somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার আজন্ম অতৃপ্তি আমার মা

১৩ ই জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোট কাল থেকেই তোমার অত্যাচারে জর্যরিত আমি , এবার আমায় রক্ষা দাও মা । তোমার অত্যাচারে আজ আমি নিঃস্ব । ছোট কাল থেকে এখন পর্যন্ত সকল ঘটনা আমার মনে পরে । এখনো সেই সব ঘটনা মনে করে সারা রাত বালিস চাপা দিয়ে কদি । কেউ একটুও টের পায়না ।যান মা আজ না পুরোনো কথা গুলো খুব মনে পরছে ।তোমায় তো বলতে পারবো না তাই এখানে লিখে নিজে কে একটু হালকা করতে চাচ্ছি ।তোমার কৃতির কথা লেখার জন্য আমায় ক্ষমা করবেন আম্মা । মা তোমার কি মনে পরে ? আব্বা আমাদের খুব ভালোবাসতো ।সকালে নাস্তার জন্য আব্বা আমাদের প্রতাদিন সবাইকে দুই টাকা করে দিত , সবার টাকা তুমি নিতে !আমাদের যে খাওয়াতে না তা নয় । ২ টাকার মুড়ি এনে সবাইকে দিতে । তা খে য়ে আমাদের হত না , তাই মাঝে মাঝে প্রতিবাদ করতাম . তার জন্য কি মারটাই না মারতে আমাদের ।আমাদের অভাবের সংসার ছিল । আব্বার ইনকাম তেমন একটা ছিলনা ।তারপর ও তিনি আমাদের না খেয়ে রাখতে চান নি ।মনে পরে প্রতিদিন ২ কেজি করে চাউল আনতো ।আমাদের কম করে দিয়ে চাউল বাচিয়েছো ।সেই টাকা আবার তুমি সুদের উপর দিতে ।আমারা না খেয়ে থাকার পর ও তুমি আমাদের খেতে দেওনি !ঘরে তোমার চাউল থাকার পর ও রান্না করে আমাদের দিতে না ।অব্বা টাকা দিলে তোমার কাছ থেকে চাউল কিনতে হতো !তোমার কাছে না কিনলে আবার মার খেতে হতো ।মনে পরে ? আব্বার অভাবের সংসার দেখিয়ে তোমার মা,বোন,ভাই,নানা,মামা.খালাদের কাছ থেকে অনেক কিছু এনেছিলে ।তার একচুল ও সংসারে লাগাও নি ! ওরা তোমার জন্য আমাদের জন্য কাপড় চোপর দিতো তা সবেই তুমি বাড়ী এনে বেচে দিতে ! মনে পরে তোমার মামাতো ভাইয়ের কাছ থেকে সেভেন এর ব ই এনে দিয়েছিলাম , তার টাকা সহ আব্বার কাছে নিয়েছিলে ! মনে পরে বড় আম্মা আমাদের অভাবের জন্য চুপি চুপি চাল ডাল সহ অনেক কিছু দিয়েছিলো , তা তুমি আমাদের খাওয়াও নি । আব্বার কাছ থেকে টাকা নিয়ে তারপর আমাদের খাওয়াতে ! মনে পরে , আমি একটা টেনিস বল কিনে চেয়ে ছিলাম তুমি দেওনি ! এজন্য ১৭ দিন এক মুঠ করে ভাত খেয়ে তোমার কাছ থেকে বলটা নিয়েছি , পরে শুনতে পেয়েছি তুমি আমার কথা বলে আবু ভাইয়ের কাছ থেকে বিনে পয়সায় বলটা এনেছিলে !মনে পরে তুমি মরিচ পিয়াজ লবন তেল সব কিছুই চুরি করতে , তা আমার আমার দ্বারা আব্বার কাছে বিক্রি করতে ! আমার সব মনে আছে মা সব । মনে পরে আমাদের একটা গাভী ছিল , আব্বা আমাদের দুধ খাওয়ার জন্য গাভিটা পালতো । কিন্তু তুমি কি করেছো , আমাদের পানি মিশিলে দুধ দিতে আর বাকী দুধ গুলো কাফি চাচা দের বাড়ীতে বেচে দিতে !মনে পরে তুমি খড়ীও বেচতে ! আমাকে টাকার লোভ দেখিয়ে , আমার কাছে খড়ী নিতে কিন্তু সেই টাকা আমাকে দিতে না ! আর ও এরকম অহরহ ঘটনা আছে । তোমার অত্যাচারে এখনো আমি নির্যাতিত ! এই অত্যাচার আমাকে আর ও অনেক দিন বয়ে বেড়াতে হবে । তোমার অত্যাচারের কাহিনীকে আমি তিন ভাগে ভাগ করেছি । এতো গেল আব্বার মৃতুর আগের কাহিনী । এখনো আমি তোমার হ্যাঁ একমাত্র তোমাকেই আমার বাবার অকাল মৃতুর কারন বলি । তোমার কি মনে পরে , আমার এস এস সি পরীক্ষার কোচিং করার জন্য ৫০০ টাকার দরকার ছিল , তখন আব্বা দিতে পারেনি , তুমিও দাও নি , পরে তোমার কাছ থেকেই সুদের উপর নিয়েছিলাম ! ৪৫ দিনের জন্য তোমাকে ১৫০ টাকা দিতে হয়েছিল । মনে পরে তোমার জন্য আব্বার গায়ে এস এস সি পরীক্ষার হাত তুলেছিলাম ? ! সেই থেকে আব্বা আমায় বাড়ী থেকে প্রথম বারে মত বাড়ী থেকে বের করে দিয়েছিল ! তখনো আমার পরীক্ষা চলছিল ! তুমি ও আমাকে ভাত পর্যন্ত দিতে না , যা দিতে তাতে আমার পেট ভরতো না , এসব দেখে সবাই অনেক দুঃখ করতো !আর পরীক্ষা দিতে যাওয়ার টাকা ও দিতে না । আমি প্রায় প্রতিদিন ৭ কিলোমিটার হেটে গিয়ে এস এস সি পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলাম । জান আম্মা তোমার অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে কতো দিন আব্বা আমাকে বাইরে পাঠাতে চেয়েছিলো তবু আমি যাইনি । শুধু এই ভেবে আমি না থাকলে ছোট বোন দুটিকে তুমি মেরেই ফেলবে । যাই হোক আজ আর লিখছি আন্য কোন দিন আর বাকী কাহিনী দুটি লিখবো । এটা আমার জীবনের বাস্তব কাহিনীর লিখিতো দলিল হিসেবে থাকবে । যাতে আমার পরবর্তি প্রজন্ম আমার কাহিনী সম্পর্কে জানতে পারে । তুমি আমাদের সাথে এমন কর কেন মা । আমরা তো তোমার ই পেটের ই সন্তান । আর যে তোমার সত্‍ ছেলে সে তো অনেক দিন আগেই আলাদা হয়ে গেছে । এসব কথা কাউকে বলতে পারিনা মা , কেউ এসব কথা বিস্বাশ করবে না ! সবাই জানে সবার মা অনেক ভালো হয় । আমিও মানি মা রা সব সময় ভালোই হয় । কিন্তু আমার মা ব্যাতিক্রম । যা এক কোটের মধ্যে একটা হয় কি না আমার সন্দেহ হয় , আর হলে সেটাই তুমি । আম্মা তোমার কাছেই আমার প্রশ্ন তুমি আমাদের ভাগেই কেন পরলে ?। আমার ধারনা সারা পৃথীবির মধ্যে তুমিই এক মাত্র মা যা কিনা পৃথীবির সকল মা দের থেকে আলাদা । জান মা আমি সব সময় দোয়া করি আমার ধারনার ব্যাতিক্রম যেন না হয় । হলে সে মায়ের সন্তান দের যে কি হাল হতে পারে তা আমি কল্পনা করতে পারি । আমি ছাড়া তা মনে হয় আর কেউ কল্পনা করতে পারবে না । তার পর ও তোমার জন্য সব সময় দোয়া করি তুমি যেন ভালো থাকো , আর আল্লাহ যেন তোমায় তোমার বাসনা পূরন করে তোমাকে একটু জ্ঞান দেয় । দুনিয়ার সকল মাকে বলছি , আপনার সন্তানদের আপনাদের মনের মত করে মানুষ করে তুলুন , সকল মা দের অনুরোধ করবো তারা যেন আমার মা এর মত মা না হয় । আর আমার মত হতভাগ্য সন্তান দের জন্য পারলে আপনার সৃষ্টি কর্তার কাছে একটু দোয়া করবেন । পৃথীবির সকল মাকে সালাম জানিয়ে বিদায় নাচ্ছি ।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুন, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:১৩
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামু একটি ছোট নৌকা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৫



