জলজ্যান্ত একজন মানুষকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ধরে নিয়ে যাবে এবং পরক্ষণেই অস্বীকার করে বলবে যে তারা কিছু জানে না৷ এটা পৃথিবীর কোন বর্বর দেশেও কল্পনা করা কঠিন৷
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি ধরে না নিয়েও থাকে তারপরও তাকে খুঁজে বের করার দায়িত্ব সেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর৷ এটা যে একজন বা দুইজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটছে তা নয়৷ এধরণের ঘটনা বর্তমানে যেন খুব স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে৷
কিছু কিছু ক্ষেত্রে জনসমক্ষে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতারের কথা অস্বীকার করছে এবং দুইএকদিন লাশ পাওয়া যাচ্ছে অথবা বন্ধুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ আবার কোন কোন ক্ষেত্রে গুলিতে আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ আবার কোন ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে গণপিটুনিতে নিহত বলে চালিয়ে দিলেও দেহে ডজনেরও বেশি গুলির হদিস পাওয়া গেলেও গণপিটুনির কোন চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না৷
রাজনৈতিক কারণে হত্যাকাণ্ড বলে চালাতে গেলেও নিরপরাধ মানুষই বেশি স্বীকার হচ্ছে৷ এদিকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে কোন ধরনের অপরাধ কার্যক্রমের দায়িত্ব নেওয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মনের আনন্দে তাদের হত্যাকাণ্ডসহ যেকোন ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড মনের আনন্দে করে যাচ্ছে৷
দেশের পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে আগে থেকে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে যেন মহানন্দে সেই কাজটি করার অনুমোদন পেয়ে গেছে৷ এখন পুলিশ যেকোন নিরপরাধ ব্যক্তিকে ধরেই ব্যক্তিভেদে নির্দিষ্ট অংকের অর্থ দাবী করছে এবং না হলে পেট্রোলবোমা হামলাকারী, সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত অথবা তাদের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে মামলা করার হুমকী দিচ্ছে৷ এমনকি দরকষাকষিতে সমঝোতা না হলে ক্রসফায়ারের মত ঘটনা ঘটছে৷
দেশটা যেন একটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা নির্যাতিত রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে৷ দেশের কেউ এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না৷ কারণ যে করবে সে নিজেই একই ফাঁদে পড়ে যাবে৷ এই পরিস্থিতি থেকে দেশে আবার কবে মুক্তি পাবে তার কোন নিশ্চয়তাই যেন নাই৷

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




