somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অচিকীর্ষু বালক
১৯৯৩ সালের মার্চ মাসের এক রাতে আমার জন্ম। কার চোখে চোখ রেখে আমার চোখ ফোটা জানা নেই। কিন্তু জন্মের পর থেকেই একটা রোগ পেয়ে বসেছে,কারণে অকারণে রেগে যাওয়া।nবোকা সোকা মানুষ, সহজেই মানুষকে বিশ্বাস করে ফেলি, এ কারণে খেসারতটা প্রতিনিয়ত দিতে হয়।

[মাসিক আল-কলম (পুষ্প)] একটি রিভিউ : কিছু অনুভূতি

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ বিকাল ৫:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বই পড়ার নেশা হয়েছে ছেলেবেলাতেই ৷ সম্ভবত পাঁচ কিংবা ছয় বছর বয়সে আব্বু "মজার মজার গল্প" নামে একটা বই কিনে দিয়েছিলেন ৷ সেইযে গল্পের প্রেমে পড়েছি , আজও সেই প্রেমে ভাটা পড়েনি ৷ বরং প্রেমের তালিকায় নাম বেড়েই চলেছে ৷ গল্পের সাথে যোগ হয়েছে কবিতা, উপন্যাস, আত্মজীবনী, ইতিহাস ইত্যাদি ৷ একটা দীর্ঘসময় পর্যন্ত গল্প-উপন্যাসের কাহিনী,কবিতার ভাষ্য কিংবা ইতিহাসের চমকপ্রদ তথ্যই ছিল আমার বই পড়ার মূলকারণ ৷ তখনো ভাষায় স্বাদ আস্বাদন করতে শিখিনি ৷ ভাবিনি, কিভাবে শব্দের সাথে শব্দ গেঁথে বাক্যের মালা বানাতে হয় ৷ শব্দেরও যে আলাদা স্বাদ আছে, আছে নানা গন্ধ ; তা ছিল অজানা ৷ আর কোনকিছু লিখতে ইচ্ছে হওয়া তো অনেক দূরের কথা ৷ সেসময় আমার সামনে এই নতুন জগতের দ্বার উন্মোচন করেছিল একটি সাহিত্য পত্রিকা ৷ তার নাম "পুষ্প "৷ নামের মত গুণেও পত্রিকাটি ছিল পুষ্পের সৌরভে সুরভিত ৷ ("ছিল" বলছি এজন্য যে,বর্তমানে পুষ্পের "প্রস্ফুটন" বন্ধ রয়েছে ৷) পুষ্পে থাকত নানা রঙের, নানা ঘ্রাণের ছোট বড় অনেক লেখা ৷ বিষয়বস্তুর বিভিন্নতা থাকলেও পুষ্পের মূললক্ষ্য ছিল শিশু-কিশোর এবং তরুনদের সাহিত্যচর্চার পথ দেখানো ৷ "পুষ্প " শিশু-কিশোর,তরুনদের জন্য 'প্রস্ফুটিত' হলেও তার সৌরভ থেকে বড়রাও বঞ্চিত হতনা ৷ "পুষ্প " দুটি পর্বে প্রকাশিত হয়েছে ৷ প্রথম পর্বে ১লা জুমাদাল আখের ১৪২০ হিজরী থেকে ১৪২৩ হিজরীর শাবান পর্যন্ত ২২ টি সংখ্যা এবং দ্বিতীয় পর্বে ১৪২৮ হিজরীর শাবান থেকে ১৪৩২ হিজরীর জুমাদাল উলামা পর্যন্ত ২০টি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছিল ৷ পুষ্পে নিয়মিতভাবে যে বিভাগগুলো থাকত সেগুলো হল :
★প্রথম কথা
★স্বর্ণাক্ষরে: ( বাণী)
★আমার প্রতিজ্ঞা :
★সম্পাদকীয়:
★কোরআনের আলো, হাদীসের আলো: ( একটি আয়াত ও একটি হাদিসের অনুবাদ ও ব্যখ্যা)
