somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৯

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০০৮ সন্ধ্যা ৭:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একই গেরামে থাইকাও রাশেদা আপার লগে আমার মুবাইলে কথা হৈতে লাগল দিনে চাইর পাঁচ ঘন্টার মত কৈরা । আগে মুবাইলে হোক সরাসি হোক অনেকক্ষণ ধৈরা কথা বলা লুকজন নিয়া হাসাহাসি করতাম । এত কথা কিসের ? কথা বলার বিষয় কি দুইন্যাতে এত আছে নাকি ? এখন নিজে যা বুঝতাছি । কথা কওনের আসলে বিষয় লাগে না । আইজকা ঘরে রান্ধন হৈছে কি এইটা নিয়াও রাশেদা আপার সাথে ঘন্টাখানেক কথা হৈয়া যায় । নিজেই আসলে খেয়াল করতে পারিনা কি কথা হৈল না হৈল । খালি কথা কৈতে ভালো লাগে তাই কই । ঘরে পুরুষ মানুষ নাই । রাশেদা আপার তিন বৈন । তিনডাই বিয়াত্যা এবং শ্বশুর বাড়ীতে । দুই ভাই মিডিলিস্টে । ঘরের টুকটাক বাজারসদাই মাইয়ার ছুডখাড চিকিৎসা এইগুলার জৈন্য ডাক পড়ে আমারই । কাজে কামে হৈলে যাওন যায় । কিন্তু খাজুইরা আলাপের জৈন্য ঘরে গিয়া বৈসা থাকন যায় না । রটনা রটানির এই সুযোগ গেরামের পাব্লিক ছাড়বো না ।

আব্বার পাগলামি শুরু হৈল মেঝ ভাই ছৌদি যাওনের বছরখানেক পর । একদিন অনেকটা হঠাৎ কৈরাই । রুযার শেষ দশদিনে ফেনীর এক মসজিদে তাবলীগের সাথিগো লগে এতেকাফে বসছিলেন । ঈদের দিন বাড়ীতে আইস শুরু করলেন পরকালের মাগফিরাত এবং নাযাত সংক্রান্ত লেকচার । প্রথমে আমরা কেউ তেমন গুরুত্ব দিই নাই । এইরকম লেকচার তিনি প্রায়ই মারেন । আম্মা আছেন অসীম ধৈর্য নিয়া শুনেন । আইজকাল আমার কাছে তেমন একটা মারতেন না লেকচার । মারলেও এদিক সেদিক একটা কথা বৈলা আমি উইঠা যাইতাম । অনেকদিন হয় কিছু বলেন না এখন আর । কিন্তু ঈদের পরদিন আমি এইরকম একটা লেকচারের মাইঝখানে দোকান খুলতে যাইতাছি বৈলা উঠতে গেলে ধমক দিয়া আমাকে বসাইয়া দিলেন । আরো কিছুক্ষণ পর আমি উইঠা গেলে আমারে শুরু করলেন দৌড়ানি । হঠাৎ ভ্যাবাচ্যাকা খাইয়া আমি দৌড়ামু কিনা বুঝতে পারলাম না । ধৈরা ফেইলা আমারে এক ধাক্কায় দিলেন পুকুরে ফালাইয়া । ছুড পুলাপান হাসতে ছিল । ওদেরকে চুপ করতে বৈলা আমি পুকুর থাইকা উঠতে উঠতে তিনি স্বাভাবিক মাইনষের মত হাইটা মসজিদের দিকে চৈলা গেলেন । কিছু বুঝলাম না ।

