তখন আমি প্রতি বিকেলে রেল লাইনের উপর বসে পাখি দেখতাম...
হঠাৎ কেঊ পাখির জায়গা টা কেড়ে নিল...
জানতাম না মেয়েটির নাম কি ছিল...তবে মেয়েটি রেল লাইনের পাশের এক নির্জন গ্রামে থাকত...
তার ছিল অবাধ্য লম্বা চুল...মাঝে মাঝে সে বুনোলতা দিয়ে খোপা বেধে রাখতো..
তার নাক ফুলে দামি কোন পাথর ছিল না..ছিল শলার নথ..আর ডাগর ডাগর চোখে লাগিয়ে রাখত পোড়া মাটির কালি..
সে জানতো না সে কত সুন্দর..।..সে জানতো না তার অই শ্যামা কৃষ্ণ চেহারায় জোছনা বেয়ে পড়ত..
তার অধর দুটিতে ছিল পুরানো রামের স্বাদ...তার গায়ে ছিল পাড় মাতাল করা যৌবনের ঘ্রাণ..
কলি থেকে প্রস্ফুটিত ফুলের মত দেহ সৌষ্ঠবে ছিল অবাধ্য যৌবন..
রোববারের হাট থেকে কেনা তাতের শাড়িটির সাধ্যে কুলাতোনা তার দেহ কে মুড়ে রাখার...
তার নগ্ন আকাবাকা কোমরে থাকতো বকুল ফুলের পিছা..
সস্তা আলতা রাঙা পায়ে থাকত রুপার নুপুর..
তার হাসির ছিল দুর্বোদ্ধ ভাষা..আর হীরের মত উজ্জলতা ...
রেল লাইনের উপর দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় তার নুপুর আওয়াজ তুলতো ..
আমি কান পেতে তা শুনতাম..
আমি বসে বসে তার নাটক দেখতাম...রেল লাইন ছিল সেই নাটকের মঞ্চ...
কোন কথপোকথন ছিল না...ছিল দৃষ্টি বিনিময় ...
অত:পর .....
তার আর আমার বিদায়ের দিনে খুব বৃষ্টি হচ্ছিল...আমি ট্রেনের জানালার পাশে বসে ছিলাম...সে একটু তফাতে দাড়িয়ে কাঁদছিল..
আমি কিন্তু ঠিক ই বৃষ্টি আর তার চোখের জল আলাদা করতে পেরেছিলাম..
হ্যা জীবনানন্দ দাশের হয়তবা বনলতা আছে...কিন্তু আমার ছিনাল ললনা লীলাফুল ছিল অনবদ্য....
হয়তো কোন কবিতার বইয়ে তার জায়গা হবে না।।।
কিন্তু আমার পুরোটা জুড়ে সে একাকার হয়ে থাকবো...
হয়তো কখনো কথা হয়নি...তার নাম টা জানা হয়নি...
কিন্তু আমাদের মাঝে যে নির্বাক চলচ্চিত্রের চিত্রায়ন হয়েছিল ..যার পরিচালক ছিলেন স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা...তা আসলেই অমর এবং অসমাপ্ত ...
হ্যা লীলা আমি আসবো আবার কোন এক রাতের ট্রেনে...তারপর দুজনে মিলে জোসনায় স্নান করবো সেই কৃষ্ণচূড়ার নিচে....পুরো মহাভারতে রটিয়ে দিবো তুমি আমার তুমি আমার...
তাই জয় আমার বোবা ভালোবাসার জয়. ..

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