একটা ছোট নৌকা, পাল তুলে, পাড়ি দিচ্ছে -
অন্তহীন তারার রাস্তা পেরিয়ে।
পেরোচ্ছে গ্রহ, ধূমকেতু, ছুটন্ত আগুনের টুকরো,
দূরে কোথাও ধাক্কা লাগে, তারপর শব্দটা মিলিয়ে যায়।
ধীরে, খুব ধীরে এগোয় নৌকা;
তবু এগোয়।

নৌকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে ১০ টি বছর পার করলাম

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:০২



ব্লগে ১০ বছর পার করে দিলাম। কত সময় কেটে গেছে এখানে, কত পরিচিত মুখ রয়ে গেছে এখানে। তবুও ভালোবাসার বন্ধন যেন শেষ না হয়।

যে কবিতাটা দিয়ে ব্লগিং শুরু করেছিলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহকে জানতে হলে পাকিস্তান আন্দোলনের ইতিহাস জানতে হবে। পর্ব-১

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



পাকিস্তান সৃষ্টির বছরখানেক আগে ১৯৪৬ সালে বোম্বে শহরের দুই নামকরা পার্সি ডাক্তার বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর আয়ু আর বেশিদিন নেই। ডা.... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবির কথা আমার মুভি উতল অপেক্ষা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৫




আজ একটা নতুন খবর ভাগ করে নেই সবার সাথে। অনেক দিন থেকেই ভাবছিলাম, নিজের গল্প দিয়ে যদি নাটক বা সিনেমা করা যেত। ভাবনা এক সময় সত্যি হয়ে গেলো।
দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×