somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিশু সুইমের স্মার্ট ফোন ও একজন টোকাইB-)

১৬ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সুইমের আইফোন কিংবা স্যামসাং গ্যালাক্সি এস-৫ নাই! কুটিপতি বাবার সন্তান! তবুও কেন থাকবেনা? তাই তাঁর অনেক দুঃখ! বাবার হিসেব হচ্ছে, ছেলেরতো আগে জেএসসিটা পার করা চাই, তারপর না হয় এসব দেয়া যাবে। কিন্তু সুইমের দুঃখের অন্ত নেই। তার বন্ধুদের প্রায় প্রত্যেকেরই কারো আইফোন-৫, কারো হাতে গ্যালাক্সি এস-৫ কমসেকম একটা স্মার্টফোনতো আছেই। ডিজিটাল যুগের শিশুদের খেলার উপকরন এখন এগুলো। মাল্টিমিডিয়া, ইন্টারনেট, ব্লগিং, চ্যাটিং, ট্যাগিং শিশুদের আষ্ঠে-পৃষ্ঠে মিশে গেছে।

রাজধানীর ক্যামব্রিয়ান স্কুলের পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ে সুইম। ক্যামব্রিয়ানে ভিত্তবানদের সন্তানরা ছাড়া পড়ার সুযোগ আর কারো নাই। খরচপাতি অনেক এক্সট্রিম হওয়াই এর কারন। স্কুলে নিজেদের গাড়ীতেই আসা যাওয়া করে সুইম। বাহিরের জগত সম্পর্কে তার তেমন একটা ধারনা নেই বললেই চলে। তার ধারনা তার বয়সি ছেলে মোয়েদের রাস্তাঘাট কিংবা বাহিরে বের হওয়াটা খুবই বিপদজনক। ছেলে ধরার খপ্পরে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

স্কুলে যাওয়ার পথে একদিন একটা ঘটনা ঘটেছিলো। রাস্তায় প্রচন্ড জ্যামের মধ্যে তার বয়সি একটা ছেলে তাদের গাড়ীর গ্লাসগুলো হটাৎ মুচতে শুরু করলো, এবং মুখে কি জানি সব বলছিলো। গ্লাস লাগানো ছিলো বিধায় সুইম কিছু শুনতে পাচ্ছিলোনা। সুইম ড্রাইভার আংকেলকে জিগ্যেস করলো আঙ্কেল ছেলেটা কি করতে চাইছে একং কি বলছে। আংকেল বলল "আরে এগুলো সব নর্দমার কীট! ধান্দাবাজী কইরা খায়"। সুইম আংকেলের কথার কিছুই বুঝলোনা। মনে মনে ভাবে ছেলেটির কত সাহস। বাহিরে গুরোগুরি করছে, তাও আবার রাস্তার মাঝখানে, শরীরে কেমন ময়লা জমিয়েছে, পাঁয়ের জুতোটাও কোথাও ফেলে এসেছে । আজকে নিশ্চিত বাসায় গেলে আচ্ছামত বকা খাবে।

সুইমদের মত জীবন যাত্রার মান যাদের সুপার ক্লাসের, তারা আসলে বুঝতেই পারেনা এদেশে নর্দমার কীটদের সংখ্যাই বেশী। যাদের তিন বেলার কোননা কোনটিতে অন্নহীন থাকতে হয় প্রায় সময়। পেটের ক্ষুদা যাদের নিত্তদিনের উপহাস। তাদের আবার শরীরে ময়লা কি? অথবা ছেলেধরার ভয় কি? কিংবা বাসায় গেলে বাবা মায়ের বকা খাওয়া কি?

সুইমের ড্রাইভার বিষয়টি নিয়ে সুইমের কৌতুহল উদ্দিপক দৃষ্টি দেখে মনে মনে একটু হাঁসলো। হাঁসতে হাঁসতে সুইমকে বলল, "বাবা ঐ ছেলেটা হচ্ছে একটা টোকাই। ৫-৬ বছর বয়সের ঐ টোকাই ছেলেটার কাজই হচ্ছে এগুলো। গাড়ী মুচে দিয়ে টাকা চাওয়া। দুইটাকার জন্য এজন ওজন গুরে বেড়ানো, মলিন চেহারায় কান্নাজড়িত কন্ঠে আকুতি জানানো, এর মধ্যে বড়লোকদের দুই একটা লাথি-উষ্ঠা খাওয়াতো আছেই।। পড়ালেখা কি জিনিস তারা তা বুজেনা কখনো। তোমার বাবার মত ওর বাবার অতকিছু নেই, মাথার উপরের ছালতো দুরের কথা- তিনবেলা ক্ষুদা নিবারনের ভাতটুকুও নাই। তাই খালি পায়ে- খালি গায়ে দুপুরের কর্কষ রোদের মধ্যে নেমে পড়েছে দুমুঠো ভাতের জন্য।" সুইম ড্রাইভার আংকেলের কথায় অনেকটা আকাশ থেকে পড়ার মত হতবম্ব হয়েগেছে(!)। তাঁর শিশুসুলভ চেহারায় অনেকটা কষ্টের চায়া ঝেঁকে ধরেছে। মনে মনে ভাবছে, আমার বাবার এত কিছু থাকলে তার বাবার কিছু নাই কেন? আমার বাবার অর্থ-সম্পদ, বাড়ী-গাড়ী, টাকা পয়সার একটুওতো অভাব নেই। ছেলেটার বাবার কিছুই নেই কেন? কোন উত্তর খুজে পায়না সুইম।

আমাকে আল্লাহ কতই না ভাল রেখেছে, তবুও একটি স্মার্টফোনের জন্য আমি কতইনা দুঃখ করছি, অভিমান করছি। ঐ টোকাই ছেলেটাতো কখনোই স্মার্টফোন কি জিনিস একটু চুয়ে দেখার সুযোগ পাবেনা হয়তো। সুইম মনে মনে নিজেকে সান্তনা দেয়।

সুইমের শিশুমনে সমাজের এ বৈশম্যের কোন কারন হয়তো খুজে পাচ্ছেনা। কিন্তু তার বাবার মত ভিত্তশীলরাও কি এর কারন জানেন না? জানেন! তবে, বিলাসিতার জৌলোশ তাঁদেরকে নির্বিকার এবং অন্ধ করে রেখেছে । এসব উধবাস্তু টোকাইদের পুনর্ভাসনে তাঁদের একটু সদিচ্ছার প্রতিফলনই যথেষ্ঠ, এটুকুন তাঁরা বুজেননা।।।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×