somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্মৃতি হাতড়াতে গিয়ে দেখি রবীন্দ্রনাথ এসে পড়ল !!!!

০৯ ই অক্টোবর, ২০১৩ সকাল ১০:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি প্রায়ই আমার অতীত স্মৃতিগুলো রোমন্থন করি। শৈশবের গ্রামে ফেলে আসা সেই দুরন্ত দিনগুলোর কথা এখনো আমার স্পষ্ট মনে পড়ে। মনে পড়ে আমরা দুই ভাই কত মারামারি করতাম। অবশ্য আমার সুবিধা ছিল আমি ছোট ছিলাম। ভাইটা আমার সারাজীবনই আমার হাতে মার খেয়েছে। শুধু আমি না, আম্মু আর আব্বুও তাকেই মারত। যদিও তখন মজা পেতাম, কিন্তু এখন মনে করলে মনে হয় বেচারা সর্বদা লঘু পাপে গুরু দন্ড ভোগ করত।কারন, সে আমাকে তার একমাত্র ছোট ভাই হিসাবে একটু আদর করতে চাইত মাত্র।কিন্তু আমি তখন এতই sensitive ছিলাম যে, চাইতাম না কেউ আমার গাল ধরে টিপাটিপি করুক কিংবা আদর করুক। এমন কি কেউ আমার গালে পাপ্পি দিলে আমি সাথে সাথেই সেই জায়গা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতাম। কি-সব হাস্যকর কাজ-কারবার!!! যাই হোক, তো এভাবে আরো অনেক অযুহাতে আমি আমার একমাত্র ভাইটাকে আব্বু-আম্মু’র হাতে মার খাওয়াতাম। তবুও সে সবসময় আমার সাথে খুনসুটি করবেই। এভাবে অনেক সময় সিরিয়াস মারামারিও হয়ে যেত। সিরিয়াস মারামারিতে আবার উলটো ঘটত! আমি তখন বেশুমার মার খেয়ে মায়ের আঁচলে লুকাতাম। আস্তে আস্তে সে স্কুল পেরিয়ে কলেজে ভর্তি হয়ে শহরে চলে আসে। আমি তখন ক্লাস সেভেন পার হয়ে এইটে উঠি। দেখলাম সে শহরে চলে যাওয়ার আগে তার মার্বেল, ঘুড়ি, ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট ইত্যাদি আমাকে ডেকে দিয়ে দেয়। আমিতো অবাক!! আবার খুশিতে বগলও দাবাচ্ছি। সে তখন শহরে বড় মামার বাসায় থেকে কলেজে পড়ে। এদিকে দিন যায়, মাস যায়…… দেখি আমি একটু একটু ফিল করা শুরু করছি তার শূন্যতা। বুঝতে পারি আমার ভাই আমার কেমন সাথি ছিল। বছর ঘুরতেই আমি ক্লাস নাইনে উঠি আর তখন থেকে তো রবীঠাকুরের “ছুটি” পড়া শুরু এটা সবাই জানেন। প্রথমবারের মত ফিল করলাম, আমার প্রানের প্রিয় ফটিক রূপী বড় ভাইকে। পড়ছি আর অবাক হয়ে চিন্তা করছি, আমার আর ফটিক চক্রবর্তী’র ছোট ভাই মাখনলালের মধ্যে কত মিল!!! আমার চোখ ভিজে উঠল। আমি এরপর থেকে নিজেকে বদলাতে শুরু করলাম। ভাইয়ার সাথে আগের মত তুই-তুকারী করিনা, তাকে সম্মান করতে শুরু করি। আগের মত মারামারির তো প্রশ্নই উঠেনা। বছর দুয়েক পর আমিও শহরে চলে আসি। কলেজে ভর্তি হই। ধীরে ধীরে অনেক কিছু বুঝতে শুরু করি। নিজেকে সংযত করি। আগের মত আর ধুমধাম রাগিনা।

আজ এতদিন পর আমার উপলব্ধি, রবীঠাকুর আসলে বাঙ্গালীর মানষে কতটুক গভীরভাবে মিশে আছে। যে কথা বা ঘটনা কিংবা চিন্তার উপর তিনি “ছুটি” রচনা করেন তার ১০০ বছরেরও পরে কিভাবে সেই একই ঘটনা আমার মত একজন অতিসাধারণ বাঙ্গালীর জীবনে আবারো তার লেখনীর মত করে ফিরে আসে??? আমি সত্যই অভিভূত। জয়তু রবীঠাকুর।

কয়েকদিন আগে আব্দুল গাফফার চৌধুরীর একটা লেখায় তিনি লিখেছিলেন- বাঙ্গালী জাতি তিনটা জিনিস ছাড়া অসম্পূর্ণ। যথা-
() বাংলা ভাষা।
() রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
() বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।


তাই কেউ স্বীকার করুক আর না করুক, আমি অন্তত মনে প্রানে বিশ্বাস করি- রবীন্দ্রনাথ ছাড়া বাঙ্গালীর অস্তিত্ত্ব কল্পনা করা যায় না। সে প্রতিটি বাঙ্গালীর চেতনা, বিশ্বাস, ভালোবাসা, সুখ-দুঃখ, হাসি-আনন্দ-বেদনা’র প্রতিটি নিঃশ্বাসের বায়ু প্রবাহে মিশে আছে।


বিঃদ্রঃ আমার ভাইয়া আল্লাহ’র অসীম রহমতে সুস্থ-সবল আছেন। আমরা জানিনা মাখনলাল ফটিকের মৃত্যুর পর কি করেছিল। তবে আমি জানি আমার সেই ভাইটা আমাকে আর আম্মুকে আব্বু মারা যাওয়ার পর থেকে গত সাড়ে ৫ বছর ধরে কিভাবে ফ্যামিলি’র অভিভাবক হয়ে চালিয়ে নিচ্ছে। জয়তু ভাইয়া। অনেক অনেক অনেক দিন বেঁচে থাকো আর অনেক বেশি ভাল থাকো। সামনের বছরে ভাইয়ার শুভ বিবাহ। আপনারা সবাই দোয়া করবেন।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×