এইভাবে শুরু হৈলেও দুই তিনদিনের মইধ্যে আব্বার পাগলামি চুড়ান্ত পর্যায়ে উঠল । পরদিন ভোররাতে ঘুম থাইকা উইঠা কাউরে কিছু না বৈলা চৈলা গেলেন দুই গেরাম দক্ষিণে আমার জ্যাঠাত বৈনের শ্বশুরবাড়ী । জ্যাঠাত বৈনের দুই পুলা । তের আর এগার বয়স । ঐ দুইটারে ঘুম থাইকা উঠাইয়া মসজিদে নিয়া গেলেন । আসার পথে কি কারণে জানি আবার ঐ দুইটারে দৌড়ানি শুরু করলেন । ওরা অন্য পথে ঘুইরা আমাগো বাড়ীতে আইসা খবর দিলে, বুঝলাম আর হাতপা গুটাইয়া বৈসা থাকনের সময় নাই । দরবেশ আর আমি দুইজনে মিলা বাইর হৈলাম উনারে খুঁজতে । মাইর টাইর খাইয়া কুনোরকমে ধৈরা বাইন্ধা বাড়ীতে নিয়া আইলে শুরু হৈল আম্মার বকবকানি । আব্বা উল্টাপাল্টা কাজ করলেও কথা নাকি অসংলগ্ন কৈতাছেন না । সেটা একদিক দিয়া ঠিকও বটে । কুরানের আয়াত, বিভিন্ন হাদিস, ওলি আউলিয়াগো জীবনের বিভিন্ন ঘটান সমারে বকবক কৈরা যাইতাছেন । কিন্তু সব কিছুরইতো সময় আছে, অবস্থা আছে । সব অবস্থায় সবকিছুতো খাটে না । আম্মার বকাবকির মূল কথা হৈল আব্বারে ধৈরা বাইন্ধা রাইখলে বদ্দোয়া পড়বো । অতএব উনারে ছাইড়া দে । কথা কওয়া শেষ হৈলে এমনিতেই থাইমা যাইব । কিন্তু অবস্থা বেগতিক । আমরা খুইজা ফিরতাছি এর মইধ্যেই আরো কয়েকজনের সাথে উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বৈলা আসছেন সেই খবর আইতে লাগল । ফেনী নিয়া গেলাম আম্মার কথার বিরুদ্ধে । মানসিক ডাক্তারের কাছে । পাওয়ারফুল ঘুমের ঔষধ দিয়া শেষ পইর্যন্ত আব্বারে শান্ত করা গেল ।

পাগলামির ঝামেলায় সপ্তাহখানেক রাশেদাআপার সাথে ফুনে কথা কৈতে না পাইরা আমার ভিতরে জৈমা গেছিল অনেক কথা । আব্বা শান্ত হওনের পরে সপ্তাহখানেক দোকানদারি অনেকটা দুনিয়াদারি ছাইড়াই কেবল ফুনে কথা বলা শুরু করি । রাহেলার নজরে পইড়া যাই । রাহেলা আমার ছুড বৈন । খোদেজার পরে । খোদেজার মতই কেলাশ এইট পার হৈতে না পাইরা ঘরে বেকার আজ দুই বছর । বেকার বলাডা অবশ্য ঠিক না । আম্মার বয়স হৈছে । খোদেজা ফাঁকিবাজ । ভাবীর শইল্যে সারা বছর সমস্যা । আমাগো বিশাল পরিবারের কামকাজ ধরতে গেলে একাই চালাইতাছে । রাহেলা যে মুবাইলের ব্যাপারস্যাপার বুঝে আমি জানতাম না । একদিন আমার কাছ থাইকা ফুন নিলো বান্ধবীরে ফুন করার জৈন্য । ফিরাইয়া দেওনের সময় কয় , রাশেদাআপার সাথে এত কথা কিয়ের আপনার । শুইনা একটু টাসকি খাই আমি । কল লিস্ট দেখাও শিখছে তাইলে । না , উনার মাইয়ার অসুখ ডাকতরের কাছে নিয়া গেছিলাম । ওষুধ খাওয়ানোর নিয়ম বুঝে না দেইখা বারবার খাওয়ানির সময় ফুন কৈরা জিজ্ঞাসা করে , এই ধরণের ধুনফুন বৈলা কথা কাটানির চেষ্টা করি আমি । নিজের কাছেই হাস্যকর লাগে । কিন্তু আকামতো হাছাই করছি । যুক্তিতো আসলেই নাই । চৈলা যাওনের সময় রাহেল কয় ঔষধ খাওয়ানির নিয়ম শিখাইতে কি এক ঘন্টা লাগে নাকি । আরেকটু টাশকি খাই আমি ।

রাশেদাআপারে ফুন কৈরা রাহেলার ঘটনা কই । উনি কন তাইলে তো সব্বনাশ । রাহেলার ঠোঁটকাঁটা । মাইয়াডারে নিয়া সমস্যা হৈল উচিৎ কথা কৈতে ডরায় না । আম্মা এইজন্য দুইচোক্ষে দেখতে পারেন না ওরে । প্রায়ই বকাবাদ্যি করেন । ডরাই আমিও কিঞ্চিৎ ওরে , কিন্তু রাশেদাআপারে বলি সমস্যা নাই, অত বুঝবো না । কিন্তু কয়েকদিন রাশেদাআপার একটু গুটাইয়া যান ।

