somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শোনা কথা

১০ ই জানুয়ারি, ২০০৭ বিকাল ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অফিসের কয়েকজন মিল্যা খাইতে বসছিলাম, মেনুঃ গরুর গোশত আর ভাত। সবাই নিশ্চুপ, কত কত চাবানোর শব্দ ছাড়া আর কিছু নাই। এর মাঝে এহসান ভাই তার থালা নিয়া বসলো। তিনি অফিসের সি.ই.ও, কিন্তু ভাবে আমগো'র ও নিম্নপদস্থ (বেশ পছন্দ করি তাকে)। তা এইরকম অবস্থা দেকে সে বলতে শুরু করলো......

একদিন আমরা কয়েকজন বন্ধু হোটেলে বসেছি দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার জন্য। প্রচন্ড ক্ষুধা!(আম্মাআআ) ভাত আর গরুর গোশত খাবো। শালা ওয়েটার টাইম ও অনেক নিলো সেইদিন! যাইহোক, অতঃপর সাদা ধবধবে ভাত আর গোশত এলো! ব্যাটা আবার দেরীর জন্য দু'টো এক্সট্রা কাঁচামরিচ দিয়ে দুখঃ প্রকাশ করলো। (শালা)

ক্ষুধার্ত বাঘের মতো লাগছিলো নিজেকে, ভাতের সাথে ঝোল মাখায় খাওয়া শুরু করলাম, কাচামরিচ ডইলে। গোশত পরে খাবো। জিহবা দিয়া লালা ঝরতাছে আমার! আহ্ ঝাল! তারপর গোশতের টুকরাটা হাতে নিয়া একটু চাটলাম; আহ্ এই সুগন্ধের জন্য হাজার বছরের প্রতীক্ষাও সই। দিলাম এক রাম কামড়!

আমার লাইফের ট্র্যাজেডি আবার ভর করলো। এইটা গোশত ন চর্বি! ক্ষোভ আর ক্ষুধায় দিলা আরো জোরে এক চাবানি। বন্ধু সুমন (কাল্পনিক) বললঃ ছাড়ি দে এহসান! রাখ রাখ, করতাছস কি?

তারপর? দুষ্টূদ্ধির জয় সবসময়। চর্বি তো, তাই একটু পানি ঢাল্লাম, আগের মতো হয়ে গেলো। ব্যস, ওয়েটার, শ্লা ...কির পোলা, এইডা কি দিছো, যাও বদলায় আনো! বদলায় আসলো, আমিও দুষ্টুবুদ্ধির জয়ে জয়ী বেশে খেতে থাকলাম।

আমরা ভাত মুখে জুলু জুলু চোখে তাকায় থাকলাম। এহসান ভাই ও বুঝলো। একটুকরো গোশ কোৎ করে গিলে বলতে থাকলোঃ তারপর আর কি...এক সিনিয়ার বসলো সামনের টেবিলে। তাকে ঠিক সেই টুকরো দেয়া হলো, আর সেও চাকুম-চুকুম করে চাবাতে থাকলো। আমি অবাক, বিস্ময়, সহানূভুতি আর করুনার চোখে তার দিকে চাইতেই তিনি বল্লেনঃ (ইতস্ততঃ হেসে) অনেক ইলাস্টিসিটি!!!

আমরা হাসার চে' ঐ না দেখা সিনিয়ারের জন্য বেদনা ও আইরনি ফিল করতে খাকলাম। এহসান ভাইয়ের শেষ কথা, এরপর থেকে হোটেলের গরুর গোশত হাতায় দেখি, তারপর মুখে।

আমরাও দলে দলে হাত ধুতে গেলাম খাওয়া শেষ করে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
২৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

লজেঞ্জুষ খাওয়াবে

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৫


বাতাসের নিঃশ্বাস, পিঠ ঠেকে যাচেছ
শহরের ধূলি বালির নর্দমার কাছে;
কখন চিৎকার করে বলে ওঠবে-
দূষিত নিঃশ্বাস তোমরা সরে যাও
তোমরাই স্বার্থপুরের রাক্ষস রাক্ষসী;
সাবধান বাতাসের কোটি নিঃশ্বাসগুলো
লজেঞ্জুষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে-
খুব আদর করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×