরত। ত্রিকোন চলচ্চিত্র শিক্ষালয় নামে একটি ফিল্ম স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রশিক্ষক। গল্প, কবিতা লেখা ও অভিনয়ের অভ্যাস রয়েছে।

চলচ্চিত্র র্নিমাণ টিপস-২ ফোকাস শিফটিং

২০ শে মার্চ, ২০১৫ রাত ১:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মাঝে মাঝেই বিভিন্ন শর্ট ফিল্ম র্নিমাতার কাছ থেকে ফোন কল বা ফেসবুকে ম্যাসেজ পাই, “ভাই, আমি অমুক ক্যামেরা ব্যবহার করব। এই ক্যামেরাই কি ফোকাস শিফটিং করা যাবে?” অথবা “ডিএসএলআর ক্যামেরা ছাড়া না কি ফোকাস শিফটিংএর কাজ করা যায় না। কথাটা কি ঠিক?” এই প্রশ্নগুলো ছোট, কিন্তু এর উত্তর ছোট করে দেয়াটা একটু কঠিন। কারণ শুধু হাঁ বা না-তে উত্তর দিলে তার প্রেক্ষিতে আরো নানা ধরনের প্রশ্নের উদয় হয়। তাই বিষয়টার ব্যাখ্যা আমি একটু ঘুরিয়ে দিতে চাই।

যেহেতু বিষয়টা ফোকাস শিফটিং, সেহেতু বুঝতেই পারছেন এখানে ফোকাস বিষয়টাই মুখ্য। আর ফোকাস বুঝতে গেলে বুঝতে হবে ডেপথ অফ ফিল্ড। আমরা অনেক ছবিতেই দেখতে পাই ছবিটির পুরোটা স্পষ্ট নয়, বরং কিছু জায়গা স্পষ্ট আর কিছু জায়গা অস্পষ্ট। যে জায়গাটা স্পষ্ট সেই জায়গাটাতে ফোকাস আছে আর বাকিটাতে ফোকাস নেই, এটাই আমাদের সাধারণ ধারনা। এই স্পষ্ট জায়গার পরিমান সব ছবিতে সমান নয়। কোনটার পুরোটা স্পষ্ট বা ফোকাসে রয়েছে। আবার কোনটার খুবই অল্প জায়গা স্পষ্ট বা ফোকাসে রয়েছে। একটি ছবির কতটা জায়গায় ফোকাসে থাকছে সেটাকেই বা সেই পরিমাপটাকেই ডেপথ অফ ফিল্ড বলা হয়।

ইংরাজি ডেপথ শব্দের অর্থ গভীরতা আর ফিল্ড শব্দের অর্থ ক্ষেত্র। অর্থাৎ সাদা বাংলায় বলা যায়-একটি ছবির স্পষ্ট অংশের বা ফোকাসড অংশের ক্ষেত্রটি কতটুকু গভীর অথবা অগভীর সেই পরিমানকেই ডেপথ অফ ফিল্ড বলা হয়।

এবার আসা যাক কোন লেন্সের ডেপ্থ অফ ফিল্ড কি রকম। ওয়াইড এংগেল লেন্সের ডেফথ অফ ফিল্ড অনেক বেশী। নরমাল এংগেল লেন্সের মাঝারী ধরনের এবং টেলিফটো লেন্সের অনেক কম। অর্থাৎ যে লেন্স দিয়ে যত দূরের দৃশ্য ধারণ করা যায় তার ডেপ্থ অফ ফিল্ড তত কম। আর ডেপ্থ অফ ফিল্ড কম মানেই ছবির ফ্রেমের কিছু অংশ স্পষ্ট (ফোকাসড) আর কিছু অংশ অস্পষ্ট (ডিফোকাসড)। এখন যদি আপনি ক্যামেরার ফোকাস রিং ঘোরান তাহলে ছবির ফোকাসড অংশটি ডিফোকাসড হবে এবং ছবির ডিফোকাসড কোন অংশ ফোকাসড হবে। এতক্ষনে নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন যে মাঝারী বা কম ডেপ্থ অফ ফিল্ড (শ্যালো ডেপ্থ অফ ফিল্ড) সম্পন্ন লেন্স দিয়েই কেবল মাত্র ফোকাস শিফটিং করা সম্ভব।

