somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষ আর পশুর মধ্যে পার্থক্য কি রইল?(সাম্প্রতিক সো কল্ড গনপিটুনির আলোকে)

২৭ শে জুলাই, ২০১১ সকাল ৮:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ছোটবেলা থেকেই আমরা জেনে এসেছি যে মানুষ আর পশুর ভিতর মুল পার্থক্য মানুষের মন আছে, বিচার বুদ্ধি আছে, কোনটি ভাল কোনটি মন্দ তা বোঝার ক্ষমতা আছে। এমন কি জ্ঞান বিদ্যার চাইতেও মানুষের মানবতা বোধকেই ধরা হয় পশু আর মানুষে প্রধান পার্থ্যক্য। কিন্তু আসলেই কি মানুষ আর পশুর ভিতর তেমন কোন পার্থক্য আছে?

আমরা প্রায়ই দেখেছি গরুর মাংশের দোকানে কত গুলো জীবিত গরুর পাশে একটি গরুকে জবাই করতে। কোরবানীর সময়ও একই ঘটনা ঘটে। আমার মাথায় মাঝে মাঝে কাজ করত জীবিত গরু গুলো কি বুঝতে পারছে এখানে কি হচ্ছে। পরে বুঝতে পারলাম সে কারনেই তো ওরা গরু(পশু)। ওদের বোঝার ক্ষমতা নেই ওদের পাশে কি হচ্ছে। বুঝলেও ওদের তোয়াক্কানাই কারন এটিতো আর ওর নিজের হচ্ছেনা হোক না একই জাত তাতে কি।

কিন্তু আজ আমারা কি দেখতে পাচ্ছি? আমাদের ও ব্যাবহার ঠিক এই পশু গুলোর মত হয়ে যাচ্ছে। আমাদের পাশেই মেরে ফেলা হচ্ছে জলজ্যান্ত মানুষকে, অথচ আমাদের এর মধ্যে কো ভ্রুক্ষেপ নেই।কারন ওটা তো আর আমাদের হচ্চেনা। সহপাঠিরা যেখানে ভাইভাই সম্পর্ক স্থাপন করার কথা সেখানে সহপাঠিকে ফেলে দেওয়া হচ্ছে ছয়তলার ছাদ থেকে সুধু তাই নয় নিচে নেমে আবার অর্ধমৃত দেহটির উপর চালানো হচ্ছে তান্ডব।(জাহাংগীরনগর এর ঘটনা)।গনপিটুনিতে মেরে ফেলা হচ্ছে কাউকে যদি সন্দেহ করা হয় তাহলেই। জানার কোন উপায় নেই আসলেই সে সন্ত্রাসী কিংবা ডাকাত নাকি। কখনো কখনো সামান্য কাপর কিংবা খাবার চুরি করার জন্য মেরে ফেলা হচ্ছে কাউকে। আমরা বলি ওরাতো মানুষ না মেড়ে ফেললেই কি যায় আসে। মৃত শরীরের উপর অথবা কখনো কখনো জীবত মানুষটির মৃত দেহে ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে আগুন এবং যন্ত্রনায় কাতর মানুষটির চারপাশে বয়ে যাচ্ছে আনন্দের বন্যা। এযেন মহা কোন বিজয়ের দৃশ্য। সবার মুখে হাসি, বিজয়ের হাসি। ঠিক যতটা কষ্ট সহ্য করে এর মানুষটির মৃত্য হচ্ছে ঠিক ততটারি যেন আনন্দ সকলকে করতে হবে। এ খেলার যে এই নিয়ম।

ঠিক এক সপ্তাহ আগে এভাবেই খুন করা হ্ল আমাদের ছয় জন ভবিষ্যতকে। অনেকেই হয়ত বলতে পারেন যে এখানে গ্রামবাসির কি দোষ ছিল তারা তো এদের ডাকাত মনে করেছিল। শুধু মনে করার উপর ভিত্তি করে আমরা ছয় জন মানুষকে খুন করতে পারি । আর আমরা সবাই দেখেছি ওরা সবাই ছাত্র জানার পর ও সবার মাঝে সেই বিজয়ের হাসি, তাদের মধ্যে কোন অনুশুচনা নেই। যেন ভুল হলেই কি , খুন করতে পেরেছি এটিই সবচেয়ে আনন্দের ব্যাপার। এখন উৎসব কর।

আর সর্বশেষ একুশে টিভিতে প্রচারিত নাসির বাহিনির তান্ডব। সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে হত্যা করছে সাতজন মানুষকে। আর সবাই মিলে মজা দেখছে। হাসছে তামাসা করছে মোবাইল দিয়ে ভিডিও করছে। এ যেন এক আনন্দ ময় খেলা। কয়েকশত বছর আগে হলে এদের হয়তবা দেখাযেত মৃত লাশ দিয়ে বারবিকিউ করে তার চারপাশে ঘুরে ঘুরে সবাই গান করছে।

পশুরা বুঝতে পারেনা, তাই তাদের পাশে যখন কখনো তাদের কোন সহজাতিকে মারা হয় তখন তাদের মাঝে কোন অনুভুতি থাকেনা। কিন্তু মানুষ তো এমন না, তারাতো বুঝতে পারে, তারা বুঝতে পেরেও তারা সেই লাশের পাশে বসে আনন্দ উৎসব করে। তাহলে মানুষ আর পশুর মধ্যে ভাল পার্থক্য তো দূরে থাকূক মানুষ পশুর চাইতে অধমে পরিনত হয়। আর আমরা যারা নিজেদের শিক্ষিত জাতি হিসেবে দাবি করি, সচেতন নাগরিক সমাজ বলে মনে করি, আমরা যদি এই গর্হিত কাজের বিরুদ্ধে রুখে না দাড়াই তাহলে আমাদের সাথে ঐ মানুষরুপী পশু গুলোর মধ্যে পার্থক্য খুবকমই থাকবে।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×