somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার লুঙ্গি বৃত্তান্ত

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১১ সন্ধ্যা ৬:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বুয়েটে ১/১ পার করার পর প্রথম নেট কানেক্শন নিলাম।তখন থেকে সামুতে ব্লগ পরা শুরু।প্রথম পরলাম নির্জন স্যার এর ব্লগ।অসাধারন একজন ব্লগার।যা কিছু লিখেছেন সব নিজেকে,
নিজের জীবনকে নিয়ে,বুয়েট লাইফ নিয়ে।সীমিত পরিসরে কোন বিষয়কে তিনি যে ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তা এক কথায় অসাধারন।তারপর দীঘ্ দিন ব্লগ পড়ায় বিরতি।২/২ এসে দেখি আমার ক্লাসের ও ফ্রণ্ড সার্কেলের অনেকেই ব্লগ লেখে। আমিন , মিলু ,সাফিউল , ইনজাম,মেহেদী,অয়ন সহ আরো অনেকে।এদের লেখা দেখে নিজেরও খুব লিখেতে ইছে হল।কিন্তু কি নিয়ে লিখব? নিজেকে নিয়ে যে লাইফ নিয়ে খুব বেশি হতাশ,নাকি নিজের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তা চেতনা নিয়ে,নাকি নিজের গড়া ব্যাণ্ড নিয়ে,নাকি লিখব আমার ভালবাসার সেই মানুষটিকে নিয়ে যার জন্য আমি সব করতে পারি।ভাবতে ভাবতে ৩/২ পার হয়ে গেল। এলো সিএসই ফেস্টিভাল।ম্যাগাজিনের জন্য লেখা দরকার।তাই শেষে ঠিক করলাম নিজেকে নিয়েই লিখি না কেনও,নিজের তারুণ্যের কিছু সোনালি দিন গুলিকে নিয়ে,স্কুল লাইফে ফেলে আসা মজার স্মৃতি গুলিকে নিয়ে।আজ সেই সোনালি দিনের কিছু মজার স্মৃতি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।
ছোটবেলা থেকেই বাসায় হাফ প্যান্ট পরতে বেশি স্বাচ্ছন্দ অনুভব করতাম। কিন্তু বাবা ধার্মিক হওয়ায় তিনি তা পছন্দ করতেন না।
তাই শুরু হল আমাকে লুঙ্গি পরানোর চেস্টা।তখন থেকেই আমার লুঙ্গি পরার শুরু।কিন্তু লুঙ্গি আমি কখনওই ঠিক রাখতে পারতাম না।মাঝেই জনসস্মুখে তা আমার সাথে বিট্রে করতো।তাই বাবা বাসায় না থাকলে ও রাতে ঘুমানোর সময় ঠিকই আবার হাফ প্যান্টে ব্যাক করতাম। ক্লাস থ্রী তে পরার সময় থেকেই একা একটি রুমে একা বিছানায় ঘুমাতাম ।ক্লাস সিক্সে এ পরার সময় প্রথম লুঙ্গি পরে ঘুমাতে গেলাম।এখানে উল্লেখ যে আমি সাধারনত আমার রুমের দরজ়া বন্ধ করতাম না ।পরদিন ছিলো বড় বোনের বিয়ে,বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজন। তাই ঐ দিন দরজা বন্ধ করেই ঘুমাতে গেলাম। সারা দিন কাজ করে ক্লান্ত তাই সাথে ঘুম চলে এলো ।সারা রাত ঘুম হলো কড়া। সকালে ঘুম ভাঙ্গলো একটু বেলা করে।একটু শীত শীত এবং খালি খালি লাগছিল ।প্রথমে কিছু বুঝতে পারলাম , ব্যাপারটা কি ? শীত লাগছে কেন ?হঠাৎ বুঝতে পারলাম আমার শরীরের নিন্মের অংশে কিছু নেই। আমার লুঙ্গি গেল কই? একটু খুজতে গিয়ে দেখি লুঙ্গি আমার খাটের নীচে এক পাশে পরে আছে।রাতে ঘুমের মধ্যে কখন যে হাত পা ছোরাছুরি করতে করতে লুঙ্গি খুলে গেছে তা আর টের পাই নি।আমার ভাগ্য ভাল যে সে দিন দরজা বন্ধ করে ছিলাম। ফলে সে যাত্রায় মান সম্মান খোয়ানোর হাত বেঁচে যাই।
আর একটি মজার ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো।তখন আমি ক্লাশ টেন এ পড়ি।বাষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাটক হবে কিন্তু অভিনেতার বড়ই অভাব।আবার যারা অভিনয় করতে ইচ্ছুক তারা কেউই ভিলেনের অভিনয় করতে রাজি নয় । কারন আর কিছু নয়, নাটকে যে ভিলেনের চরিএ । নাটকে ভিলেনের ক্যারেক্টারটা এমন যে ভিলেন হলো গ্রামের একজন দুষ্ট মোড়ল বা