★আলকোরআন সম্পর্কে, বিশ্বনবী সম্পর্কে ( বড় মণীষীদের মন্তব্য)
★আন্তর্জাতিক সংবাদ ( পর্যালোচনা)
★জাতীয় সংবাদ ( পর্যালোচনা)
★রম্যরচনা ( "রসের কলমদানি" এর শুরুতেই লেখা থাকে, "ইহা রসে টইটম্বুর একখান লেখা ৷ সুতরাং হে আকলমন্দ পাঠক! ইহাকে বেশী কাত করিয়া পড়িও না, তাহাতে রসটুকু পড়িয়া যাইতে পারে ৷" গোলাম হোসেন নামে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি রম্য কথাবার্তায় সমাজ,রাজনীতি, বিজ্ঞান সহ নানা বিষয়ের অসংগতি তুলে ধরেন ৷)
★বিশেষ লেখা ও প্রবন্ধ
★প্রকৃতির টানে / পর্যালোচনামূলক লেখা
★ভ্রমণকাহিনী
★বিশেষ চিঠি /পুষ্পের প্রতি ভালবাসা
★মর্মস্পর্শী / মৃত্যুর স্মরণে লেখা
★উপদেশমূলক লেখা / বিশেষ চিঠি
★শেখসা'দীর গুলিস্তাঁ ( শেখসা'দীর উপদেশমূলক ঘটনার ছন্দে ছন্দে অনুবাদ ৷)
★ধারাবাহিক লেখা [ "মুসলিম উম্মাহর অধঃপতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হল "( যা বহুভাষায় অনূদিত , চিন্তাবিদ ও বোদ্ধা পাঠকমহলে সমাদৃত এবং বাদশাহ ফয়সাল পুরস্কার অর্জনকারী আরবী রচনা "মা যা খাসিরাল আলামু বিনহিত্বাত্বিল মুসলিমিন " এর বাংলা অনুবাদ ) সহ আরো কয়েকটি বইয়ের ধারাবাহিক অনুবাদ]
★তোমাদের চিঠি আমাদের পত্র ( "তুমি রসগোল্লার মত একটা চিঠি পাঠাও, আমি তোমাকে চমচমের মত একটা পত্র দেবো ৷ পুষ্পের পাঠক বন্ধুরা সেই রসগোল্লা আর চমচম খেয়ে বলবে, আহা! কী মজা! " সম্পাদক ভাইয়া আর পাঠকদের মজার খুনসুটির বিভাগ
=p~
সাথে সম্পাদক ভাইয়ার খোঁচা ফ্রি
) ;)
★রোজনামচার পাতা
★এসো কলম মেরামত করি ( এই বিভাগে লেখালেখির কায়দা-কানুন, বহুল প্রচলিত ভুল সংশোধন, সাহিত্য-সমালোচনা সহ সাহিত্যের নানাদিক নিয়ে আলোচনা করা হত )
★বানানের জলসা ( নানা শব্দের বানান নিয়ে লেখা রম্যধাঁচের রচনা)
★তোমাদের লেখা আমাদের দেখা ( এই বিভাগে পাঠকদের লেখার ত্রুটি বা ভালদিক নিয়ে আলোচনা করা হত ৷)
★তোমাদের পাতা /তোমাদের লেখা ( পাঠকের লেখার বিভাগ)
★কিশোর পাতা
★কে তিনি
★কচিকাঁচা / কচি হাতের লেখা / ছোটদের রোজনামচা
★শেষের পাতা
এছাড়া কয়েকটি অনিয়মিত বিভাগও ছিল ৷
পুষ্পের প্রতিটি সংখ্যার মলাটে লেখা রয়েছে :
পুষ্প একটি আন্দোলন, যার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

ঈমান ও উন্মাহকে সামনে রেখে যারা মাতৃভাষা চর্চায় ও সাহিত্য সাধনায় আত্মনিয়োগ করতে চায় তাদের পথ দেখানো ৷

এযুগের কলম- জাদুগরদের মোকাবেলায় মুসার "আছা" (লাঠি) হাতে যারা মাঠে নামতে চায় তাদের সাহস যোগানো ৷

