প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু কাহিনী আছে যা তাদের জীবনকে নাড়া দেয়।আমার জীবন এর সেই কাহিনীগুলো আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করতে চাচ্ছি।
অত্যন্ত ছোট বেলার কথা বয়স কত আর হবে চার কি পাঁচ । আমি পুকুর ঘাটে দাড়িয়ে আছি । আমার অন্যান্য আপুরা গোসল করছে । আমি তাদের সাথে গোসল করার জন্য পুকুরে নামলাম।
তারা বিভিন্নভাবে সাতার দিচ্ছে আমিও তাদের সাথে সাতার দেয়ার চেষ্টা করছি। কিছুক্ষন তাদের সাথে সাতার কাটার পর তারা আমাকে পুকুর ঘাটে দাড়া করিয়ে পুকুরের মাঝখানে চলে যাচ্ছিল।আমি পিছন
থেকে তাদের মত সাতার দেয়ার চেষ্টা করলাম। যেহেতু আমি সাতার জানি না,তাই অল্প পানিতেই হাবু ঢুবু খেতে লাগলাম।আমি আপ্রাণ চেষ্টা করছি পানির হাত থেকে বাচার জন্য কিন্তু যতই চেষ্টা করছি ততই পানির দিকে
এগিয়ে যাচ্ছি। আর আমার আপুরা তারা তো আর পিছন দিকে তাকাচ্ছে না। ফলে মৃত্যু ছিল একেবারে অবধারিত। আল্লাহর কি রহমত? আমার এক বোন যে তখন কথাও ঠিকভাবে বলতে জানে না, সে আমাকে এ অবস্থায় দেখে বলতে লাগল
"জারগই জারগই"(নোয়াখালী বাসায়) মানে চলে যাচ্ছে,চলে যাচ্ছে। মানে সে বুঝাতে চাচ্ছিল আমি পানির দিকে চলে যাচ্ছি।তখন আমার আম্মু ব্যস্ত ছিলেন ঢেকিতে চাল ভাঙ্গানো নিয়ে। তিনি এ কথা শুনে চলে আসলেন পুকুরের কাছে । আমাকে তিনি
এ অবস্থায় দেখে আমাকে পানি থেকে উঠালেন।তখন আমার জীবন যায় যায় অবস্থা। পেটে চাপ দিয়ে শেষ পর্যন্ত পানি বের করা হলো। হতে পারত সেই দিনটি আমার জীবনের শেষদিন কিন্তু মহান প্রভুর একান্ত মেহেরবানীতে আমি সেই দিনের মত বেচে যাই।
সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার একান্ত প্রার্থনা,
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



