আজকের ব্লগ এ কোচিং সেন্টার সংক্রান্ত একটি পোস্ট দেখে আর চুপ করে বসে থাকতে পারলাম না ।আমাদের দেশে আজ কোচিং সেন্টার এর যে বাড়াবাড়ি চলছে সেটা দেখে মনে হয় যে এদের সব কটা কে ধরে ডাস্টবিন এ ফেলে দিই । কোচিং সেন্টার নামক এই জংলি ভূত আমাদের কাঁধে চড়ে বসে সেই বাচ্চা কাল থেকে । প্রতিটা শিশুর নিজস্ব একটা প্রতিভা থাকে , আর সেই প্রতিভা গলা টিপে মেরে ফেলতে কোচিং সেন্টার এর কসাই গুলো হাসিমুখে বসে থাকে । ছোট্ট একটা শিশু ক্লাস ওয়ান এ ভর্তি পরীক্ষা দিবে আর কিনা রাস্তা ঘাট এ বিজ্ঞাপন দেখা যায় যে, " গ্যারেন্টি সহকারে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয়, বিফলে টাকা ফেরত" । এখন বুঝুন যে কোচিং এর মালিক রা কি পরিমান পাশবিক হয়ে উঠতে পারে সেই শিশুটিকে কিছু বাছাই করা প্রশ্ন উত্তর গলঃধকরন করাতে । এই তো গেল কেবল ভর্তি পরিক্ষার কথা । এইবার ছেলে ওয়ান এ পড়ে , আর তার বাপ মা'র ঘুম হারাম হয়ে যায় কোন কোচিং এ বাচ্চাকে পড়তে দিবে সেই ভেবে ভেবে । বাপ মা এর উদ্দেশ্য খারাপ না , কিন্তু সেই কোচিং এ কিভাবে বাচ্চাকে পড়ানো হয় সেটা তারা ভেবে দেখেন না । ছেলে থাকে মুখস্তের উপর আর বাপ মা ভাবে যে পোলা আমার বিশাল বিদ্বান হইতাছে । সৃজনশীলতা কি জিনিশ সেটা বাবা মা আর তার আদরের ছেলে মেয়ে ঘুনাক্ষরেও টের পায় না । এর ফাঁকে শালার কোচিং সেন্টার গুলা কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা লুটে নেয় ।এই জিনিশ চলতে থাকে কলেজ পর্যন্ত । পোলাপানরা গাধা থেকে আরো গাধা হতে থাকে আর আমরা হাসি মুখে কোচিং এবং "স্যার" দের মাসিক বিশাল টাকা পয়সা তুলে দিয়ে তাদের আরাম আয়েশ এর সুবন্দোবস্ত করে দেই । শুধু কোচিং সেন্টার না , আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার চোদ্দটা বাজানোর জন্য আমাদের স্কুল কলেজের নামি দামি "ব্যাচ" পড়ানো শিক্ষকরাও দায়ী । তাদের পাছায় জুতার বাড়ি দিতে ইচ্ছা করে । একটা ছাত্র কে তার নিজের সৃজনশীলতা প্রয়োগ করার কোনো সু্যোগই তারা দিতে চায় না । তাদের "নিয়মে" অঙ্ক করলে তবেই কিনা সেই অঙ্ক ঠিক হবে , নচেৎ ভুল । এইসব ভন্ডামী দেখে শালাদের জুতা মারার ইচ্ছা করাই কি স্বাভাবিক নয়? বারটি বছর পর সেই শিশুটি যখন বুঝতে শেখে তখন সে হয়তো মুখস্তের জোরে জিপিএ ৫ পেয়ে উচ্চশিক্ষার পথে অবতীর্ন হয় তখন সে অনুধাবন করে যে সে কিছুই "শেখেনি" শুধুই "পড়েছে" । এইবার তার শেখার পালা । কারন এইখানে কোচিং এবং স্যার এর বাসায় ব্যাচ এ পড়ার উটকো ঝামেলা নেই ।
বিঃদ্রঃ আমার এ লেখায় সেই সব স্যার দের অভিশম্পাত করা হয়েছে যারা শিক্ষা নিয়ে ব্যাবসা করেন । আমাদের মাঝের সেই সব শ্রদ্ধেয় শিক্ষক দের কথা না বললেই নয়, যারা আমাদের সৃজনশীল করে তোলার পথে আলো দেখিয়ে গেছেন ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


