অনেক আগে থেকেই থাইল্যান্ড, চীন, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন প্রভৃতি দেশে খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি শুরম্ন হয়েছে। আমাদের দেশে পরীৰামুলকভাবে খাঁচায় মাছ চাষ শুরম্ন হয় 1980 সালে মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে। বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকও এর সঙ্গে সংশিস্নষ্ট ছিল। পরবতর্ীতে মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদ, মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট এর উপর গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করে। হাওরাঞ্চলে প্রথম খাঁচায় মাছ চাষ শুরম্ন হয় মিটামাইন উপজেলায়। মৎস্য বিভাগের সমন্বিত মৎস্য কার্যক্রমের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে সংশিস্নষ্ট উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তা এই উদ্যোগ নেন। মডেল হিসেবে মিটামইন উপজেলা সদরে একটি পুকুরে খাঁচায় মাছ চাষের এই কার্যক্রমটি অদ্যাবধি চালিয়ে যাচ্ছে একটি মহিলা সমিতি।
সাথারণতঃ নদী কিংবা পুকুর উভয় স্থানেই খাঁচায় মাছ চাষ করা যেতে পারে। এর জন্য প্রথম প্রয়োজন খাঁচা তৈরী। খাঁচার আকৃতি বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। খাঁচা তৈরীর জন্য প্রয়োজন কালো পলিইথিলিন জাল, সিনথেটিক কাপড় বা সিনথেটিক চটের বসত্দা, পস্নাস্টিকের ট্রায়েঙ্গেল, নলি বাঁশ, বয়া বা পস্নাস্টিকের কন্টেনার, নাইলন বা সিনথেটিক জালের মোটা সূঁতা, তার কাটা প্রভৃতি। প্রতিটি খাঁচা তৈরীতে ব্যয় হয় তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা এবং একবার স্থাপনের পর তিন বছর পর্যনত্দ খাঁচা মেরামতের প্রয়োজন হয় না। খাঁচা নির্মাণের পর বাঁশের খুঁটির সাহায্যে খাঁচাসমূহকে পুকুর, হাওর অথবা নদীর কিনারায় এমনভাবে স্থাপন করতে হবে যেন নীচের অংশ যেন মাটির অনত্দতঃ দেড় থেকে দুই ফুট উপরে ভাসমান থাকে। সাধারণতঃ খাঁচায় পোনা ছেড়ে তেলাপিয়া, থাই পাঙ্গাশ, থাই সরপুটি, গ্রাস কার্প, থাই কৈ, শিং, মাগুর, ভেটকি, চিংড়ি প্রভৃতি মাছ চাষ করা যায়। তবে তেলাপিয়া ও পাঙ্গাশ মাছ চাষ করে ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত মাছের খাবার প্রদান ও খাঁচায় আবদ্ধ মাছের নিয়মিত পরিচর্যা করতে হবে।
তবে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ৰেত্রে প্রয়োজনীয় উপকরণের দুস্প্রাপ্যতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবে এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ এখনও সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। এই চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যাপক সম্প্রসারণের মাধ্যমে মাছের ঘাটতি পূরণ ও হাওরাঞ্চলে বিপুল বেকার জনগোষ্ঠীর কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 19.04.2006 ঃঃ

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