এর মইধ্যে খোদেজার বিয়া হৈয়া যায় অনেকটা আড়ম্বরবিহীন । দুরের আত্নীয়দের কাউকেই আনা যায় না । কাজগুলা আগাইতাছে দেইখা আমার একটু ভাল্লাগে । যেই অবস্থা থাইকা শুরু করছি সংসারের হাল ধরা তার তুলনায় এখনকার অবস্থা যে কারো মতেই অনেক ভালো । ধার কর্যগুলা ঠিকঠাকমত কিলিয়ার করা হয় নাই ঠিককথা । কিন্তু মাথার উপরে জইমা থাকা কাজগুলাতো সিরিয়াল হৈতাছে । দোকানডা আরেকটু ভালোভাবে গুছানির চিন্তা করি আমি । আয়ের পথ বাড়ানি দরকার । নিজের কিছু জমাইনা ট্যাকা হাতে নিয়া উড়নচন্ডী সাইঝা ভাইরে ছৌদি পাঠানির চিন্তা করি । মেম্বার ছাবের সাহাইয্যে আর নিজের জমা ট্যাকা মিলাইয়া একটা ব্যবস্থা খাড়াইয়া যায় ।

নিজের জীবনে সুখের দেখা মাগার পাইলাম না এখন পইর্যন্ত । রাশেদাআপারে নিয়া আর কিছুতেই আগানো যাইতাছে না । গেরামের পাব্লিকরে উনার যেই ভয় তার চাইতে বেশি ভয় রাহেলারে । ফুনে ঠিকমত কথাই কৈতে চাননা এখন । মাঝে মাঝে মনে হয় রাহেলার ঘটনা উনারে না বললেই এক ভালো হৈত । আমারকি অধিকার নাই একটু সুখের ? হালার দুইন্যায় এত নিয়ম কানুনের বাহার, এত লোকলজ্জা সমাজের ডরভয় এইগুলার যাতাকলে আমার মত মাইনষের কি অবস্থা এইডা কেউ ভাবে না ক্যান ?

সাইঝাভাইরে পেলেনে তুইলা দেয়ার জৈন্য ঢাকা যাই আমি আর খুরশিদ । ঢাকায় মামা খালাদের বাসা আছে । কিন্তু গত কয়েকবছরে পাওনা ট্যাকটুকা নিয়া ঝামেলার কারণে কারো সাথে সম্পর্ক খুবেকটা ভালো নাই । জীবনে প্রথম হোটেলে থাকি তিনজন । ফেলাইটের দিন ফিরা যাওনের সময় খুরশিদ কয় ঢাকা আইছসতো অনেক দিন পর । চল একদিন থাইকা ঘুইরা টুইরা যাই । সারাদিন দুইবন্ধু মিলা চিড়িয়াখানা চন্দ্রিমা উদ্যান সংসদ ভবন ঘুইরা দেখি । চন্দ্রিমা উদ্যানের গাছে গাছে জোড়া দেইখা আমার খালি হিংসা লাগে । নিজেরে খালি খালি লাগে ।

রাইতে হোটেলে থাইকা পরদিন ফিরা যামু বৈলা ঠিক করি । পায়েরখোলা মাদরাছার হুজুর খুরশিদ রাইত নয়টার দিকে প্রস্তাব করে রুমে ভাড়া মাগি আননের । আকাশ থাইকা পড়ি আমি । ধুর । ছিছি কি কইস এইসবের পরে , হাফ-গিরস্ত মাইয়াও নাকি আছে শুইনা শেষে রাজি হৈয়া যাই আমি ।

খুরশিদের পরে ঘরে ঢুইকা আমি কি কমু বুইঝা উঠতে পারি না । জানি ঘটনা ক্যামনে কি । কিন্তু কিছু একটাতো কৈতে হয় । মাইয়ারে জিগাইলাম, নামায পড়নি তুমি ?
-------------------------------------------------
কওমি হুজুরের এক হাত ঘুরা আত্নকাহিনী-১৮
Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ বিকাল ৪:১৫
১৬টি মন্তব্য ১৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×