
আমি তখন মতিঝিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তাম। কি যে পড়তাম! কিছুই মনে থাকতো না। বাংলা সাত দিনের নাম, ইংরেজিতে সাত দিনের নাম, ইংরেজিতে ১২ মাসের নাম, বাংলার ১২ মাসের নাম শিখতে শিখতে ৬ মাস লেগে গিয়াছিলো। Saturday, Sunday, Monday বানান সহ শিখতে আমার একমাস সময় লেগেছিলো। আমি একদিক থেকে একটি প্রশ্ন মুখস্ত করতাম, আরেক দিক থেকে ভুলে যেতাম। স্যারেরা গণিত বুঝাতো ঠিক। যেমন এই চ্যাপ্টারের সব যোগ হবে। এই অধ্যায় এর সব বিয়োগ হবে। পরে যদি আপনারা যোগ বিয়োগ আলাদা করে করতে দিতো, তাহলে আমি প্যাচ লাগিয়ে দিতাম। এই কি ঐ চ্যাপ্টারের অংক? তাহলে যোগ হবে। এটা কি সেই চ্যাপ্টারের অংক তাহলে এটা বিয়োগ হবে। এমন কনফিউশনে থাকতাম।
পরে আমি ভয়ে মতিঝিল সরকারি প্রথমিক স্কুল থেকে চলে আসি। পরে আমি ক্লাস ফাইভে নরসিংদী তে অবস্থিত “সরকার রেডিয়েন্ট স্কুল” এ ভর্তি হই। সেখানে অবশ্য মনে রাখার বেরাম চলে যায়। কিন্তু আচরণে প্রতিবন্ধীর ছাপ রয়ে যায়। আর মানুষ আমার সাথে মশকরা করতো। আর ঘৃণার সাথে বলতো “এই উমুক অফিসারের পোলা।” মানুষ কেমন যেন করিয়া বলতো “এটা উমুক অফিসারের পোলা” কথার সুরে কেমন যেন বিদ্রুপ ছিলো।
এখন আসি আসল ঘটনায়ঃ
ক্লাস সিক্সে আমার বাব্বু জয়পুরহাট বদলী হয়। ২০০৬ সালে আব্বু জয়পুরহাট বদলী হয়। তখন বিএনপি সরকার ক্ষমতা ছেড়ে দেয়। তত্ত্ববধায়ক সরকার আসে। এটা সেই সমযের ঘটনা। আমি তখন একটি স্কুলে ভর্তি হই। স্কুলেরর নাম বলবো না। সেই স্কুলের একজন স্যার ছিলো। হুজুর স্যার। আমি প্রতিবন্ধী বলে আমাকে শুধু মারতেন। আরেকজন মেডাম ছিলেন। মেডামের নাম মনে নাই। মেডামের শাড়ি পড়ার ধরন দেখে মনে হতো তিনি আধুনিক মনস্ক। সারা রাত্রি মনে হয় স্বামীর সাথে ঝগড়া করতো। আর ক্লাসে সেই রাগ ঝাড়তেন। একদিন তো মেডাম সবার সামনে আমাকে অপমান করেছে। আর কাউকে অপমান করে নাই। শুধু আমাকেই অপমান করেছে। এখন আমি ইসলামিক মাইন্ড এর কাছ থেকেও খারাপ ব্যাবহার পেয়েছি। আর আমি বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তমনা মেডামের কাছ থেকেও বাজে ব্যাবহার পেয়েছি। এই দুই টিচার যখন ক্লাস নিতো আমি ভয়ে তটস্থ থাকতাম। কখন যেন কোন ভুলে পিটাবে।
আর সহপাঠীদের কথা কি বলবো। তাদের আচরন একদম দেখার মত। কেউ মনে হয় আমাকে সহ্য করতে পারতো না। তাই আমি ক্লাস সিক্স থেকে এইট পযর্ন্ত একাই কাটিয়েছি। কোন বন্ধু ছাড়া। সুজয় হালদার আর অরুপ কুমারের সাথে যদিও বন্ধুত্ত্ব হয়েছিলো, তারাও রেগুলার ক্লাসে আসতো না। আপনারা কি মনে করেছেন? বাসায় নিরাপদ ছিলাম? বাসায়ও নিরাপদ ছিলাম না। প্রায় সময়ই আমাকে ধমক থেতে হতো। বিশেষ করে “মা” এর কাছ থেকে বেশী ধমক থেয়েছি।
আমাদের কোয়াটার্র ছিলো দ্বীতিয় তলায়। আমার পড়ার রুম ছিলো বারান্দায়। সে সময় পড়া শেষে কিছু বারান্দায় বসে ঝিঝি পোকার ডাক শুনতাম। রাতের নির্জনতা উপভোগ করতাম। কোলাহল, উচ্চকন্ঠস্ব, মানুষের কটু কথা মুক্ত কিছক্ষণ। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে ঝিঝি পোকার ডাক আর রাতের নিস্তবতা খুব উপভোগ করতাম।

সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মে, ২০২৪ রাত ৯:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




