somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নক্ষত্রের অতিথি

২২ শে এপ্রিল, ২০২৫ রাত ৯:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নক্ষত্রের অতিথি


খ্রিষ্টপূর্ব ১৩০০ সাল। রামসেসের রাজত্বকাল। মিশরের আকাশে হঠাৎ এক আলো বিচ্ছুরিত হলো। পিরামিডের ওপরে, রাতের নীল আকাশে, এক অদ্ভুত জ্যোতির্ময় বস্তু ধীরে ধীরে অবতরণ করল। লোকেরা ভয় পেয়ে দিগ্বিদিক ছুটোছুটি শুরু করল। কিন্তু মিশরের প্রধান পুরোহিত, ইমহোতেপ, নীল নদের ধারে ধ্যানস্থ অবস্থায় বসে ছিলেন। হঠাৎ তিনি অনুভব করলেন এক মহাজাগতিক শক্তি তাঁর কাছে আসছে।

তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি সেই "অতিথিদের" সাথে সাক্ষাৎ করেন।

তারা এল, এক অলৌকিক ধাতব যান থেকে। গায়ের রঙ রুপালি, চোখ দু’টো গভীর, কিন্তু চোখে ছিল দয়ার ছাপ। তারা কথা বলল না, তবে ইমহোতেপ শুনলেন তাদের কণ্ঠ মনে, চেতনায়।

"আমরা এসেছি তারকার পেছন থেকে," তারা বলল, "জ্ঞান বিনিময়ের জন্য।"



ইমহোতেপ তাদের দেখালেন মিশরের জ্যোতির্বিজ্ঞান, মন্দিরের জ্যামিতি, সূর্য আর নীল নদের সাথে মিশরের জীবনের সম্পর্ক। তারাও তাঁকে দেখাল, কীভাবে মহাকাশে সময় আলাদা, কীভাবে নক্ষত্রের তরঙ্গ দিয়ে তারা পরিমাপ করে মহাবিশ্বের ছন্দ।

এক সপ্তাহ পর, সেই একই যান এবার উড়ে গেল পূর্ব দিকে, মরু পার হয়ে পৌঁছালো তৎকালীন বাগদাদে এক নগরী যেখানে বই ছিল সম্পদ, আর পাণ্ডিত্য ছিল গৌরব। তখন বাগদাদে বসবাস করতেন জ্ঞানী সায়ীদ আল-আলীম, যিনি ধর্ম ও দর্শনে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।

তাঁর সঙ্গে দেখা করলো সেই মহাজাগতিক আগন্তুকেরা।

"তোমাদের ধর্ম বলে কী?" তারা জিজ্ঞেস করল।

সায়ীদ বললেন, “আমাদের ধর্ম বলে, জ্ঞান খোঁজা হলো ঈশ্বরের পথ খোঁজা।”

তারা হেসে বলল, “তবে আমরা এক পথেই আছি।”

বাগদাদের পান্ডিত্যে তারা দেখলো অঙ্ক, চিকিৎসাবিজ্ঞান, দর্শন, ও পাণ্ডিত্য, সব কিছুই একরকম ভাষায় প্রকাশ পায়: যুক্তি ও কল্পনার ভাষায়।

তারা নিজেদের প্রযুক্তি শিখিয়ে গেল, চৌম্বক শক্তিকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, কীভাবে আলোকে ভেঙে বিশ্লেষণ করা যায়, কীভাবে তথ্য সংরক্ষণ করা যায় এমন জিনিসে যা কেবল আলোতে প্রতিফলিত হয়।

এরপর এক রাত, তারা চলে গেল।

কিন্তু রেখে গেল দুইটি ছোট ফলক, একটি ইমহোতেপের কাছে, আরেকটি সায়ীদের কাছে। ফলকের ওপর লেখা ছিল একটিমাত্র বাক্য:

"তোমরা যারা প্রশ্ন করো, তারাই প্রকৃত তারাদের উত্তর শুনতে পায়।"



সর্বশেষ এডিট : ২২ শে এপ্রিল, ২০২৫ রাত ৯:২৮
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুসা নবীর পাতা খেয়ে সুস্থ্য হওয়া সম্পর্কিত হাদিসটি ২৫টি হাদিসগ্রন্থে নেই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৭

আমি গতকাল হযরত মুসা (আ) গাছের পাতা খেয়ে সুস্থ্য হওয়া সম্পর্কে একটি হাদিস উল্লেখ করেছিলাম। এটা ব্লগার নতুন চ্যালেঞ্জ করেন। আমি এরপরে সিহাহ সিত্তাহ-এঁর ৬টি হাদিসগ্রন্থ-সহ ২৫টি হাদিসগ্রন্থ থেকে 'কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

শের

লিখেছেন এ.টি.এম.মোস্তফা কামাল, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৯


তিন শ' তিন
মুমিন তো নই, তবু খোদা টিকিয়ে রেখেছে!
প্রেমিক তো নই, তবু প্রেম বিকিয়ে রেখেছে!

তিন শ' চার

ভীষণ একাকী আমি, অপেক্ষায় কেটে যায় বেলা।
হতাশার মাঝে শুধু, পাশে আছে তার অবহেলা ! ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঠাকুর ঘরের কে? কলা আমি খাই নি ! :D

লিখেছেন অপু তানভীর, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:১০



''শেকল ভাঙার পদযাত্রার'' যাত্রা শুরু ২০২০ সাল থেকে। নারী বৈষম্য ধর্ষণের মত অপরাধগুলোর বিরুদ্ধে তারা এই পদযাত্রা করে থাকে। নানান দাবী নিয়ে তারা এই পদযাত্র করে থাকে। এর আগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×