একদিন আমরা কয়েকজন বন্ধু হোটেলে বসেছি দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার জন্য। প্রচন্ড ক্ষুধা!(আম্মাআআ) ভাত আর গরুর গোশত খাবো। শালা ওয়েটার টাইম ও অনেক নিলো সেইদিন! যাইহোক, অতঃপর সাদা ধবধবে ভাত আর গোশত এলো! ব্যাটা আবার দেরীর জন্য দু'টো এক্সট্রা কাঁচামরিচ দিয়ে দুখঃ প্রকাশ করলো। (শালা)
ক্ষুধার্ত বাঘের মতো লাগছিলো নিজেকে, ভাতের সাথে ঝোল মাখায় খাওয়া শুরু করলাম, কাচামরিচ ডইলে। গোশত পরে খাবো। জিহবা দিয়া লালা ঝরতাছে আমার! আহ্ ঝাল! তারপর গোশতের টুকরাটা হাতে নিয়া একটু চাটলাম; আহ্ এই সুগন্ধের জন্য হাজার বছরের প্রতীক্ষাও সই। দিলাম এক রাম কামড়!
আমার লাইফের ট্র্যাজেডি আবার ভর করলো। এইটা গোশত ন চর্বি! ক্ষোভ আর ক্ষুধায় দিলা আরো জোরে এক চাবানি। বন্ধু সুমন (কাল্পনিক) বললঃ ছাড়ি দে এহসান! রাখ রাখ, করতাছস কি?
তারপর? দুষ্টূদ্ধির জয় সবসময়। চর্বি তো, তাই একটু পানি ঢাল্লাম, আগের মতো হয়ে গেলো। ব্যস, ওয়েটার, শ্লা ...কির পোলা, এইডা কি দিছো, যাও বদলায় আনো! বদলায় আসলো, আমিও দুষ্টুবুদ্ধির জয়ে জয়ী বেশে খেতে থাকলাম।
আমরা ভাত মুখে জুলু জুলু চোখে তাকায় থাকলাম। এহসান ভাই ও বুঝলো। একটুকরো গোশ কোৎ করে গিলে বলতে থাকলোঃ তারপর আর কি...এক সিনিয়ার বসলো সামনের টেবিলে। তাকে ঠিক সেই টুকরো দেয়া হলো, আর সেও চাকুম-চুকুম করে চাবাতে থাকলো। আমি অবাক, বিস্ময়, সহানূভুতি আর করুনার চোখে তার দিকে চাইতেই তিনি বল্লেনঃ (ইতস্ততঃ হেসে) অনেক ইলাস্টিসিটি!!!
আমরা হাসার চে' ঐ না দেখা সিনিয়ারের জন্য বেদনা ও আইরনি ফিল করতে খাকলাম। এহসান ভাইয়ের শেষ কথা, এরপর থেকে হোটেলের গরুর গোশত হাতায় দেখি, তারপর মুখে।
আমরাও দলে দলে হাত ধুতে গেলাম খাওয়া শেষ করে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