মাতব্বর ।গ্রামের মানুষদের বিভিন্ন ভাবে ঠকানো আর তাদের নানা ভাবে অত্যাচার করা তার কাজ।এতো টুকু হলে কোন সমস্যা ছিলনা,কিন্তু ঝামেলা করলো নাটকে যোগ হওয়া গ্রামের মহিলাদের সাথে মাতব্বরের বিভিন্ন লুইচ্চামি করা এবং খেচ্চর মাতব্বর উপাধি লাভ।ফলে সবাই এক রকম নিশ্চিত যে নাটকের পরে সবাই যে ভিলেনের অভিনয় করেছে তার নামের আগে খেচ্চর উপাধি যোগ করে সম্ভাষন করা হবে ।ফলে কেউ আর ভিলেনের অভিনয় করানোর জন্য রাজী করানো গেলোনা। ছোটবেলা থেকে রগচটা,মারামারিতে ওস্তাদ আর একটি বিশেষ মানব প্রজাতির প্রতি বিশেষ দূর্বল থাকার কারনে আমার প্রবল আপত্তি থাকা সত্বেও আমাকেই সবাই ভিলেন নির্বাচন করে ফেল্ল ।শেষ পযন্ত স্যারের কড়া ধমক আর একই সাথে সেরা অভিনেতা পুরষ্কারের আশ্বাসে রাজী না হয়ে আর উপায় থাকলো না।বাবার কাছে পরীক্ষা ফেল করেও প্রথম হবার অভিনয়,মায়ের কাছে বাজার করার টাকা হারিয়ে ফেলার অভিনয়, স্যারদের কাছে পড়া না পারার কারন হিসাবে অসুস্থ থাকার অভিনয় ,সর্বপরি বালিকাদের সাথের প্রেমের অভিনয়ের দক্ষতার কারনে নাটকে আমার অভিনয় কার থেকে খারাপ হলোনা বরং সেরা অভিনেতার দৌড়ে আমার নামটা এগিয়েই থাকলো ।কিন্তু ঝামেলা বাধলো অন্য জায়গায়,সেই আমার লুঙ্গি পারার অদক্ষতায়।মাতব্বর গ্রামের লোক তার উপর আবার কঠিন বকধার্মিক লোক সুতরাং তার পরিধানের কাপড় হলো পাঞ্জাবী আর লুঙ্গি।কিন্তু আমি আবার লুঙ্গি পরতে পারি না,যাও পরি মাঝে মধ্যে তাও জন সম্মুখে খুলে গিয়ে আমার মান ইজ্জতের বারোটা বাজায়।নাটকের রিয়ার্সালের প্রথমদিকে শার্ট-প্যান্ট পরে অভিনয় করি।ফলে তেমন কোন সমস্যা হয়নি।কিন্তু ঝামেলা হলো অনুষ্ঠানের আগের দিন ফাইনাল রিয়ার্সালের সময়।সে দিন সবাই নাটকে নিজ নিজ চরিএ অনুসারে ড্রেস পরে অভিনয় করছিল।কিন্তু আমি মতব্বরের মত লুঙ্গি পরে অভিনয়ের সময় বার বার লুঙ্গি তে পা জরিয়ে যাচ্ছিল আর লুঙ্গি খুলে যাবার উপক্রম হচ্ছিল।শেষে এক বড় ভাই এর কথা মত লুঙ্গি অনেকটা স্কার্টের মত করে পরে বেল্ট দিয়ে বেধে নিলাম আর কোন মতে সেই দিনের রিয়ার্সাল শেষ করলাম।পরদিন সন্ধ্যায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হল।জাতীয় সংগীত ,
কুরআন তিলাওয়াত,আর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর সবার শেষে শুরু হলো নাটক।নাটকে আমরা সবাই দারুন অভিনয় করলাম। ফলে দর্শকরাও বেশ মজা পেল।আমার অভিনয় আর ভিলেন মার্কা হাসির জন্য তালি তুলনা মূলক বেশিই পেলাম। যাই হোক নাটকের শেষের দৃশ্যটা ছিল এমন যে মাতব্বরের চালাকি আর বদমাইশি গ্রামবাসীর নিকট ফাঁস হয়ে যাওয়া গ্রামবাসী তাকে গনপিটুনি দিবে আর মাতবর গনপিটুনি খেয়ে দৌড়ে পালাবে।এই দৃশ্যে অভিনয়ের সময় মাতবর রূপি আমাকে সবাই গনপিটুনি দিল।আর আমি মাটিতে ব্যাথার পাওয়ার অভিনয় করে মাটিতে গড়াগড়ি দিতে লাগলাম।হঠা দেখি দর্শক প্রচন্ড আনন্দে তালি দেওয়া শুরু করলো। আমি ভাবলাম আমার দারুন অভিনয় দেখে দর্শকে এত তালি আর আনন্দ।কিন্তু তার পরই অনুভব করলাম যে লুঙ্গি মামা আমার সাথে আবার বেঈমানি করছে। গড়াগড়ির এক পর্যায়ে কখন যে লুঙ্গি মামা আমার গাএ ত্যাগ করেছে আর অন্য একজনের লাঠিতে আটকে তা বর্তমানে গ্রামবাসীর পতাকার রূপ ধারন করেছে তার আমি কিছুই টের পাইনি।এরপর দৌড় দেয়ার পালা।এবার আর গনপিটুনি থেকে বাঁচার জন্য বা তালি পাওয়া লোভে নয় ,এবার দৌড় নিজের মান-ইজ্জত ম্যানহোল পরা থেকে বাচাঁনোর জন্য। তারপর ...........................
বাকি ঘটনা না হয় সামনের সিএসই ফেস্টিবলেই বলব।

১০টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×