somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ঘনঘোর কুয়াশাসময়...

০৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৬ বিকাল ৩:২৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম প্রথম এরকম হয়। দেখা গেলো পুরোটা সকাল, দুপুর জুড়ে ঝিক ঝিক শব্দে তাল মিলিয়ে তুমি বিভিন্ন শেডের সবুজ দেখলে শুধু, এরপর গরম সিদ্ধ ডিমের ঝুরি নিয়ে অনেক গম্ভীর জলে ভেসে থাকা লঞ্চগুলিতে নাতিকিশোর অলিভার টুইস্টদের দেখলে অনায়াসে রাবার বলের মতো লাফিয়ে যেতে, তারপর অনেক নতুন সাইনবোর্ড দেখার সুযোগ হলো ঝিমিয়ে পড়া দিনের শেষ সময়টুকুতে। খুব চাপামতো একটা জায়গায় পড়ে থেকে বিকট হর্ণের আওয়াজের ফাঁকে ফাঁকে ইটের ভাটা থেকে দৌড়ে আসা বাতাসগুলোকে কান আর চুলের ভাঁজ দিয়ে অনবরত বাইপাস দিলেও দেখবে পোস্টার লাগানো মাইলপোস্ট আর গোলড লিফ মার্কা দোকান শেষই হচ্ছেনা যেন। প্রায় সন্ধ্যা নামলে দেখবে সবুজ ফিকে হতে হতে নিয়ন সাইনের মাথায় রঙিন বাতি জ্বলে উঠতে শুরু করেছে। তার মানে - তুমি শেষমেষ ঢাকা পৌঁছে গেছো।

এরকম সাদামাটা শুরুটাই অ্যাপ্রুভ করে নিলেও উত্তেজনার অভাব হয়না কিন্তু। তারপর দেখো কি হলো... অনেক বিকট দর্শন ট্রাক বাসের তাড়া খেয়ে অনেক ঘোরা পথে, অলি-গলি হয়ে একটা তেপেয়ে যানের নতুন রিদম শুনতে শুনতে তুমি যেখানে পৌঁছলে সেখানে নরম শব্দ করে অনেক লাল, নীল, পীতাভ, সিলভার, সাদা রঙের কার তোমাকে ছুঁয়ে ছুঁয়ে উড়ে যাবে। রাতের অস্পষ্ট গুঞ্জনের সময় যেখানে একটা আধা ময়লা বিছানায় চিকন হয়ে মুখ গোঁজার সুযোগ হবে, সেটা একটা মেস। কতক ভাগ্য বিড়ম্বিত, কতক ভাগ্যনির্মাণপ্রয়াসী প্রাণী পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে এক অপরিচিত বুয়ার রান্না করা তরল ঝোলের গন্ধে এখানে একত্র হয়। দেখা গেলো দূর্ঘনাক্রমে কখনো একটা মাংসল মাছের টুকরা জুটলে ইলেকট্রিসিটি চলে গেলো তিন ঘন্টার জন্য। কিংবা অন্ধকারের আশির্বাদে তুমি আরো খানিক সুবিধা হাতড়ে নিলে হয়তো।

তবে গল্পের শুরু হতে হতে ঢাকা শহরের প্রথম সূর্যোদয় অতীত হয়। অন্ধকার রাতের মিউটেড ভলিউম আস্তে আস্তে বাড়তে থাকলে মেসের প্রাণীগুলি প্যান্ট-শার্ট ইন করে কেউ অফিস, কেউ ভার্সিটি, কেউবা একটা ভঙ্গুর চাকুরির আশায় অনেক গহীন পুরনো কোন আত্মীয় খুঁজতে বেরিয়ে পড়ে। মিউটেড সাউন্ড থেকে থেকে বাড়তে কমতে থাকলেও সূর্যের আঁচ বেড়ে ওঠার খানিক আগেই একদলা মৌমাছির গুঞ্জন হঠাৎ বেড়ে ওঠে। তখন দেখবে কোন অদ্ভুত সুন্দর চলচ্চিত্র দেখার স্বাদ পাচ্ছো যেন তুমি। কিংবা এর চেয়েও অদ্ভুত সুন্দর কিছু যখন এক দঙ্গল মাতাল হঠাৎ বাড়িতে ঢুকে খুব মোটা জাজিমগুলো ছুড়ে ফেলে রাস্তা নরম করে দেবে, প্রায় প্রতিটি আসবাব পা হারাতে থাকবে, একটু মাথা নিচু করে রাখলে মেঝেতে আছড়ে পড়া পোর্টেটের ঝনঝনের ছন্দটাও টের পাবে, তখন বিরাট বার্বিডলের নরম পাদুটো বুকে আঁকড়ে ভিকারুন্নেসার প্রথম শ্রেনীর প্রথম ছাত্রীটিকে দেখবে ভয়ে থরথর কাঁপছে, আর নরম পাগুলো মা-কে খুঁজে ফিরছে দারুণ। আহা, তখন সূর্যের চনমন করে ওঠা রোদ্রে দাঁড়িয়ে অনেক জানালা, বারান্দা, কার্নিশ, দরজায় দাঁড়ানো কৌতুহলী মুখ, অফিসমুখী বাবা বা স্কুলফেরত মেয়ের অবাক চাহনির ভাষা রপ্ত করতে ব্যস্তহয়ে পড়লে একটি স্বচ্ছল, সম্ভ্রান্ত, সবুজ ফ্যামিলির নীল অধ্যায় শেষ হয়।

[খুব টায়ার্ড লাগছে। বাকিটুকু পরে..]
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১:৫৩
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×