somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেসার্স পিচ্চিনামা (ছবি ব্লগ)

০৬ ই মার্চ, ২০১১ দুপুর ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পিচ্চিগুলা যেন কেমন, ছোট ছোট উলের বলের মত। খামাখা ট্যা ট্যা করে কাঁদছে, এটা সেটার জন্য বায়না ধরছে। সব কিছুর মধ্যে বাম হাত ঢুকাচ্ছে। মায়েদের, মেয়েদের সবার আকর্ষন কেড়ে নিয়ে আমাদেরকে কেমন জেনো অপাংতেয় করে দিচ্ছে X( X(( । এরকম অসংখ্য দুষ্ট ঘুরে বেড়াচ্ছে আমার চারপাশে। দুষ্টগুলাকে ছাড়া কেন যেন ভালোও লাগে না। দেখেন না কিছু নমুনা।


ইনার নাম আজমান। ইনার বোনের পরে যে ইনি হইসেন এবং এত বড় হইসেন সেটা তো আর আমি জানি না। ইনিও আমাকে নতুন দেখে যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে আমার সামনে হাজির। প্রথমে তার সাড়ে তিন বছরের জীবনে শেখা যাবতীয় বিদ্যা জাহির করে আমার নজর কাড়তে চাইলেন,তারপর কত্থেকে একটা ভাঙ্গা ছাতা জোগাড় করে 'আমি বুরা, আমি বুরা' বলে কিছুক্ষন নেংচে বেড়ালেন। অসম্ভব সুন্দর একটা বাচ্চা, খুবই মিশুক।


ইনি আরিক। আমার বন্ধুর আবিরের 'ছোত' ভাই, ইনি ইকটু ভীতু ভীতু বাবু। তবে আমাকে যথেষ্টই সম্মান করেন। আমার একটা টুথব্রাশ ইনি বগলদাবা করেছেন, এমন কি আবিররা বাসা বদলানর সময়ও উনি ওটা হারাননি ; উনাকে খুশি করার জন্য আবিরের বাসায় গেলে এই ব্রাশ দিয়ে একটু দাঁত ব্রাশ করে দেখাতে হয়।'কোল বালিশ চাপা দিয়ে স্যান্ডউইচ' বানিয়ে খেয়ে ফেলাকে
ইনি খুবই ভয় পান। ইনার প্রিয় কাজ হচ্ছে বড় ভাইকে এই বলে শাসানো, যে বাজার থেকে একটা গরু কিনে এনে সেটা দিয়ে আবিরকে লাথি খাওয়াবেন।


জাহিন(zahin)। আমার খালাতো ভাই। পিচ্চিদের মধ্যে সিনিয়র। টাকুশ টুকুশ করে চমতকার ইংরেজীতে কথা বলেন। চোক্ষের নিমিষে যে কোন গেমের চিট কোড বের করতে বিশেষ পারদর্শী। ইনি কিছুটা বিজ্ঞান্মনস্ক মানুষ; খরগোস, গিনিপিগ, কচ্ছপ, মুরগীর বাচ্চা পুষেন এবং তাদের অকাল মৃত্যুর কিছু পিলে চমকে দেয়া থীওরি দাঁড়া করান। তার একজোড়া গিনিপিগের একটা নাকি জানালায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজে জর বাঁধায়; তারপর যথারীতি মারা যায়। কচ্ছপ্টাকে মাঝে মাঝেই জানালা দিয়ে নিচে ফেলা হয়, তার খোলটা কত শক্ত দেখার জন্য। সোফার কুশনে মুরগীর বাচ্চা গুঁজে রাখার সামান্য বদঅভ্যাস আছে ইনার। ।


ডান থেকে দুই নাম্বার যাকে দেখছেন,ইনি আয়ান। ইনার ধারনা ইনার গায়ে খুবই জোর, সেই জোর নিয়ে প্রায়ই উনি মারামারি করতে যান এবং অবধারিতভাবে হেরে আসেন। ইদানিং 'কুটু মিয়া'র ভয়ে কিছুটা অস্থির।


সবচেয়ে বামের জনের নাম রাইসা, আয়ানের বড় বোন। বাংলাদেশ আলো করে থাকা ইনিই আমাদের একমাত্র খালাতো বোন। একটু সাজুগুজু করতে পছন্দ করেন। খোশ মেজাজে থাকলে সুর করে করে ছড়া আবৃত্তি করতে থাকেন। ইনার বন্ধু-বান্ধব খুবই কম- পোকাহন্তাস, এ্যানাস্তাসিয়া, রাপুঞ্জিল, থাম্বালিনা, ব্যাম্বি, স্নো-হোয়াইটসহ মাত্র জনা বিশেক হবেন।


এই গুন্ডাটার নাম জায়ান(zayan)। ভয়াবহ মস্তান। ভোকাবুলারি খুবই স্ট্রং; বেন-টেন, বেই-ব্লেইড, নিনজা হাতুরি, সাবু, কাবাও, বাবা, আম্মা, ‘চাচা-ভাইয়া’ দিয়ে যে কোন বাক্য রচনা করতে পারেন। চুপচাপ বসে থাকলে বুঝতে হবে যে মাত্র কোন অপকর্ম সেরে এসেছেন। আমাদের বাসায় এসে যখন একটু চুপচাপ বসে ছিলেন, তখন আবিষ্কার করলাম আমার বারোটা পাখির মধ্যে আর মাত্র একটা অবশিষ্ট আছে। আমার কাঠবিরালীটাকে দেখলাম মনমরা হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তার লেজের খানিকটা রোঁয়া জায়ানের মুঠোয়। জাহিনদের বাসায় গিয়ে যখন ইনি দেখলেন যে একটা গিনিপিগ ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন সেটার হাত থেকে 'আত্মরক্ষার' জন্য সেটাকে কষিয়ে একটি লাথি দিলেন। গবেষনার নতুন ফলাফল দেখে জাহিনের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।



ইনি জায়ানের ছোট ভাই, আইমান। মাত্র কয়েক মাস হল এসেছেন। । খাওয়া আর ঘুমের বাইরে কিছু এখনো শিখে উঠতে পারেন নি। ও, আরেকটা জিনিস শিখে ফেলেছেন। কোলে নিয়ে আদর করলে ইনি খুব যত্ন করে ভিজিয়ে দেন।


এই পরীটার নাম আয়াত। আমার বন্ধুর ভাতিজি। বললে কেউই বিশ্বাস করবে না, ইনাকে আমার বন্ধু আক্ষরিক অর্থেই কোলে পিঠে করে মানুষ করছে। সব আব্দার পূরণ করে দেখে চাচাও উনার জানের জান। এমনকি উনার একটা তাসের প্যাকেটও আছে। আমরা যখন পোকার খেলি, তখন উনি খুব মনযোগ দিয়ে ঐ তাসগুলো চেটেচেটে দেখেন।


ইনি? ইনাকে আপনারা সবাই চিনেন। ইনিই আমার ভ্যালেন্টাইন বোন। যদিও এখন অনেক বড় হয়ে গেছেন, তাতে কি...
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০১১ রাত ৯:১৭
২৭টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×