তবে শুধু লেন্সএর উপরেই সব কিছু র্নিভর করে না। ডেপ্থ অফ ফিল্ডের সাথে আলোর একটি সর্ম্পক রয়েছে। আলো বেশী মানে বড় ডেপ্থ অফ ফিল্ড। এবং আলো কম মানে ছোট বা শ্যালো ডেপ্থ অফ ফিল্ড। আলো যদি বেশী থাকে তবে ক্যামেরার এ্যাপার্চারকে যতটা সম্ভব ক্লোজ (ফুটো ছোট) করতে হয়, নয়ত ছবি বার্ন করতে পারে। অপর দিকে আলো কম থাকলে এ্যাপার্চারকে যতটা সম্ভব ওপেন (ফুটো বড়) করতে হয়। তার মানে আপনি যখন আপনার ক্যামেরার এ্যাপার্চারকে ওপেন করছেন তখন শ্যালো ডেপ্থ অফ ফিল্ড তৈরী হচ্ছে। এখানে মনে রাখতে হবে যে একই অ্যাপার্চারে ওয়াইড এংগেল লেন্সে যতটা শ্যালো ডেপ্থ অফ ফিল্ড পাওয়া যাবে টেলিফটো লেন্সে তারচেয়ে অনেক বেশী শ্যালো ডেপ্থ অফ ফিল্ড পাওয়া যাবে। বস্তুতঃ ওয়াইড এংগেল লেন্সে তেমন একটা শ্যালো ডেপ্থ অফ ফিল্ড পাওয়া যায় না।

সুতরাং ফোকাস শিফটিংএর জন্যে প্রধানতঃ নরমাল বা টেলিফটো লেন্স দরকার। সেই সাথে এ্যাপার্চার যতটা সম্ভব ওপেন থাকতে হবে। এখন সমস্যা হচ্ছে এ্যার্পারটার ওপেন (ফুটো বড়) করা মানে হচ্ছে লেন্স দিয়ে অনেক বেশী আলো প্রবেশ করা। যদি লোকেশনে কম আলো থাকে তবে সমস্যা নেই। কিন্তু ভর দুপুরের কড়া রোদে এ্যার্পারটার ওপেন করার অর্থ হচ্ছে ছবি বার্ন করা বা জ্বলে যাওয়া। তাছাড়া আরেকটি সমস্যাও রয়েছে, যেখানে কম আলো রয়েছে সেখানে ফোকাস শিফিটিংএর খেলাটা আপনি কতটা দেখাতে পারবেন সেটাও একটি গবেষনার বিষয়। সুতরাং লোকেশনে পর্যাপ্ত আলো থাকাটা জরুরী। পর্যাপ্ত আলোর মাঝেও লেন্সের মুখে একটি এনডি ফিলটার যদি রাখতে পারেন তবে এ্যার্পারটার ওপেন করার পরেও ছবি বার্ণ করবে না। এক্ষেত্রে অবশ্য ডিএসএলআর ক্যামেরায় একটি বাড়তি সুবিধা রয়েছে-আইএসও। এ্যাপারচার ওপেন করার পরও আইএসও কমিয়ে আপনি ছবিকে জ্বলে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন।

তো, এবার আপনারাই বলেন কোন কোন ক্যামেরায় এবং কি ভাবে ফোকাস শিফটিংএর কাজ করা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:৩০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মতামত পোস্ট: ১ আগস্ট ২৪ এ লেখা: আমার কথা ৯৫ ভাগ মিলে গেছে

লিখেছেন অর্ক, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭



এবারের ছাত্র আন্দোলনের মূল যে দাবি বা উদ্দেশ্য, তা আসলে অত্যন্ত সাধারণ। সে সব সকল মাধ্যমে বহু চর্চিত, প্রচারিত ও আলোচিত। তাই পুনরাবৃত্তি থেকে বিরত থাকছি। আন্দোলনের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৯



ম্যান মেড প্রাণীজ দুগ্ধ......

বির উনি একজন গোয়ালা (গোয়ালিনী)। তাহার নিজের কোনো গরু(গাভী) নাই। তারপরও তিনি দৈনিক প্রায় একশত লিটার দুধ বিক্রি করেন। নিজের 'কয়েকজন বান্দা কাস্টমার আছে'।... ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×