জিয়ার নাম বাদ দিতে সিভিল এভিয়েশন অথরিটি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের ব্যয় হবে কমপক্ষে অর্ধশত কোটি টাকা। নাম বদলের রাজনীতির আবর্তে অতীতে বহু প্রতিষ্ঠান ও স্খাপনার নাম পাল্টানো হয়েছে। সেগুলোর ক্ষেত্রে নামফলক বা প্রতিচ্ছবি বদলে দিলেই পরিবর্তন সম্ভব হলেও জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরকে হজরত শাহ্জালাল র: বিমানবন্দরে রূপান্তরের বিষয়টি সহজ কিছু নয়। দেশের প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাত এ বিমান বন্দর গোটা বিশ্বের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষাকারী বৃহৎ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় শুধু নামফলক পরিবর্তনের মধ্য দিয়েই এই পরিবর্তন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সংস্খার তথ্য অনুযায়ী ডকুমেন্টেশন ছাড়াও ১৭৮টি সেগমেন্টে এই পরিবর্তন আনতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও সময় সাপেক্ষ। তাদের ধারণা অনুযায়ী টোটাল সিস্টেম আপগ্রেড করতে কমপক্ষে ছয় মাস সময় লাগবে।
এ ব্যাপারে জিয়া বিমানবন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার শাহিদুর রহমান জানান, আমরা ইতোমধ্যেই নাম পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছি। মন্ত্রণালয়ের লিখিত নির্দেশ এলেই বেসিক কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, বিমানবন্দর যেহেতু একটি বৃহৎ সংস্খা সেহেতু ডকুমেন্টেশনের বিশাল কাজ সামনে রয়েছে।
এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশন অথরটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, শুধু একটি নাম পরিবর্তনের জন্য সিভিল এভিয়েশন ও বিমানের প্রাথমিক ব্যয় হবে ৫০ কোটি টাকারও বেশি। তিনি বলেন, যারা এই নাম পরিবর্তনের নেপথ্যে কাজ করেছেন তাদের অনেকেই হয়তো জানেন না ‘কারো ইচ্ছা’ পূরণের জন্য তারা একটি স্পর্শকাতর প্রতিষ্ঠানকে কতটা ঝক্কি-ঝামেলার মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। এর বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে চলে আসা ডকুমেন্টেশনের সব ফরমেট পাল্টে ফেলতে হবে। একই সাথে পাল্টাতে হবে সব ইন্টারনাল ও ইন্টারন্যাশনাল সফটওয়্যার সিস্টেম, যা বেশ সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।
ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন, ঢাকায় ফ্লাইট পরিচালনাকারী সব এয়ারলাইন্স ও বিদেশী বন্দরগুলোর সাথে যোগাযোগ স্খাপনের মাধ্যমে তাদের সফ্টওয়্যারে স্খাপিত এয়ারপোর্টের নামটি প্রতিস্খাপন করতে হবে। এ ছাড়াও কন্ট্রোল টাওয়ারের ম্যানুয়েল, সিগনাল সিস্টেম ও ম্যাপিংয়েও নামের পরিবর্তন আনতে হবে।
অপর দিকে অভ্যন্তরীণভাবেও ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। যেমন, স্টাফ পাস, আইডি কার্ড, সিকিউরিটি কার্ড ইত্যাদিতেও নামের পরিবর্তন আনতে হবে। এ ব্যাপারে বিমানবন্দরে দায়িত্বরত একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ১৯৮১ সালে কুর্মিটোলা বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তন হয়ে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়েছে। তখন স্বল্প পরিসরের বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন ততটা কঠিন না হলেও এখন এই বিমানবন্দরের কার্যক্রমের ব্যাপকতা অনেক বেড়েছে। এখন এটির নাম শাহ্জালাল বিমানবন্দর হচ্ছে। পাঁচ বছর পরে হয়তো আবারো এই নাম পরিবর্তনের তাগিদ অনুভব করবে কেউ। এই রদবদল শুধু সরকারের ব্যয় বৃদ্ধি নয়, বিদেশীদের কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে যথেষ্ট।
তৌহিদুল ইসলাম ও মনির হোসেন
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


