somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গেম রিভিউ: জেমস বন্ড ০০৭: ব্লাড স্টোন

৩১ শে জুলাই, ২০১১ রাত ৮:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অ্যাকশন-থ্রিলার-অ্যাডভেঞ্চার ভক্তরা জেমস বন্ড মুভির নামে মাতোয়ারা। তাঁদের মধ্যে যারা ভিডিও গেমের ভক্ত তাঁরাও বন্ড-এর সঙ্গে মিলে রোমাঞ্চকর বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিতে পারবেন জেমস বন্ড সিরিজের নতুন গেম ব্লাড স্টোনের সুবাদে।



কথায় আছে: ফার্স্ট ইমপ্রেশন ইজ দ্য লাস্ট ইমপ্রেশন। বিজার ক্রিয়েশনস-এর তৈরি এই থার্ড পারসন শ্যুটার গেমটির প্রথম ইমপ্রেশনই গেমারদের মনে গেমটির প্রতি আকর্ষণের সৃষ্টি করবে। যদিও মাঝে মাঝেই একঘেয়ে কিছু মুহূর্তের সৃষ্টি হবে তারপরও এ গেমটি মোটের ওপর গেমার আকর্ষণ ধরে রাখতে সক্ষম।

গেমটির শুরু হয় জি২০ শীর্ষ সম্মেলন বাতিল করার চক্রান্তে লিপ্ত এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর পিছু ধাওয়া দিয়ে শুরু করে। এরই মধ্যে শুরু হয় ষড়যন্ত্র আর পাল্টা ষড়যন্ত্র। আর এই ষড়যন্ত্রের জালে জড়িয়ে জেমস বন্ডকে ঘুরে বেড়াতে হয় এক দেশ থেকে আরেক দেশে। সংঘর্ষে লিপ্ত হতে হয় মার্কামারা সব অপরাধী আর অন্ধকার জগতে অধিবাসীদের সঙ্গে। ঘটনার ঘনঘটা এতটাই জমজমাট আর অনিশ্চিত যে এক মুহূর্তে জেমস বন্ড হিসেবে গেমার নিজেকে আবিষ্কার করবেন মোনাকোর রাস্তায় অপরাধীদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তো পর মুহূর্তেই দ্রুতগতির অ্যাস্টন মার্টিন গাড়ি হাঁকিয়ে তাকে চলে যেতে হবে সাইবেরিয়ায়, জমাট বরফের নদীর ওপর দিয়ে শত্রুর পিছু ধাওয়া করতে করতে। আসল বন্ড ড্যানিয়েল ক্রেইগ এবং অভিনেত্রী জুডি ডেঞ্চ-এর স্বকণ্ঠ গেমে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে। গেম চলাকালীন সময়ে একের পর এক স্বল্পায়তন কাহিনী নির্ভর সিনের কল্যাণে গেমার গেমের পটভূমির সঙ্গে নিজেকে একাত্ম রাখতে পারেন অনায়াসে।




ব্লাড স্টোন গেমকে নির্দিষ্ট কোনও ঘরানা বা জেনারের অংশভুক্ত করা যাবে না, বরং বিভিন্ন ঘরানার একটি সংমিশ্রণ ঘটনোর চেষ্টাই এখানে করা হয়েছে, আর তাতে প্রচুর সফলতাও এসেছে। তবে গেমে বন্ড যেসব গ্যাজেট ব্যবহার করে তার মধ্যে কিছু দুর্বলতা আছে। উদাহরণস্বরূপ, বন্ডের হাতে একটি শক্তিশালী স্মার্টফোন আছে যেটির সাহায্যে পরিপার্শ্বকে স্ক্যান করে হার্ড ড্রাইভ ক্লোন করা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সিস্টেম হ্যাক করা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করার মত বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়া যায়। তবে খেলতে গিযে দেখা যায় এগুলো বেশি কাজে আসে না। গেমে ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্রের সাউন্ড ইফেক্ট এককথায় জবরদস্ত। শুনতে একেবারে বাস্তব সম্মত। তবে বৈচিত্র্যের অভাব আছে শত্রুদের চরিত্র চিত্রণে এবং অ্যানিমেশনে।



টুকটাক এটা সেটা সীমাবদ্ধতা থাকলেও গেমটির একটি বড় আকর্ষণ হচ্ছে হাতাহাতি যুদ্ধ এবং এতে ব্যবহৃত অস্ত্রের বৈচিত্র্য এবং শক্তিমত্তা। আপনার কয়েক ফুটের মধ্যে অবস্থানরত যে কোনও শত্রু একবার মাত্র বাটন দাবিয়ে মুহূর্তের মধ্যে কচুকাটা করতে পারেন। শত্রুর ঘাড়ে কারাতের কোপ মারা বা এক লাথিতে তাকে অকেজো করে দেয়া কোনও ব্যাপারই না। এভাবে শত্রু ঘায়েল করে আপনি অর্জন করতে পারে ‘ফোকাস কিল’ পয়েন্ট। এছাড়া কিছু রহস্য সমাধান করতে হয কিছু লেভেল এ, সেগুলোও কম উপভোগ্য নয়। তার পাশাপামি স্টেলথ টেকনিক এর সঠিক ও উপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে আপনি গেম খেলবার মজা অনেকখানি বাড়িয়ে নিতে পারবেন।

থার্ড পারসন এই গেমটি আশা করি আপনাদের, বিশেষ করে থ্রিলার-একশন পছন্দ করা বন্ড ভক্তদের মনে ধরবে।

গেমটি খেলতে যা লাগবে :
অপারেটিং সিস্টেম: উইন্ডোজ এক্সপি, ভিস্তা, সেভেন।
সিপিইউ: ইন্টেল কোর২ডুয়ো, ২.০ গিগাহার্টজ
র‌্যাম: ১ গিগাবাইট এক্সপি, ২ গিগাবাইট ভিস্তা/৭
হার্ড ডিস্ক: ১২ গিগাবাইট ফ্রি ডিস্ক স্পেস
গ্রাফিক্স: ২৫৬ মেগাবাইট গ্রাফিক্স মেমোরি
ভিডিও কার্ড: রেডিয়ন ৯৬০০/জিফোর্সএএক্স
সাউন্ড কার্ড: ডিরেক্টএক্স কমপ্লায়েন্ট
ডিরেক্টএক্স: ডিরেক্টএক্স ৯.০সি


আমি একটা ব্লগ টাইপ সাইট ডেভলপ করছি। পাবলিক ব্লগ না, ব্যক্তিগত ব্লগ। সেখানে নিয়মিত মুভি রিভিউ, ই রিভিউ, পিসি গেম রিভিউ সহ টুকটাক লেখারিখি পাবলিশ করি আমি। একবার দেখবেন নাকি?

আমার সাইটটার একটা ফেবু পেজও আছে। সাইটটি ভাল লাগলে, এবং প্রতিদিন নিয়মিত পোস্ট আপডেট পেতে আগ্রহ বোধ করলে একটা লাইক দিন প্লিজ


সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে জুলাই, ২০১১ রাত ৮:২৯
১১টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামিলীগ আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫



চাঁদগাজী বলেছিলেন,
"যেসব মানুষের ভাবনায় লজিক ও এনালাইটিক্যাল জ্ঞান না থাকে, তারা চারিপাশের বিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে না, কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সমাজে তাদের অবদান... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×