তত্ত্বাবধায়ক সরকার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এমএ মতিন বিবিসিকে বলেছেন, এই পরিষদ মূলতঃ জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো দেখাশুনা করবে। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এই পরিষদের প্রধান হবেন এবং সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানের পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও এতে সদস্য হিসেবে থাকবেন। এমএ মতিন বলেন, খুব শিগগিরই এই পরিষদ গঠন করার জন্য সরকার কাজ করছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করা হবে কি হবে না তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল অনেকদিন থেকেই। তবে সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা এমএ মতিন বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ গঠনে সরকার প্রাথমিক সিদ্ধন্ত নিয়েছে এবং সে ব্যাপারে কাজও শুরু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান থাকবেন প্রধান উপদেষ্টা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া এতে থাকবেন সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানসহ নিরাপত্তার কাজে জড়িত বিভিন্ন সংস্থা যেমন এনএসআইয়ের ডিজি প্রমুখ সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। এই পরিষদের কাজ কি হবে- এই প্রশ্নের জবাবে জেনারেল মতিন বলেন, এই পরিষদের কাজ হবে মূলতঃ জাতীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা দেয়া, চিন্তা-ভাবনা করা ও তা নিশ্চিত করা, সময় সময় সুপারিশ করা ইত্যাদি।
এই ধরনের পরিষদ গঠনের প্রয়োজন কেন-এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পৃথিবীর সব দেশেই আছে। নিরাপত্তা ছাড়াও যেমন দুনর্ীতি আছে তা দেখা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তাছাড়া স্বচ্ছতাও আসবে। কমিটি থাকলে প্রত্যেকে প্রত্যেকের কাজের জন্য জবাবদিহি থাকবে। সময় সময় তারা বৈঠকে বসবেন, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
সরকার আছে, উপদেষ্টা পরিষদ আছে, তা সত্ত্বেও এটার প্রয়োজনটা কি?- এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারাতো কাজ করছেনই। সরকার অতীতে ছিলেন,কাজ করেছেন এবং দুনর্ীতি ও অনিয়মও পাশাপাশি হচ্ছিল। পরিষদ সময় সময় বৈঠকে বসলে এগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। বাংলাদেশেই কেবল এই নিরাপত্তা পরিষদ আছে তা নয়। পাকিসত্দানে আছে, ভারতে আছে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও আছে। বাংলাদেশেও পরিষদ ছিল, কিন্তু তাকে কার্যকর করা হয়নি। পরিষদের রূপরেখা এখনও ঠিক হয়নি।
উপদেষ্টা এমএ মতিন বলেন, পরিষদের কার্যক্রম ও করণীয় এখনও ঠিক হয়নি। তবে খুব তাড়াতাড়িই তা করা হবে। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জবাবদিহিতা থাকবে সরকারের কাছে।
কিন্তু এই পরিষদের সদস্য হিসেবে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি কিভাবে বাছাই করা হবে সে ব্যাপারে তিনি পরিষ্কার করে কিছু বলেননি।
দেশে স্বাধীন দুনর্ীতি দমন কমিশন থাকার পরও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ বিভিন্ন ৰেত্রে দুনর্ীতি বা অনিয়মগুলো কিভাবে দেখাশুনা করবে তাতেও পরিষ্কার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উপদেষ্টা এমএ মতিন বলেন, পরিষদের রূপরেখো যখন প্রণয়ন করা হবে তাতে বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হবে।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ [লিংক=যঃঃঢ়://িি.িরঃঃবভধয়.পড়স/মবঃ.ঢ়যঢ়?ফ=07/03/08//িহথুঃুুুঁ]08.03.2007[/লিংক] ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