যারা চায়, আমার কলমের কালিতে লিখা হোক উম্মাহর আগামী দিনের সৌভাগ্য, তাদের চলার পথে আলো ছড়ানো ৷
আর এখনো যারা ঘুমিয়ে সম্ভাবনার দুয়ার বন্ধ করে, গাফলতের চাদর মুড়ি দিয়ে, তাদেরকে ঘুম থেকে জাগানো ৷

হে বন্ধু!এ পথ চলায়, এ সংগ্রাম সাধনায় তুমিও আমাদের সঙ্গী হও ৷ আমরা চলে যাব, তোমাদের রেখে যাব ৷ তোমরাই হবে আগামী দিনের দিশারী,ভবিষ্যতের কান্ডারী ৷
*********************************
"পুষ্প " থেকে আমি অনেককিছুই পেয়েছি ৷ প্রাপ্তিগুলো সংখ্যায় এতবেশী যে, নির্দিষ্ট করে বলা আমার জন্য কঠিন ৷ তবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হল, যেসময় আমি কোনকিছু লেখার কথা কল্পনাও করতে পারিনা সেসময় পুষ্পের লেখাগুলো পড়ে মনে হত " ইচ্ছে করলে আমিও এমন লিখতে পারবো "৷ আমি মনে করি , পুষ্পের প্রতিটি পাঠকেরই একটিবারের জন্য হলেও এমনটি মনে হয় ৷
আজ হয়তো "পুষ্প " কাগজে প্রস্ফুটিত হচ্ছেনা , কিন্তু পাঠকের মনে "পুষ্প" যে বীজ বুনে দিয়েছে তা থেকে প্রতিনিয়ত ফুটছে নতুন নতুন পুষ্প ৷ আমার বিশ্বাস, আরো বহুকাল এভাবে নতুন নতুন পুষ্প ফুটবে, সুরভিত করবে সবাইকে ৷ পুষ্প বেঁচে থাকবে তার পাঠকদের হৃদয়ের সিঞ্চনে ৷ :`>
••••••••••••••••••••••••••••••••••

যারা পুষ্প পড়তে পারেননি কিংবা কয়েকটি সংখ্যা পড়েছেন তাদের জন্য তিনটি সুখবর ৷

(১)পুষ্পের সবগুলো সংখ্যা দুই ভলিউমে: "পুষ্প সমগ্র" ও "পুষ্প দ্বিতীয় প্রকাশনা" নামে "দারুল কলম "( ইসলামী টাওয়ার ,বাংলাবাজার) থেকে প্রকাশিত হয়েছে ৷

(২) পুষ্পের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটও আছে, যাতে ইতোমধ্যে দ্বিতীয় প্রকাশনার কয়েকটি সংখ্যা আপলোড করা হয়েছে ৷ ওয়েব সাইটের ঠিকানা http://alqualam.com/

(৩)পুষ্পের pdf সংস্করণও তৈরি করা হচ্ছে ৷ ইতোমধ্যে দ্বিতীয় প্রকাশনার কয়েকটি সংখ্যা প্রস্তুত ৷ স্ক্যানার এর দক্ষতায় মানও বেশ ভাল ৷ pdf গুলো পাবেন এই সাইটে Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৫২
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশ সরকারের কাছে সোলার এনার্জি বিক্রি করা কতটা লাভজনক?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭



যারা আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাড়ির ছাদে সোলার সিস্টেম ইন্সটল করবেন, তাঁদেরকে বাংলাদেশ সরকার প্রত্যেক ইউনিট ইলেক্ট্রিসিটির জন্যে ১০.৫০ টাকা করে দিবে। রুফটপে সোলার এনার্জি প্ল্যান্ট বসিয়ে লাভ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পর্ক ও আত্মহত্যা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭



কাউকে আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করা অথবা আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে অথবা ব্ল্যাকমেইল করে গুরুতর মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক নির্যাতনের মাধ্যমে কাউকে বিয়েতে বাধ্য করা। - বিশ্বের যে কোনো দেশের আইনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২ লাখ কর্মীর খবর ভুয়া - তবে ২৫ টা সাদা হাতি আসছে!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২



স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়া সেপ্টেম্বর মাস থেকে ধাপে ধাপে ২ লাখ কর্মী নেবে ।

আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশ থেকে ২ লাখ কর্মী নেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×