আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের কল্যাণে অনেক সচেতন। আর তাই হয়ত তিনি আগের থেকে সরকারী কাজে বা দায়িত্বে যারা নিয়োজিত আছে তাদের বলে রেখেছেন যে তার নির্দেশ ছাড়া যেন কোন কাজ করা না হয়। তাই তো দেখি পুলিশ-র্যাব তার কথা ছাড়া খুনের আসামী ধরে না। নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ তার নির্দেশ ছাড়া অবৈধ পথে যাতায়াত বন্ধের নির্দেশ দিতে পারে না। পরিবেশ সংরক্ষণ অধিদপ্তর সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে গেলেও তার নির্দেশ ছাড়া কোন কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে না। মোট কথা যে কোন সংস্থা বা বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ছাড়া কিছুই করতে পারে না।
আমাদের প্রধানমন্ত্রীর এমন উদ্যোগ দেশপ্রেমেরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি নির্দেশ দেন বটে। তা খুব বুঝেশুনে। নির্দেশ যখন দেন তখন তার নির্দেশ পেয়ে কাজের গতি বাড়লেও যে ক্ষতি হবার তা আগেই শেষ হয়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় তিনি খুনিদের ধরতে নির্দেশ দিলেন। প্রধানমন্ত্রী হত্যাকাণ্ড ঘটার পর কয়েকদিন সময় নিয়ে এমন সময় হুকুম দিলেন যখন অপরাধী নিশ্চিত ভাবে পালিয়ে গেছে। অর্থাৎ হয়ত প্রধানমন্ত্রী খুনির পালানো নিশ্চিত করতেই হুকুম দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতেছিলেন।
সুন্দরবনে জাহাজডুবি হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিলেন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঐরুটে চলাচল বন্ধ রাখতে। কিন্তু যখন নির্দেশ দিলেন তখন দুর্ঘটনা ঘটেই গেছে।
এবার তিনি নির্দেশ দিলেন জাহাজডুবির ফলে ছড়িয়ে পড়া তেল দ্রুত অপসারণের। কিন্তু এর আগেই ছড়িয়ে পড়েছে তেল সুন্দরবনের সর্বত্র।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশই যখন দিবেন সাথে সাথে দিতে ক্ষতি কি? নাকি ক্ষতি হবার পর লোক দেখানো নাটক আর কি! আর যেসব সংস্থা বা বাহিনী এসব দায়িত্বে রয়েছে তাদের আসল কাজটা কি? সবই যদি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষা করতে হয় তাহলে এত জনবল রেখে ও তাদের বেতন দিয়ে কি হবে? সারা দেশে প্রতিটা কাজের জন্য একটি টীম থাকলেই যথেষ্ট। যারা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে সেই কাজের জন্য প্রস্তুত হবে।
জানি না দেশে আসলে হচ্ছেটা কি! সবকিছুই কি সাজানো নাটক না জনগণকে শুধুই ধোঁকা দেওয়া।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


