somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের প্রতি দায়িত্বশীল হোনঃ

০৯ ই জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পরিবারের প্রবীণ সদস্যদের প্রতি দায়িত্বশীল হোন

অতীত ছাড়া বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ কল্পনা করা যায় না। সুখকর বর্তমান রচনায় যারা তাদের সোনালি যৌবনকে বিসর্জন দিয়েছেন তারাই হচ্ছেন আমাদের সমাজের প্রবীণ সদস্য। বাবা-মায়ের অস্তিত্ব ছাড়া ছেলের উপস্থিতি আশা করা যায় না। তাই প্রবীণ সদস্যের প্রতি আমাদের বিরাট দায়িত্ব রয়েছে। কিন্তু আমরা ক’জন পরিবারের প্রবীণ সদস্যের প্রতি আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারছি বা করছি? পবিত্র ইসলাম ধর্মে বাবা-মায়ের প্রতি বেশকিছু দায়িত্ব পালনের জন্য সন্তানের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইহকালীন এবং পারলৌকিক মঙ্গল অর্জনের জন্য এই দায়িত্ব পালন খুবই জরুরি। কোনো সন্তান যে যত পরহেজগারই হোক না কেন বৃদ্ধ বাবা-মায়ের খেদমত না করলে তার পক্ষে বেহেস্তে গমন করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, একবার নবী করিম (স) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র রমজান মাস পেল অথচ জান্নাত কামাই করে নিতে পারলো না তার জন্য আল্লাহর অভিসম্পাত। যে ব্যক্তি তার বাবা-মাকে পেল অথবা তাদের দু’জনের একজনকে পেল কিন্তু জান্নাত কামাই করতে পারলো না তার জন্যও অভিসম্পাত। যে ব্যক্তি আমার নাম উচ্চারিত হবার পর দরুদ পাঠ করলো না তার জন্য অভিসম্পাত।’ এই হাদিস থেকে সহজেই অনুধাবন করা যায় ইসলামে বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ব পালনের ওপর কতটা গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অন্যত্র বলা হয়েছে, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি এমন আচরণ করা যাবে না যাতে তারা সামান্যতম কষ্ট অনুভব করতে পারেন। কিন্তু আমরা ক’জন বাবা-মায়ের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন করছি? কোনো কোনো সন্তান আছেন যারা মা-বাবার প্রতি নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ করে থাকে। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে ওল্ড হোম কালচার অনেক দিন ধরেই চালু আছে। এক সময় তারা বৃদ্ধ মা-বাবাকে বৃদ্ধ নিবাসে পাঠিয়ে দেয়। মাঝে মাঝে কিছু টাকা-পয়সা দিয়ে আসে। এতেই তাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়।

এক সময় আমাদের দেশের পারিবারিক বন্ধন উন্নত দেশগুলোর জন্য ঈর্ষণীয় ছিল। কিন্তু এখন এই পারিবারিক বন্ধন অনেকটাই শিথিল হয়ে গেছে। আমাদের দেশেও এখন ‘ওল্ড হোম’ কালচার ধীরে ধীরে বিকাশ লাভ করছে। আমরা যারা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি যত্নবান নই তাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখতে চাই, একবার ভাবুন তো ছোট বেলায় যখন আপনি হাঁটাচলা এমন কি নিজের হাতে খেতে পারতেন না তখন কে আপনার দেখাশোনা করতো? কে রাতে না ঘুমিয়ে আপনার দেখাশোনা করতো? কে আপনার আহার-পোশাক-পরিচ্ছদ যোগাতো? আপনি যখন শিশু ছিলেন তখন আপনার বাবা-মা যদি আপনার প্রতি দায়িত্ব পালনে সামান্যতম গাফিলতি করতেন তাহলে কি আপনি বেঁচে থাকতে পারতেন? আপনি যখন বৃদ্ধ হবেন, রোজগারের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না তখন যদি আপনার আদরের সন্তান আপনার প্রতি একই আচরণ করে তাহলে কেমন লাগবে? এটা কোনো ভাবাবেগ নয় বাস্তব সত্যি। আপনি আজ বাবা-মায়ের প্রতি যে ধরনের ব্যবহার করছেন ভবিষ্যতে আপনার সন্তানও আপনার প্রতি একই রকম আচরণ করবে না তার নিশ্চয়তা কী? আমাদের দেশে সাধারণত একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় আর তা হলো, একটি ছেলে বিয়ে করার পর সম্পূর্ণ বদলে যায়। তারা বাবা-মায়ের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ে। এজন্য ছেলের বউকে এককভাবে দায়ী করা ঠিক হবে না। ছেলের বউ শ্বশুর-শাশুড়ি নিয়ে এক সংসারে থাকতে না চাইলেই ছেলে কেন তা মেনে নেবে? ছেলের উচিত তার বউকে বোঝানো যে বাবা-মায়ের প্রতি তার দায়িত্ব রয়েছে। অনেক বউকে দেখা যায়, তার বাসায় অবস্থানকারী শ্বশুর-শাশুড়ির প্রতি অত্যন্ত বাজে আচরণ করে। এটা মোটেও ঠিক নয়। কারো বৃদ্ধ বাবা-মা জীবিত থাকলে তাদের প্রতি যত্নবান হওয়া একান্ত আবশ্যক। ভারতে সম্প্রতি প্রণীত একটি আইনে বলা হয়েছে, কোনো সন্তান যদি তার বাবা-মায়ের প্রতি খারাপ অচরণ করে কিংবা তাদের ভরণ-পোষণে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শন করে তাহলে তাকে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে। আমাদের দেশেও এ ধরনের একটি আইন প্রণয়ন করা একান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায় ওল্ড হোম কালচার আমাদের দেশেও বিস্তার লাভ করবে। এ ছাড়া সামাজিক সংস্থাগুলোকেও এ বিষয়ে ভাবতে হবে। আমাদের একটি গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে- কোনোক্রমেই তা বিঘ্নিত হতে দেয়া যায় না।

সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুলাই, ২০১১ সন্ধ্যা ৭:৪৪
৯টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×