জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মওলানা ভাসানী হলের দূষিত পানি পানে ১৬৭ জন শিক্ষার্থী জন্ডিস, টাইফয়েড, পেটেরপীড়া সহ নানা রোগে ভুগছে। বিষয়টি হল প্রশাসনের নাগালের বাইরে চলে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে একাধিকবার অবগত করলেও তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি তারা। এ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত “বাংলা টাইমসের” সংবাদদাতা উপাচার্যের নিকট জানতে চাইলে তার বিরুদ্ধে শোকোজ করা হবে বলে হুমকি দেন। ফোনে তাকে অশালিন ভাষায় গালিগালাজ করেন।
জানা যায়, বেশ কিছু দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ হলটির পানিতে সমস্যা দেখা দেয়। পরে এ বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হলে হল প্রশাসন হলের পানির লাইন চেক করে এবং বেশ কয়েকটি ছিদ্র পায় যা দিয়ে দূষিত পানি প্রবেশ করত। এখনও পাইপ মাটির উপর তুলে রাখা হয়েছে। এরপরপরই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জন্ডিস, টাইফয়েডের প্রকোপ দেখা দেয়। অনুসন্ধানে দেখা যায় হলের ৮০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১৬৭ জন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে ৮১জন জন্ডিস, আমশা, ৪৮জন জ্বর, ৩৮জন ডাইরিয়ায় আক্রান্ত। বছর শেষে ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় অসুস্থতার কারনে অনেকে পরীক্ষা না দিয়ে হল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে। এর মধ্যে অধিকাংশই জন্ডিসের রোগী।
এ দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফ এনামুল কবিরকে এ বিষয়টি অবগত করলে তিনি গত শুক্রবার সন্ধায় হল পরিদর্শনে আসেন। হল পরিদর্শন করে মাত্র তিনজন জন্ডিসের রোগী আছে বলে তিনি ঘোষনা দেন। এ সময় “বাংলা টাইমসের” রিপোর্টার দাবি করেন হলে ৭০ জনের অধিক শিক্ষার্থী জন্ডিসে আক্রান্ত। সেসময় উপাচার্য তাকে শোকোজ করার হুমকি দেন। বলেন তোমরা আজগবী কথা বলে শিক্ষার্থীদের বিপাকে ফেল। পরে হলের সচেতন শিক্ষার্থীরা নিজ উদ্দ্যোগে হলের প্রতিটি রুমে খোজ নিয়ে এ বিশাল সংখ্যক রোগীর তালিকা বের করেন। পরে তা হল কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নিকট পেশ করে তারা। জন্ডিসের বিষয়টি হল প্রভোষ্ট অধ্যাপক ড. খবির উদ্দিনকে একাধিক বার জানালেও তিনি কোন ভ্রুক্ষেপ না করে বলেন তোমরা ঢাকা থেকে এ রোগ বাধিয়ে নিয়ে এসেছ। তিনি এ সমস্যা সমাধার না করে দীর্ঘ ১৩ দিন ভারতে অবস্থান করছেন।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জানুয়ারি, ২০১১ সকাল ১০:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


